ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বনানীর ত্রাস মোল্লা মাসুম এবার ইয়াবাসহ পুবাইলে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / ৫ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:   রাজধানীর বনানী ও মহাখালী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কারবারি আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুমকে (৪৫) বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুরের পুবাইল থানা পুলিশ। গত ৭ মে ইয়াবা বিক্রির সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ টাকাও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুবাইল থানা পুলিশ আগে থেকেই অবস্থান গ্রহণ করেছিল। মোল্লা মাসুম ইয়াবা বিক্রি করতে এলে তাকে ৬৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা মাদক ক্রেতাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মাসুমের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বৈশাখী টেলিভিশনের পাশের গলিতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল এই মাসুম। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত মাসুম তিন-চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে বীরদর্পে পালিয়ে যাচ্ছে। ওই ভিডিওচিত্র সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, মাসুম কন্ট্রাক্টে এধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। সে একজন পেশাদার অপরাধী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখী টেলিভিশনের পুরাতন মালামাল বিক্রির একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ওই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। মালামাল ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল মাসুম ও তার সহযোগীরা। মালামাল ট্রাকে লোড করার সময় বাধা দিতেই সে ওই রাতে গুলিবর্ষণ করে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ওয়্যারলেস গেট এলাকায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে কলম্বিয়া সুপার মার্কেটের ‘জয় প্রসাধনী’র মালিক স্বপন রায়কে ‘মব’ সৃষ্টি করে গণপিটুনির মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মহাখালী বিটিসিএল কলোনিতে বেড়ে ওঠা কুমিল্লার ছেলে মাসুম বনানী-গুলশান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও দীর্ঘদিন ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, বনানী থানা পুলিশের কথিত সোর্স শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘ফর্মা শহীদ’ মাসুমের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত মাসেও তাঁকে বনানীর ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে আলাপচারিতা করতে দেখা গেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সেনাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালালেও সে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ২০১৮ সালে দুটি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ র‍্যাব-১ এর হাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।
পুবাইল থানার একজন কর্মকর্তা জানান, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাসুমের অতীত অপরাধের রেকর্ডগুলো খতিয়ে দেখে এবং বিভিন্ন থানার মামলা পর্যালোচনা করে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বনানীর ত্রাস মোল্লা মাসুম এবার ইয়াবাসহ পুবাইলে গ্রেপ্তার

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:   রাজধানীর বনানী ও মহাখালী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কারবারি আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুমকে (৪৫) বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুরের পুবাইল থানা পুলিশ। গত ৭ মে ইয়াবা বিক্রির সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ টাকাও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুবাইল থানা পুলিশ আগে থেকেই অবস্থান গ্রহণ করেছিল। মোল্লা মাসুম ইয়াবা বিক্রি করতে এলে তাকে ৬৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা মাদক ক্রেতাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মাসুমের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বৈশাখী টেলিভিশনের পাশের গলিতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল এই মাসুম। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত মাসুম তিন-চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে বীরদর্পে পালিয়ে যাচ্ছে। ওই ভিডিওচিত্র সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, মাসুম কন্ট্রাক্টে এধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। সে একজন পেশাদার অপরাধী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখী টেলিভিশনের পুরাতন মালামাল বিক্রির একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ওই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। মালামাল ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল মাসুম ও তার সহযোগীরা। মালামাল ট্রাকে লোড করার সময় বাধা দিতেই সে ওই রাতে গুলিবর্ষণ করে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ওয়্যারলেস গেট এলাকায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে কলম্বিয়া সুপার মার্কেটের ‘জয় প্রসাধনী’র মালিক স্বপন রায়কে ‘মব’ সৃষ্টি করে গণপিটুনির মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মহাখালী বিটিসিএল কলোনিতে বেড়ে ওঠা কুমিল্লার ছেলে মাসুম বনানী-গুলশান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও দীর্ঘদিন ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, বনানী থানা পুলিশের কথিত সোর্স শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘ফর্মা শহীদ’ মাসুমের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত মাসেও তাঁকে বনানীর ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে আলাপচারিতা করতে দেখা গেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সেনাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালালেও সে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ২০১৮ সালে দুটি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ র‍্যাব-১ এর হাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।
পুবাইল থানার একজন কর্মকর্তা জানান, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাসুমের অতীত অপরাধের রেকর্ডগুলো খতিয়ে দেখে এবং বিভিন্ন থানার মামলা পর্যালোচনা করে চার্জশিট দাখিল করা হবে।