ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

গৌরীপুরে পুলিশের নাকের ডগায় চলছে চোলাই মদের কারবার, অভিযানেও থামছে না ব্যবসা

হলি সিয়াম শ্রাবণ, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্য ভালুকা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানেও থামছে না ঋষিপল্লীর চোলাই মদের ব্যবসা। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকার মদ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে এসে ফের জড়িয়ে পড়ে এ ব্যবসায়। এভাবে পুলিশের নাকের ডগায় যুগের পর যুগ ধরে চলছে ঋষিপল্লীর চোলাই মদের ব্যবসা।

গৌরীপুর থানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এই এলাকায় কারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয় লোকজন।

মধ্য ভালুকা ব্রিজসংলগ্ন ঋষিপল্লীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই পল্লীর ফুলকুমারী নামে এক নারী রান্নার চুলায় আগুন দিয়ে হাঁড়ি/পাতিল বসিয়ে চোলাই মদ তৈরি করছেন। হঠাৎ সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে চোলাই মদ তৈরির উপকরণ সরিয়ে ফেলে।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এখানে মদ কিনতে আসেন। কেউ কেউ সেখানেই বসে পান করেন। মীনা, সবিতা ও ফুলকুমারীসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ এই কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

তাঁরা জানান, ২০২৫ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৪ লিটার চোলাই মদ ও প্রায় ২২০ লিটার মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়। মদ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছিল। আদালত থেকে জামিনে এসে ফের মাদক ব্যবসা শুরু করে তারা। এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চোলাই মদ ও উপকরণসহ এ পল্লীর মদ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দিয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে স্থানীয় লোকজনের চাপে মদের ব্যবসা সাময়িক বন্ধ থাকলেও ফের চালু করে তারা।

ঘটনাস্থলের কাছেই রয়েছে ভালুকা কাদেরিয়া জামে মসজিদ। থানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এমন কারবারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের একজন বলেন, “নিয়মিত নজরদারি না থাকলে এটা বন্ধ হবে না।”

বাসিন্দাদের দাবি, মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অভিযান শেষে ওই এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “ওখানে একবার গিয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ধরনের কোনো কিছু চলবে না। আবার শুরু করার অভিযোগটি আমরা দেখছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “আমরা বারবার পদক্ষেপ নিয়েছি। শুধু অভিযান নয়, সংশ্লিষ্টদের ডেকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করা হয়েছে। এরপরও যদি আবার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলে সম্মিলিতভাবে একটি বড় অভিযান করা যায় কি না, সেটিও আমরা দেখছি।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক (খ সার্কেল) কানিজ ফাতেমা বেগম বলেন, “ওই এলাকায় আমরা অনেক মামলা করেছি। নিয়মিত অভিযানও চালানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এখন তারা কৌশলও পরিবর্তন করেছে, বাড়িতে মালামাল রাখছে না। কোথায় মালামাল রাখে এবং কোন সময়ে এসব করে, সে বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করছি। তদন্ত করে আবারও অভিযান চালানো হবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

দুপচাঁচিয়ায় ডাকাত দলের দুই সদস্য গ্রেফতার

16 September 2026

নাঙ্গলকোটে মেয়র প্রার্থী আল মামুনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

গৌরীপুরে পুলিশের নাকের ডগায় চলছে চোলাই মদের কারবার, অভিযানেও থামছে না ব্যবসা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০২:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হলি সিয়াম শ্রাবণ, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্য ভালুকা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানেও থামছে না ঋষিপল্লীর চোলাই মদের ব্যবসা। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকার মদ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে এসে ফের জড়িয়ে পড়ে এ ব্যবসায়। এভাবে পুলিশের নাকের ডগায় যুগের পর যুগ ধরে চলছে ঋষিপল্লীর চোলাই মদের ব্যবসা।

গৌরীপুর থানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এই এলাকায় কারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয় লোকজন।

মধ্য ভালুকা ব্রিজসংলগ্ন ঋষিপল্লীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই পল্লীর ফুলকুমারী নামে এক নারী রান্নার চুলায় আগুন দিয়ে হাঁড়ি/পাতিল বসিয়ে চোলাই মদ তৈরি করছেন। হঠাৎ সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে চোলাই মদ তৈরির উপকরণ সরিয়ে ফেলে।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এখানে মদ কিনতে আসেন। কেউ কেউ সেখানেই বসে পান করেন। মীনা, সবিতা ও ফুলকুমারীসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ এই কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

তাঁরা জানান, ২০২৫ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৪ লিটার চোলাই মদ ও প্রায় ২২০ লিটার মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়। মদ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছিল। আদালত থেকে জামিনে এসে ফের মাদক ব্যবসা শুরু করে তারা। এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চোলাই মদ ও উপকরণসহ এ পল্লীর মদ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দিয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে স্থানীয় লোকজনের চাপে মদের ব্যবসা সাময়িক বন্ধ থাকলেও ফের চালু করে তারা।

ঘটনাস্থলের কাছেই রয়েছে ভালুকা কাদেরিয়া জামে মসজিদ। থানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এমন কারবারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের একজন বলেন, “নিয়মিত নজরদারি না থাকলে এটা বন্ধ হবে না।”

বাসিন্দাদের দাবি, মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অভিযান শেষে ওই এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “ওখানে একবার গিয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ধরনের কোনো কিছু চলবে না। আবার শুরু করার অভিযোগটি আমরা দেখছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “আমরা বারবার পদক্ষেপ নিয়েছি। শুধু অভিযান নয়, সংশ্লিষ্টদের ডেকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করা হয়েছে। এরপরও যদি আবার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলে সম্মিলিতভাবে একটি বড় অভিযান করা যায় কি না, সেটিও আমরা দেখছি।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক (খ সার্কেল) কানিজ ফাতেমা বেগম বলেন, “ওই এলাকায় আমরা অনেক মামলা করেছি। নিয়মিত অভিযানও চালানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এখন তারা কৌশলও পরিবর্তন করেছে, বাড়িতে মালামাল রাখছে না। কোথায় মালামাল রাখে এবং কোন সময়ে এসব করে, সে বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করছি। তদন্ত করে আবারও অভিযান চালানো হবে।

Share this news as a Photo Card