ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চারণভূমি হ্রাসে মহিষসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদউপদেষ্টা

হাসান মামুন
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৫০ বার পঠিত
গবাদিপশু পালন জাতীয় প্রোটিন ঘাটতি নিরসন, জীবিকায়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশের চারণভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এতে করে বিশেষ করে মহিষের মতো মূল্যবান প্রাণিসম্পদ চরম হুমকির মুখে পড়ছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) বরিশাল ক্লাবে আয়োজিত “উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সমাধান” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজিইউএস) এবং কোস্টাল ভেট সোসাইটি। ফরিদা আখতার বলেন, “সঠিক নীতিমালা এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এখনো দেশের অনেক চরাঞ্চল রক্ষা করা সম্ভব। মহিষ পালন বাড়াতে পারলে জাতীয়ভাবে মাংস ও দুধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে।” তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহিষের চারণভূমি দ্রুত কমে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি বৃহৎ গরুর বাথান ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য মূল্যবান প্রাণিসম্পদ ধ্বংস করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা প্রশ্নসাপেক্ষ।” তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে ভেটেরিনারি সেবার অভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, “মহিষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য উপকূলীয় এলাকায় স্পিডবোট-ভিত্তিক ভেটেরিনারি ক্লিনিক স্থাপন করা জরুরি।” কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গবাদিপশুর জন্য প্রয়োজনীয় চারণভূমির পরিমাণ হ্রাস এবং পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মহিষসহ অন্যান্য গবাদিপশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং টেকসই চারণভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং, পিকেএসএফ-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, এবং জিজিইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় খামারি ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

চারণভূমি হ্রাসে মহিষসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদউপদেষ্টা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
গবাদিপশু পালন জাতীয় প্রোটিন ঘাটতি নিরসন, জীবিকায়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশের চারণভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এতে করে বিশেষ করে মহিষের মতো মূল্যবান প্রাণিসম্পদ চরম হুমকির মুখে পড়ছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) বরিশাল ক্লাবে আয়োজিত “উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সমাধান” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজিইউএস) এবং কোস্টাল ভেট সোসাইটি। ফরিদা আখতার বলেন, “সঠিক নীতিমালা এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এখনো দেশের অনেক চরাঞ্চল রক্ষা করা সম্ভব। মহিষ পালন বাড়াতে পারলে জাতীয়ভাবে মাংস ও দুধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে।” তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহিষের চারণভূমি দ্রুত কমে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি বৃহৎ গরুর বাথান ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য মূল্যবান প্রাণিসম্পদ ধ্বংস করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা প্রশ্নসাপেক্ষ।” তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে ভেটেরিনারি সেবার অভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, “মহিষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য উপকূলীয় এলাকায় স্পিডবোট-ভিত্তিক ভেটেরিনারি ক্লিনিক স্থাপন করা জরুরি।” কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গবাদিপশুর জন্য প্রয়োজনীয় চারণভূমির পরিমাণ হ্রাস এবং পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মহিষসহ অন্যান্য গবাদিপশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং টেকসই চারণভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং, পিকেএসএফ-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, এবং জিজিইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় খামারি ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।