অপু দাস, রাজশাহী: প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ নগরী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে রাজশাহীতে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহীর সমন্বিত উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা সংলগ্ন নজরুল ভিলেজ চত্বরে এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে আকাশে রঙিন বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিবৃন্দ মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন নার্সারির ৫২টি স্টল পরিদর্শন করেন। দর্শনার্থীদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে খোলা থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “গাছ লাগানো এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে রাজশাহীর অবস্থান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমাদের এই ধারাবাহিক সাফল্যকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে হবে। রাজশাহীকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করতে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ জরুরি। তবে শুধু গাছের চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলোকে সঠিকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে পরিমিত পরিচর্যা সুনিশ্চিত করতে হবে।”
উদ্বোধনী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাগত ভাষণ দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তেব্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন জোরালো ভূমিকা রাখছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী এক বছরে রাজশাহী মহানগর এলাকায় ২ লাখ ৫০ হাজার চারা রোপণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে প্রায় এক লাখ চারা রোপণের কাজ সফলভাবে শুরু করা হয়েছে, যা নগরজুড়ে চলমান রয়েছে।”
নগরীর সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “রাজশাহী মহানগরীকে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালনে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক থেকে কাদামাটি অপসারণ এবং সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাতে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কাম্য। তবেই রাজশাহী আরও বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাইদ, আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোঃ ফয়েজুল কবির, জেলা পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান। এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন বন সংরক্ষক মোঃ সুবেদার ইসলাম এবং রাজশাহী মহানগর নার্সারি মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক আয়নাল হক।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার দিতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাঁরা উপস্থিত সকলকে অন্তত একটি করে ফলদ, বনজ বা ঔষধি চারা রোপণ এবং সেটির সঠিক দেখভাল করার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সকালের দিকে কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার প্রবেশদ্বার থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে নজরুল ভিলেজে এসে সমবেত হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য, স্কাউট, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নার্সারি মালিক অংশ নেন।

অপু দাস,রাজশাহী 

















