ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজ্জাক বিশ্বাস, কুষ্টিয়া

রাজ্জাক বিশ্বাস, কুষ্টিয়া : দৌলতপুর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া গড়াই নদীতেও পানি প্রবাহ বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীসংলগ্ন অন্তত চারটি এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।

ভয়াবহ নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ বিলীন জমি: গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভূরকা-হাটখোলা, কোলদিয়াড়, মাজদিয়াড় ও ফয়জুল্লাহপুর এলাকার প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।হুমকিতে বসতভিটা: আরও শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ।স্থানীয়দের বক্তব্য: ভূরকাপাড়ার জাকির হোসেন জানান, একটি সামান্য অংশে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলায় সেখানে ভাঙন কিছুটা কমলেও কোলদিয়াড়, হাটখোলাপাড়া থেকে রায়টা পর্যন্ত বিশাল এলাকা সম্পূর্ণ অরক্ষিত। প্রতিদিন নতুন নতুন জমি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।

হুমকির মুখে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পদ্মার তীব্র ভাঙনে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন চরম ঝুঁকির মুখে:জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন: ভারত থেকে আসা ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি ভাঙন সীমানার মাত্র ৫০০ ফুট দূরে অবস্থান করছে। টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ: ঐতিহ্যবাহী রায়টা-মহিষকুণ্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে নদীর ঢেউ সরাসরি আঘাত হানছে। ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: নদী ভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ভূরকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কোলদিয়াড় কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কোলদিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কোলদিয়াড় মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়,জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।অন্যান্য স্থাপনা ও গ্রাম: হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদ, জুনিয়াদহ বাজার এবং ভূরকা, কোলদিয়াড়, জুনিয়াদহ ও কোলদিয়াড় পূর্বপাড়াসহ কয়েকটি পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

 দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীর ঘোড়াই ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অনতিবিলম্বে সরকারি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

হোমনায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

21 September 2026

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের ৪ দিন, তার স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজ্জাক বিশ্বাস, কুষ্টিয়া

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০১:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাজ্জাক বিশ্বাস, কুষ্টিয়া : দৌলতপুর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া গড়াই নদীতেও পানি প্রবাহ বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীসংলগ্ন অন্তত চারটি এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।

ভয়াবহ নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ বিলীন জমি: গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভূরকা-হাটখোলা, কোলদিয়াড়, মাজদিয়াড় ও ফয়জুল্লাহপুর এলাকার প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।হুমকিতে বসতভিটা: আরও শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ।স্থানীয়দের বক্তব্য: ভূরকাপাড়ার জাকির হোসেন জানান, একটি সামান্য অংশে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলায় সেখানে ভাঙন কিছুটা কমলেও কোলদিয়াড়, হাটখোলাপাড়া থেকে রায়টা পর্যন্ত বিশাল এলাকা সম্পূর্ণ অরক্ষিত। প্রতিদিন নতুন নতুন জমি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।

হুমকির মুখে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পদ্মার তীব্র ভাঙনে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন চরম ঝুঁকির মুখে:জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন: ভারত থেকে আসা ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি ভাঙন সীমানার মাত্র ৫০০ ফুট দূরে অবস্থান করছে। টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ: ঐতিহ্যবাহী রায়টা-মহিষকুণ্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে নদীর ঢেউ সরাসরি আঘাত হানছে। ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: নদী ভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ভূরকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কোলদিয়াড় কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কোলদিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কোলদিয়াড় মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়,জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।অন্যান্য স্থাপনা ও গ্রাম: হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদ, জুনিয়াদহ বাজার এবং ভূরকা, কোলদিয়াড়, জুনিয়াদহ ও কোলদিয়াড় পূর্বপাড়াসহ কয়েকটি পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

 দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীর ঘোড়াই ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অনতিবিলম্বে সরকারি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card