ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
জনমনে বিভ্রান্তি 

ডাকাতি-হত্যা মামলার আসামী হলো মসজিদের মুয়াজ্জিন !

শ.ম.গফুর,কক্সবাজার
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৮৫ বার পঠিত
শ.ম.গফুর,কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে নামের মিল থাকায় স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে ডাকাত সাজিয়ে হত্যা মামলায় আসামী করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা মামলায় আসামী করায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুসল্লী এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে দ্রুত সময়ে তদন্ত সাপেক্ষে মসজিদের উক্ত মুয়াজ্জিনকে হত্যা মামলা থেকে বাদ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানানো হয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, গত ৯জানুয়ারী মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল নিহত হয়। ঘটনার অন্তত: ৫দিন পর ১৩ জানুয়ারী টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত ডাকাত নুর কামালের মা হামিদা বেগম।
এজাহারে দেখা গেছে, ১০জন জ্ঞাত ও ৪/৫জন লোককে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আজিজুল হাকিম।
মামলায় ৯নং আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জামাল হোছন ডাকাত (৩৩) পিতা আব্দুল গফুর সাং-পুর্ব লেদা। উল্লেখিত ঠিকানার আব্দুল গফুরের পুত্র জামাল হোছন স্থানীয় লেদা পুচিঙ্গা পাড়া নতুন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম। এছাড়া তিনি পাশ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি এনজিওতে কর্মরত রয়েছেন বলে জানাগেছে। স্থানীয়রা জানায়,জামাল হোছন র্দীঘ কয়েক বছর ধরে এনজিওতে কর্মরত আছেন। ছোট্টখাটো চাকুরী করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। লোকজন জানান, চাকুরী থেকে এসে বাড়ীর পাশের মসজিদে আজান দেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়েন। তারা আরো জানায়, গত দুয়েক বছর ধরে জামাল চাকুরী থেকে এসে কেবল মসজিদ নিয়ে পড়ে থাকেন। এমনকি এলাকার বাইরে পর্যন্ত যেতে দেখেনি বলে অনেকে কে তাঁরা জানিয়েছেন।স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেওয়া তথ্য মতে,জামাল হোছব শান্ত এবং ভদ্র প্রকৃতির ছেলে। কখনো কারো সাথে ঝগড়া করেনি। তার (জামাল হোছন) এবং পরিবারের কারো বিরুদ্ধে থানা বা কোর্টে কোথাও মামলা-মোকাদ্দমা নেই।
 সত্য যে,ডাকাত নিহতের ঘটনায় পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ঠিক। তবে কারো না কারো মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নামের মিল থাকার সুবাধে মসজিদের মুয়াজ্জিন জামালকে হত্যা মামলা জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খুবই দু:খজনক ও বিভ্রান্তিমুলক বলে এলাকাবাসী জানান। এদিকে মামলার বাদী হামিদা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তিনি পুচিঙ্গাপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছনকে আসামী করেননি। লোকজনের প্ররোচনায় নামের মিল থাকায় ভুলবশত:এমনটি হয়েছে বলে স্বীকার করেন বাদী হামিদা। তিনি যেভাবেই হোক মসজিদের মুয়াজ্জিন মামলার ৯নং আসামী জামাল হোছনকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহযোগীতা করবপন বলে জানিয়েছেন।
লেদা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান,জামাল হোছান একজন শান্ত ভদ্র এবং নম্র ছেলে। সে মসজিদে আজান দেয় এবং ছোট্ট একটা এনজিওতে চাকুরী করেন। তদন্ত করে দ্রুত সময়ে জামালকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন এই বিএনপি নেতা।
হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ যুবদলের আহবায়ক সেলিম সর্দার জানান,জামাল লেদা পুচিঙ্গা পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম। নিতান্ত গরীব পরিবারের ছেলে ও অত্যন্ত সহজ সরল এবং অমায়িক। এমন পরিবর্তন আশা করেননি জানিয়ে, নিরীহ জামালকে হয়রানীমূলক এই মামলা থেকে দ্রুত সময়ে বাদ দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন এই যুবদল নেতা।
ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবিএম জাফরুল ইসলাম জানান, নামের মিল থাকায় জামালকে অত্যন্ত সুকৌশলে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে জামাল একজন মসজিদের মুয়াজ্জিন ও এনজিও কর্মী। তাকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় জড়ানো বড়ই ষড়যন্ত্র। অবিলম্বে নিরীহ জামালকে মিথ্যা মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন তিনি।লেদা ইবনে আব্বাস মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা ক্বারী শাকের আহমদ জানান, মসজিদের মুয়াজ্জিন কেমনে হত্যা মামলার আসামী হয়? নামের মিল থাকতে পারে। তাই বলে একজন নিরীহ ছেলেকে এভাবে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামী করা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত সময়ে মুয়াজ্জিন জামাল হোছনকে মামলা থেকে বাদ দিতে পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।  টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান,বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে নিরীহ মানুষ কেন মামলার আসামী হবে? ভূলবশত: যদি হয়েও থাকে তিনি বিষয়টি আইওকে গুরুত্ব সহকারে দেখতে ইতিমধ্যে (তদন্তকারী কর্মকর্তাকে) নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে মুয়াজ্জিন জামালকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত ডাকাতকে মামলায় আসামী করা হবে বলে জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

জনমনে বিভ্রান্তি 

ডাকাতি-হত্যা মামলার আসামী হলো মসজিদের মুয়াজ্জিন !

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
শ.ম.গফুর,কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে নামের মিল থাকায় স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে ডাকাত সাজিয়ে হত্যা মামলায় আসামী করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা মামলায় আসামী করায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুসল্লী এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে দ্রুত সময়ে তদন্ত সাপেক্ষে মসজিদের উক্ত মুয়াজ্জিনকে হত্যা মামলা থেকে বাদ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানানো হয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, গত ৯জানুয়ারী মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল নিহত হয়। ঘটনার অন্তত: ৫দিন পর ১৩ জানুয়ারী টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত ডাকাত নুর কামালের মা হামিদা বেগম।
এজাহারে দেখা গেছে, ১০জন জ্ঞাত ও ৪/৫জন লোককে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আজিজুল হাকিম।
মামলায় ৯নং আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জামাল হোছন ডাকাত (৩৩) পিতা আব্দুল গফুর সাং-পুর্ব লেদা। উল্লেখিত ঠিকানার আব্দুল গফুরের পুত্র জামাল হোছন স্থানীয় লেদা পুচিঙ্গা পাড়া নতুন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম। এছাড়া তিনি পাশ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি এনজিওতে কর্মরত রয়েছেন বলে জানাগেছে। স্থানীয়রা জানায়,জামাল হোছন র্দীঘ কয়েক বছর ধরে এনজিওতে কর্মরত আছেন। ছোট্টখাটো চাকুরী করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। লোকজন জানান, চাকুরী থেকে এসে বাড়ীর পাশের মসজিদে আজান দেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়েন। তারা আরো জানায়, গত দুয়েক বছর ধরে জামাল চাকুরী থেকে এসে কেবল মসজিদ নিয়ে পড়ে থাকেন। এমনকি এলাকার বাইরে পর্যন্ত যেতে দেখেনি বলে অনেকে কে তাঁরা জানিয়েছেন।স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেওয়া তথ্য মতে,জামাল হোছব শান্ত এবং ভদ্র প্রকৃতির ছেলে। কখনো কারো সাথে ঝগড়া করেনি। তার (জামাল হোছন) এবং পরিবারের কারো বিরুদ্ধে থানা বা কোর্টে কোথাও মামলা-মোকাদ্দমা নেই।
 সত্য যে,ডাকাত নিহতের ঘটনায় পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ঠিক। তবে কারো না কারো মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নামের মিল থাকার সুবাধে মসজিদের মুয়াজ্জিন জামালকে হত্যা মামলা জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খুবই দু:খজনক ও বিভ্রান্তিমুলক বলে এলাকাবাসী জানান। এদিকে মামলার বাদী হামিদা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তিনি পুচিঙ্গাপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছনকে আসামী করেননি। লোকজনের প্ররোচনায় নামের মিল থাকায় ভুলবশত:এমনটি হয়েছে বলে স্বীকার করেন বাদী হামিদা। তিনি যেভাবেই হোক মসজিদের মুয়াজ্জিন মামলার ৯নং আসামী জামাল হোছনকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহযোগীতা করবপন বলে জানিয়েছেন।
লেদা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান,জামাল হোছান একজন শান্ত ভদ্র এবং নম্র ছেলে। সে মসজিদে আজান দেয় এবং ছোট্ট একটা এনজিওতে চাকুরী করেন। তদন্ত করে দ্রুত সময়ে জামালকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন এই বিএনপি নেতা।
হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ যুবদলের আহবায়ক সেলিম সর্দার জানান,জামাল লেদা পুচিঙ্গা পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম। নিতান্ত গরীব পরিবারের ছেলে ও অত্যন্ত সহজ সরল এবং অমায়িক। এমন পরিবর্তন আশা করেননি জানিয়ে, নিরীহ জামালকে হয়রানীমূলক এই মামলা থেকে দ্রুত সময়ে বাদ দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন এই যুবদল নেতা।
ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবিএম জাফরুল ইসলাম জানান, নামের মিল থাকায় জামালকে অত্যন্ত সুকৌশলে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে জামাল একজন মসজিদের মুয়াজ্জিন ও এনজিও কর্মী। তাকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় জড়ানো বড়ই ষড়যন্ত্র। অবিলম্বে নিরীহ জামালকে মিথ্যা মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন তিনি।লেদা ইবনে আব্বাস মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা ক্বারী শাকের আহমদ জানান, মসজিদের মুয়াজ্জিন কেমনে হত্যা মামলার আসামী হয়? নামের মিল থাকতে পারে। তাই বলে একজন নিরীহ ছেলেকে এভাবে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামী করা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত সময়ে মুয়াজ্জিন জামাল হোছনকে মামলা থেকে বাদ দিতে পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।  টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান,বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে নিরীহ মানুষ কেন মামলার আসামী হবে? ভূলবশত: যদি হয়েও থাকে তিনি বিষয়টি আইওকে গুরুত্ব সহকারে দেখতে ইতিমধ্যে (তদন্তকারী কর্মকর্তাকে) নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে মুয়াজ্জিন জামালকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত ডাকাতকে মামলায় আসামী করা হবে বলে জানিয়েছেন।