
মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ ক্যানেলের পানিতে ডুবে আপন খালা ও ভাগ্নির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকড়া তুহিন বাজার সুইচগেট এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকড়া তুহিন বাজার সুইচগেট এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে মোছা. পাখি আক্তার (১২) এবং নাউতারা নিজপাড়া (ঝাকুয়াটারী) এলাকার মো. সেলিমুর রহমানের মেয়ে মোছা. সিনহা (৪)। সম্পর্কে তারা আপন খালা ও ভাগ্নি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে তিস্তা নদীর প্রধান সেচ ক্যানেলের পাশে কয়েকজন শিশু খেলাধুলা করছিল। এ সময় কোনো একপর্যায়ে শিশু সিনহা ক্যানেলের পানিতে পড়ে যায়। ভাগ্নিকে বাঁচাতে খালা পাখি আক্তার পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু স্রোত ও পানির গভীরতার কারণে তিনিও পানিতে ডুবে যান।
এ সময় ক্যানেলের ধারে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা ক্যানেলের পানিতে নেমে দুজনকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।
নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বলেন, “কয়েক বছর আগেও একই স্থানে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জায়গাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এদিকে একই স্থানে অতীতেও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তিস্তার সেচ ক্যানেলটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তাবেষ্টনী, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও প্রয়োজনীয় নজরদারির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
খালা-ভাগ্নির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিবেশ।

মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী 











