অপু দাস, রাজশাহী: ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার নগরীর ভদ্রা এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ফগার মেশিনের মাধ্যমে কীটনাশক ছিটানো হয়।
অভিযানের আওতায় ভদ্রা বস্তি এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ফগার মেশিন ব্যবহার করে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ ধরনের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করা হচ্ছে।
শনিবার ভদ্রা এলাকায় চলমান ফগার স্প্রে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। পরিদর্শনকালে তিনি ভদ্রা রেললাইন সংলগ্ন বস্তি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় রাসিক প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমে থাকছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল, পুরোনো গাড়ির টায়ার, টিনের কৌটা, ডাব বা নারিকেলের খোসা কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।
রাসিক প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নগরীর প্রতিটি পরিবার যদি নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে, তাহলে মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাজশাহী গড়ে তোলা সম্ভব।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানি জমে থাকার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থানকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ফগার মেশিনের মাধ্যমে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং ড্রেন পরিষ্কারের মতো কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জুসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করতে র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি নাগরিককে নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
রাজশাহী নগরীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে সিটি কর্পোরেশনের চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অপু দাস, রাজশাহী 


















