দাপটের কবলে বিদ্যালয়,প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:১৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / ৮৩ বার পঠিত

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতি-অনিয়ম,স্বেচ্ছাচারিতা ও পারিবারিক দাপটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে সহকারী শিক্ষক মোছা: তাহমিনা রহমানসহ অন্যরা।
বুধবার (৩০জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে,কটিয়াদী স্বপ্ন কুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে কটিয়াদী উপজেলাধীন ৬৩নং বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকা ইয়াসমিনের অপকর্ম ও দুর্ণীতি আড়াল করতে এবং তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সহকারী শিক্ষক মোসা: তাহমিনা রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলেন,আমি মোসাঃ তাহমিনা রহমান সহকারী শিক্ষক হিসেবে অত্র উপজেলাধীন বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি। ২০১৩ সালে যোগদানের পর থেকে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি। কিন্তু অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিসেস সাদেকা ইয়াসমিন যোগদানের পর থেকেই অজ্ঞাত কারণে আমার সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছেন। প্রধান শিক্ষক কর্তৃক আমার উপর দীর্ঘদিন যাবত চলতে থাকা মানসিক নির্ঘাতন, দুর্ব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে আমি গত ৩০শে জুন ২০২৫ ইং তারিখে উনার বিরুদ্ধে আমাকে মানসিক নির্যাতন, বিদ্যালয় পরিচালনায় উনার স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতি বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করি।
অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষকের কর্তৃক আমাকে দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা, প্রয়োজনের সময় ছুটি না দেওয়া, আমার পরিবার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা, আমাকে অন্য শিক্ষকের চেয়ে বেশি সময় ক্লাস দেয়া, চাকরি ছেড়ে দিতে এবং অন্যত্র বদলি হতে চাপ দেয়া ইত্যাদি উপায়ে আমাকে মানসিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরি।
দ্বিতীয়ত, প্রধান শিক্ষকের পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা, স্লিপ প্রণয়ন দল ও সামাজিক নিরীক্ষা কমিটিতে উনার আত্মীয় স্বজনদের মনোনয়ন ইত্যাদি স্বেচ্ছাচারিতার বিষয় উল্লেখ করি।
তৃতীয়ত, প্রধান শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, টিফিনের সময় নিয়ম করে বাড়িতে যাওয়া এবং দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বিদ্যালয়ে ফেরা, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া, শ্রেনীকক্ষে চুরি গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া, নিয়মিত মা সমাবেশ/ অভিভাবক সমাবেশ না করা, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ পারিবারিক ভাবে ব্যবহার করা ইত্যাদি অনিয়ম তুলে ধরা হয়।
চতুর্থত, প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিগত অর্থ-বছরগুলোতে বিদ্যালয় পরিচালনা ও উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ, কাজ সম্পন্ন না করেই স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা ইত্যাদি বিষয়ে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ দাখিলের বেশ কিছুদিন পর তদন্ত নোটিশ আসে। গত ২৩/০৭/২৫ তারিখে তদন্তের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক পূর্বেই টের পেয়ে যান এবং অভিযোগকে দুর্বল করার জন্য তিনি কৌশলে ৩ বছর ধরে পারিবারিকভাবে ব্যবহার করতে থাকা ল্যাপটপ স্কুলে নিয়ে আসেন, তড়িঘড়ি করে কিছু কাজ করেন।
গত ২৩/৭/২৫ তারিখ বিকেল ৩:৩০ টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় তদন্ত কাজে বিদ্যালয়ে আসেন। তদন্তকালে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করি। প্রধান শিক্ষকের কাছে বিগত ৫ অর্থবছরে কত টাকা ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েও জানতে পারিনি। তদন্ত কর্মকর্তার নিকট বিগত সময়ে প্রাপ্ত বাজেটের বিপরীতে কি কাজ ও ক্রয় করা হয়েছে তার বাস্তব চিত্র ও মজুদ যাচাইয়ের অনুরোধ জানাই। তদন্ত চলাকালে এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ তদন্ত কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা সম্পর্কে জানান। তারা দিন দিন বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান নিম্নগামী হওয়া, অফিস সময়কালে প্রধান শিক্ষকের স্কুল ত্যাগ করা ও দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান করা, বিধি মোতাবেক বিদ্যালয় পরিচালনা না করা এবং প্রাপ্ত বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করা ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন এবং স্যারকে বিষয়গুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করেন।
নিয়মিত মা সমাবেশ করার নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা মানেন না। অনেক বলার পর চলতি বছরে মাত্র ১টি মা সমাবেশ করেছিলেন। বেশিরভাগ সময়ে দেখা যায় পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে কাগজে কলমে সমাবেশ দেখিয়ে দেন।
বিগত সময়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস হতে বিদ্যালয়ে ২টি ল্যাপটপ সরবরাহ করলেও বর্তমানে ১টি মাত্র ল্যাপটপ ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্যটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দেন না। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের প্রতি উনার অনিহা লক্ষ্য করা যায় এবং আমাকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে অসহযোগিতা করেন।
বিগত অর্থ-বছর গুলোতে বিদ্যালয় পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার মাত্র ১৫-২০% খরচ করে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাৎ করেছেন। স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে করেন। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হতে চললেও বিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত আনুমানিক পনের হাজার টাকার মতো খরচ করেছেন। প্রাক-প্রাথমিক শাখার জন্য কোন বরাদ্দ চলতি অর্থ বছরে নেই বলে জানান। স্লিপের টাকা থেকে অর্ধ বার্ষিকী/বার্ষিক পরিক্ষায় ছাত্র/ছাত্রীদের খাতা সরবরাহ করার নির্দেশনা থাকলেও তিনি সরবরাহ করেননি।
কোন অভিভাবক উপরোক্ত বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কাউকে তিনি পাত্তা দেন না, উল্টো তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন। তিনি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের স্বেচ্ছাচারিতা, পারিবারিক প্রভাব ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছেন।
তিনি আরও বলেন,গত ২৬ জুলাই-২০২৫ ইং তারিখ শনিবার সমকাল পত্রিকার ৭নং পৃষ্ঠার ৬-৮ নং কলামে “বাবা বিএনপি নেতা, বিদ্যালয়ে দাগট শিক্ষিকার” শিরোনামে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে তা আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কিশোরগঞ্জ গেঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বেথইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকা ইয়াসমিন এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও সহকারী শিক্ষককে মানসিক নির্যাতন সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করায় প্রধান শিক্ষক সাদেকা ইয়াসমিন প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়। আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে তার আত্মীয়-স্বজন ও পার্শ্ববর্তী হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ তোলে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছে এবং সংবাদপত্রে প্রচার করিয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। সংবাদে উল্লেখ করা হয় তদন্তের দিন আমার বাবা দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপ দিতে থাকেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ পারিবারিক ও রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে আসছেন। তিনি নিজেকে সবসময় আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে জাহির করতেন। উনার ভাসুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন এবং ভাসুরের ছেলে মুমুরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি।
সবশেষে তিনি বলেন,এহেন পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক নিজের দুর্নীতি ও অপকর্ম আড়াল করতে মিথ্যা ও ছলনার আশ্রয় নিয়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিদ্যালয়ে ও এলাকায় আমার মানসম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য মানববন্ধন ও সংবাদটি প্রকাশ করিয়েছে। আমি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রধান শিক্ষক সাদেকা ইয়াসমিন ও তার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।


















