ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ১১ মে ২০২৬
যুবদল নেতার জামিন নামঞ্জুর

দুপচাঁচিয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ

মোঃ সাদিকুল ইসলাম, বগুড়া
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / ১২ বার পঠিত
মোঃ সাদিকুল ইসলাম, বগুড়া:   বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আটগ্রাম বেলহালী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা, নারী নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল সাখিদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৭ মে) বগুড়ার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী মোস্তাফিজার রহমান জুয়েলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ১ এপ্রিল সকালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমির আইল সরিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে বেলাল সাখিদারসহ অন্যরা তাকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বাদীর দাবি, পরে ‘মীমাংসার’ কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এসময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, ধারালো হাসুয়া ও বাঁশের লাঠি নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে তার বাবা মোজাহার আলী, মা বিলকিছ বেগম ও শ্বশুর দুলাল হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত বিলকিছ বেগমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয় এবং তার মাথায় ৭টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া তার হাতের আঙুল ভেঙে যায় বলেও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় বিলকিছ বেগমকে শ্লীলতাহানির শিকার করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বাদী দাবি করেন, বেলাল সাখিদার স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহতদের দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে বিলকিছ বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় মোস্তাফিজার রহমান জুয়েল বাদী হয়ে গত ৬ এপ্রিল দুপচাঁচিয়া থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জি.আর-৫৩/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলার অন্যতম আসামি বেলাল সাখিদারকে গত ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

যুবদল নেতার জামিন নামঞ্জুর

দুপচাঁচিয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
মোঃ সাদিকুল ইসলাম, বগুড়া:   বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আটগ্রাম বেলহালী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা, নারী নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল সাখিদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৭ মে) বগুড়ার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী মোস্তাফিজার রহমান জুয়েলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ১ এপ্রিল সকালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমির আইল সরিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে বেলাল সাখিদারসহ অন্যরা তাকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বাদীর দাবি, পরে ‘মীমাংসার’ কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এসময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, ধারালো হাসুয়া ও বাঁশের লাঠি নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে তার বাবা মোজাহার আলী, মা বিলকিছ বেগম ও শ্বশুর দুলাল হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত বিলকিছ বেগমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয় এবং তার মাথায় ৭টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া তার হাতের আঙুল ভেঙে যায় বলেও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় বিলকিছ বেগমকে শ্লীলতাহানির শিকার করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বাদী দাবি করেন, বেলাল সাখিদার স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহতদের দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে বিলকিছ বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় মোস্তাফিজার রহমান জুয়েল বাদী হয়ে গত ৬ এপ্রিল দুপচাঁচিয়া থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জি.আর-৫৩/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলার অন্যতম আসামি বেলাল সাখিদারকে গত ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।