ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

দেড় বছর পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুমের রহস্য উদঘাটন

জুবাইদা তাসমিম সেতু, ঝিনাইদহ:    দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে নিখোঁজ কিশোরী মোছাঃ নিঝুম খাতুন (১৭)-এর নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহের মহেশপুর থানাধীন ফতেপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন কিশোরী নিঝুম খাতুন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনেও নিঝুমের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
নিখোঁজের ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কিশোরীর সন্ধান না মেলায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে মাশরিকুল রহমান জিমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে জিম নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাদের মধ্যে বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জিম তাকে রেললাইনের পাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় যায় এবং কথিত ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ওই এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তকারী দল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আর্কাইভে সংরক্ষিত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাকসহ অন্যান্য আলামত দেখে আসামি জিম ওই মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আসামি মাশরিকুল রহমান জিম আদালতে নিঝুম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

চুড়ামনকাটিতে মাদকের বড় চালান জব্দ, গ্রেপ্তার-২

22 September 2026

সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

দেড় বছর পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুমের রহস্য উদঘাটন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১০:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুবাইদা তাসমিম সেতু, ঝিনাইদহ:    দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে নিখোঁজ কিশোরী মোছাঃ নিঝুম খাতুন (১৭)-এর নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহের মহেশপুর থানাধীন ফতেপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন কিশোরী নিঝুম খাতুন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনেও নিঝুমের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
নিখোঁজের ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কিশোরীর সন্ধান না মেলায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে মাশরিকুল রহমান জিমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে জিম নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাদের মধ্যে বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জিম তাকে রেললাইনের পাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় যায় এবং কথিত ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ওই এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তকারী দল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আর্কাইভে সংরক্ষিত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাকসহ অন্যান্য আলামত দেখে আসামি জিম ওই মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আসামি মাশরিকুল রহমান জিম আদালতে নিঝুম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card