ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
  • 🏠
  • জাতীয়
    • শীর্ষ খবর
    • রাজনীতি
    • বিবিধ
      • দুর্ভোগ-ভোগান্তি
      • আইন ও আদালত
      • খবর বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ
      • বিভাগীয় খবর
        • খুলনা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • ঢাকা বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
  • রূপসী বাংলা
  • বহির্বিশ্ব
  • খোলা জানালা
    • মুক্তমত
    • মহাশয়, জানেন তো ঘটনাটা!
    • ডাক হরকরা
    • পিয়াসের ডায়েরি থেকে …
    • প্রিয় মুখ
  • খেলার মাঠ
  • বিনোদন পাড়া
  • সাপ্তাহিক আয়োজন
    • অর্থনীতি ও বাণিজ্যের হালহকিকত
    • কর্ম-কর্মস্থল-কর্মসংস্থান
    • কৃষি ও কৃষক
    • গৃহিণীর রসুইঘর-ঘরসজ্জা
    • তথ্য-প্রযুক্তিতে বিজ্ঞান
    • ধর্ম-সংস্কৃতি ও ইতিহাস
    • নগর জীবন
    • ভ্রমণ ও পর্যটন
    • যাপিত জীবনে স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা-শিক্ষার্থী-শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য ভাবনা
  • নাগরিক টুকিটাকি
    • আমাদের সম্পর্কে জানুন
      • পরিবারের সহকর্মীবৃন্দ
      • নাগরিকে যুক্ত হতে নির্দেশনা
    • নাগরিক পরিচিতি
      • ই-নাগরিক ভাবনা
      • নাগরিক মাল্টিমিডিয়া
      • সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিক
      • নাগরিক মার্ট
      • নাগরিক শেল্টার
    • আরো দেখুন
      • এ্যান্ড্রয়ডে ডাউনলোড করুন ‘নাগরিক এ্যাপস’
      • লেখা পাঠান নাগরিকে
  • 🏠
  • জাতীয়
    • শীর্ষ খবর
    • রাজনীতি
    • বিবিধ
      • দুর্ভোগ-ভোগান্তি
      • আইন ও আদালত
      • খবর বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ
      • বিভাগীয় খবর
        • খুলনা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • ঢাকা বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
  • রূপসী বাংলা
  • বহির্বিশ্ব
  • খোলা জানালা
    • মুক্তমত
    • মহাশয়, জানেন তো ঘটনাটা!
    • ডাক হরকরা
    • পিয়াসের ডায়েরি থেকে …
    • প্রিয় মুখ
  • খেলার মাঠ
  • বিনোদন পাড়া
  • সাপ্তাহিক আয়োজন
    • অর্থনীতি ও বাণিজ্যের হালহকিকত
    • কর্ম-কর্মস্থল-কর্মসংস্থান
    • কৃষি ও কৃষক
    • গৃহিণীর রসুইঘর-ঘরসজ্জা
    • তথ্য-প্রযুক্তিতে বিজ্ঞান
    • ধর্ম-সংস্কৃতি ও ইতিহাস
    • নগর জীবন
    • ভ্রমণ ও পর্যটন
    • যাপিত জীবনে স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা-শিক্ষার্থী-শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য ভাবনা
  • নাগরিক টুকিটাকি
    • আমাদের সম্পর্কে জানুন
      • পরিবারের সহকর্মীবৃন্দ
      • নাগরিকে যুক্ত হতে নির্দেশনা
    • নাগরিক পরিচিতি
      • ই-নাগরিক ভাবনা
      • নাগরিক মাল্টিমিডিয়া
      • সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিক
      • নাগরিক মার্ট
      • নাগরিক শেল্টার
    • আরো দেখুন
      • এ্যান্ড্রয়ডে ডাউনলোড করুন ‘নাগরিক এ্যাপস’
      • লেখা পাঠান নাগরিকে
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
News Title :
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি: নীলফামারীতে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত লোহাগড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, নিয়মিত হাত ধোয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সড়কের কয়েক লাখ টাকার সরকারি গাছ উধাও, তদন্তের দাবি চিরিরবন্দরে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান নিহত শাজাহানপুরে স্কুলের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সিরাজগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস পালন ও সেরা ৪ চালককে সম্মাননা প্রদান রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে পেটাল দুর্বৃত্তরা স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ুক দ্রুত চিকিৎসায় রক্ষা পাক জীবন লালপুরে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা
  • 🏠
  • রাজনীতি
  • দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

  • নাগরিকভাবনা ডেস্ক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭২ বার পঠিত

 

নদী মেখলা শ্বাশত বাংলাদেশের ইতিহাসে  আজ ১৫ আগস্ট শনিবার এক অনন্য দিন। জগত জুড়ে প্রলয়ংকরী ধ্বংস আর ধ্বংসাবশেষের ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন উত্কীর্ন রেখে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিরত এইদিনে জন্ম হয়েছিল খালেদা খানম পুতুলের। ফেনী ফুলগাজীর ইস্কান্দার মজুমদার আর দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী চন্দনবাড়ির তৈয়বা মজুমদার দম্পতির কোলজুড়ে নতুন ভোরের দীপ্তি নিয়ে আসেন তিনি। কাল-পরিক্রমায় বাবা-মায়ের আদরের সেই পুতুলই বংলাদেশের গণতন্ত্রের শিখন্ডি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, দেশপ্রেমের অন্যতম প্রতীক জনগনের আস্থার অনিবার্য স্তম্ভ হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়া। এক্ষনে দেশপ্রেমের নিক্তিতে মানচিত্রে মিশে থাকা নাম তিনি। গণতন্ত্রের জন্য তার দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম তাকে ভূষিত করেছে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ খেতাবে। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান তিনি।

একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের প্রশ্নে তিনি ‘আপসহীন’ নেত্রীর উপাধি পান।তবে তার ‘দেশনেত্রী’ হয়ে উঠার পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। পদে পদে কেটেছে ষড়যন্ত্র, নির্যাতন, প্রতিহিংসা পরায়নতা, জিঘাংসা-জিঘাংসার অক্টোপাসের আবর্তে। বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক চার বারের অতি জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্ম বার্ষিকী।

স্বামী স্বাধীনতার তূর্যবাদক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া মা,মাটি ও মানুষের রাজনৈতিক দল-বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামো, তৃনমূলের ভিত্তি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে। নানা চড়াই-উত্রাই-আন্দোলন সংগ্রাম, অভ্যূত্থানের বাঁকে বাঁকে অনবরত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সংঘাত-সংকটের পাটাতনের ওপর বেগম খালেদা জিয়ার অবিনাশী সুদৃঢ় নেতৃত্বে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে দলটি তার প্রাসঙ্গিক উপযোগিতা, গ্রহণযোগ্যতা, অসম জনপ্রিয়তা ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা বার বার অনিবার্য হয়েছে। কেবল গণতান্ত্রিক সুতীব্র আপোষহীন লড়াই-আন্দোলনই নয়, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষিন এশিয়ায় ইমার্জিং টাইগার হয়ে ওঠার পদযাত্রায় বেগম জিয়া ইতিহাসের এক অবিস্মরনীয় অংশ হয়ে উঠেন। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন ব্যক্তি নন, নিজ কর্মগুণে নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। হয়ে উঠেছেন এক জীবন্ত ইতিহাস। পতিত স্বৈরাচার হাসিনার জিঘাংসায় দেড় দশকের অকল্পনীয় নিপীড়ন-নির্যাতন, চিকিত্সাহীনতা, শ্লো-পয়জনিংয়ের শিকার হয়ে বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর জানাজায় সর্বস্তরের লক্ষ লক্ষ মানুষের সজল সকরুন অংশ গ্রহণ অতীতে কেউ দেখেনি। শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় জানায় দেশের মানুষ।  ৮২ বছল পূর্বে আজকের এই দিনে জাতীয়তাবাদী শক্তির অবিসংবাদিত আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের কর্মস্থল অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাক্ষত্রিক বিভায় উদ্ভাসিত এই মহান নেত্রীর মধুরতম জন্মদিন এবার এমন এক সময় উপস্থিত হয়েছে যখন তিনি জনসমুখে না থাকলেও তার সুযোগ্য হিরান্ময় উত্তরসূরী তাঁর জেষ্ঠ্য পুত্র জনগনের প্রানভোমরা তারেক রহমানেরে হতে দেশের মানুষ তুলে দিয়েছেন রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুভার। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের অবিস্মরনীয় নেতৃত্বে বিএনপি অভাবনীয় ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার বন্দীত্বকালের সাড়ে ছয় বছরে তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত থেকেই দলকে তৃনমূল শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। দূর পরবাসে থেকে শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে এক বিরল ইতিহাস রচনা করেছেন। শেখ হাসিনার পতিত সরকারের রোষানলে পড়েন তারেক রহমান। তাকে কয়েকটি সাজানো মামলায় সাজা দেয়া হয়। তার বক্তব্য প্রচারে আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারপরও প্রতি মুহুর্ত দেশে নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারন জনগনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করে একদিকে দলকে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করেন এবং তুমুল আন্দোলন গড়ে হাসিনাশাহীর পতনে অভাবনীয় রাজনৈতিক দক্ষতার নজীর স্থাপন করেন শহীদ জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান। ২০ বছর পর আবারও জনগণের বিপুল সমর্থন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জনবান্ধব সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে তার অঙ্গীকার পূরন করে চলেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আজ ১৫ আগস্ট তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রথম জন্মদিন শোক, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়ায় তাকে স্মরণ করবেন বিএনপির অগণিত নেতা-কর্মীসহ দেশবাসী।

মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্নাঢ্য জীবনের ইতিহাস সামান্য নয়। পৃথিবীতে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা থেমেছে মাত্র। তখন শরতের স্নিগ্ধ ভোর। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির ছোট্ট শহরে নতুন ফুটফুটে শিশু কন্যার আগমনে পরিবারে বইছে আনন্দের ঝর্নাধারা। তার নাম রাখা হয় ’শান্তি’। পরে মেঝ বোন সেলিনা ইসলাম ফুটফুটে পুতুলের মতো শিশুর নাম রাখেন ‘পুতুল’। বেগম খালেদা খানম পুতুল জন্মের পর প্রথম দুইবছর কাটে জলপাইগুড়িতে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশ হলে তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার দিনাজপুরে চলে আসেন। সেখান স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব ও শিক্ষা জীবন কাটে দিনাজপুরে। পাঁচ বছর বয়সে খালেদা খানম পুতুলকে তার বাবা দিনাজপুরের সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে ভর্তি করান। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে এ কলেজ থেকে বেগম খালেদা জিয়া ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলেজে পড়ার সময় তত্কালীন দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় পিত্রালয়ে ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর তরুণ ক্যাপ্টেন সুদর্শন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা খানম পুতুল পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৯৬৫ সালে কলেজে ডিগ্রি কোর্সে অধ্যয়নকালে বেগম খালেদা জিয়া স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এদেশের স্বাধিকারকামী মানুষের ওপর নৃশংসরূপে ঝাঁপিয়ে পড়লে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে নিয়োজিত অসীম সাহসী তত্কালীন মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এমনি পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ছোট্ট দুই ছেলেকে নিয়ে ১৬ মে নৌ’পথে ঢাকায় আসেন। বড় বোন খুরশীদ জাহান হকের বাসায় ২৭ জুন পর্যন্ত আত্মগোপন করে থাকেন। ২ জুলাই পাক সেনারা দুই ছেলেসহ তাঁকে বন্দী করে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকার পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে ১৯৮১ সালের ৩১ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে শাহাদত বরণ করেন। ততদিন অবধি সাধারন আটপৌরে গৃহবধুই ছিলেন তিনি। শেষাবধি দলের নেতা-কর্মীদের দাবির টানে ঘরের চৌহদ্দি ডিঙ্গিয়ে নামতে হয় রাজপথে।  ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। পরের বছর মার্চে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে খালেদা জিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় তিনি আপোসহীন নেত্রী  হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্বৈরাচারের পতনের পর নির্বাচনে জনগন বেছে নেন তাইে। রাজপথ হয়ে বাংলাদেশের এই প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর গৌরবে অভিষিক্ত হন বেগম জিয়া। তিন বার সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়াই একমাত্র নেত্রী যিনি অন্তত ১১ বার বন্দীদশা মোকাবিলা করে স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুকে ভ্রুকুটি করে ষড়যন্ত্র ও কুটিলতার জাল ছিন্ন করে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উজ্জ্বল পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন এবং সফলকাম হয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার ওপর সব চেয়ে বড় আঘাত আসে ওয়ান ইলেভেনের কালে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার খালেদা জিয়া ও  তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ জিয়া পরিবারের ওপর নেমে আসে নির্মম উতপীড়ন-নির্যাতনের ভয়াবহতা। খালেদা জিয়াকে বন্দী করে সাব জেলে নিক্ষেপ করা হয়। দেশ ত্যাগে বাধ্য করতে তার ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করা হয়। তারেক রহমানকে বন্দী করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এই জনপ্রিয়তম নেতাকে হত্যার জন্য পঙ্গু করে দেয়া হয়। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দী করা হয়। চলে নিপীড়ন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার শুরু হয় খালেদা জিয়া-তারেক রহমান ও বিএনপি বিনাশের নীল নকশা। তারই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার বিতর্কিত আদালত কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়াকে কারাবন্দী করেন।সেই থেকে শুরু হয় জেল জীবন। জেলে তাকে বিনা চিকিত্সায় জীবন নাশের উপক্রম করা হয়। প্রায় দুই বছর পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময় পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর দফা-দফায় ছয় মাস করে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সাবেক সরকার। তাকে উন্নত চিকিত্সার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। অত:পর ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পতনকাল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার দুনিয়া কাঁপানো গণ অভ্যূত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়। মুক্ত-সুস্থির জীবন ফিরে পান খালেদা জিয়া। মুক্তি পায় বাংলাদেশ। পরদিন (৬ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। শাসকশ্রেণী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঔজ্জ্বল্য রুখতে অসংখ্য চেষ্টা করেছে। নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে মৃত্যুর মখে নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু যে নামের অর্থই ঔজ্জ্বল্য, তার আবির্ভাবকে রুদ্ধ করা যায় নি। তিনি বারবার দ্যুতি ছড়িয়েছেন। যে ‘বাংলাদেশবাদ’ জিয়া এই জাতিকে দিয়ে গিয়েছেন,সেই দর্শনের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে তার যোগ্যতম উত্তরসূরী  তারেক রহমান আগুয়ান হয়েছেন;জাতিকে বাস্তব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। জাতিও তার উপরে আস্থা রেখেছে নিঃসংকোচে।

বিএনপির কর্মসূচি : খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৫ আগস্ট সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ আগস্ট শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

Share this news as a Photo Card

Generating high-quality image, please wait...
সম্পর্কিত খবর : নাগরিকভাবনা ডেস্ক
এ জাতীয় আরও খবর

লোহাগড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল অনুষ্ঠিত

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী

টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ ও নির্যাতন, ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন: শফিকুর রহমান

বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয়

মধ্যরাতে এসিল্যান্ডের বাসায় নামজারির ফাইল নিয়ে নাইটগার্ড 

রুস্তমপুর পশুর হাটে ৫০০ টাকার খাজনা আদায় হচ্ছে ৮০০ টাকা, মনিটরিং টিমের কাছে অভিযোগের সত্যতা

চৌদ্দ বছরে চৌদ্দ ফুটের দুর্গা, ময়মনসিংহের সবচেয়ে বড় প্রতিমার দাবি উযুসের

দুবাই প্রবাসী শাকিলের হাত ধরে ডিজিটাল সেবায় নতুন দিগন্ত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে নাঙ্গলকোট উপজেলা সমিতি চট্টগ্রাম এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

সর্বশেষ

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি: নীলফামারীতে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

লোহাগড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, নিয়মিত হাত ধোয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সড়কের কয়েক লাখ টাকার সরকারি গাছ উধাও, তদন্তের দাবি

চিরিরবন্দরে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান নিহত

দৈনিক নাগরিক ভাবনা
শেখ রিফান আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
উপদেষ্টা সম্পাদক: সৈয়দ সফি উপদেষ্টা ও প্রকাশক: আফরোজা সিদ্দিকা
দৈনিক নাগরিক ভাবনা
🏠 ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ☎️ 09649-230220 || 📱 01915-708187 || ✉️ info.nagorikvabna@gmail.com || 🌐 NagorikBhabna.com || ⓕ ◎ 𝕏 ▶️ @NagorikBhabna

দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

নদী মেখলা শ্বাশত বাংলাদেশের ইতিহাসে  আজ ১৫ আগস্ট শনিবার এক অনন্য দিন। জগত জুড়ে প্রলয়ংকরী ধ্বংস আর ধ্বংসাবশেষের ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন উত্কীর্ন রেখে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিরত এইদিনে জন্ম হয়েছিল খালেদা খানম পুতুলের। ফেনী ফুলগাজীর ইস্কান্দার মজুমদার আর দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী চন্দনবাড়ির তৈয়বা মজুমদার দম্পতির কোলজুড়ে নতুন ভোরের দীপ্তি নিয়ে আসেন তিনি। কাল-পরিক্রমায় বাবা-মায়ের আদরের সেই পুতুলই বংলাদেশের গণতন্ত্রের শিখন্ডি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, দেশপ্রেমের অন্যতম প্রতীক জনগনের আস্থার অনিবার্য স্তম্ভ হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়া। এক্ষনে দেশপ্রেমের নিক্তিতে মানচিত্রে মিশে থাকা নাম তিনি। গণতন্ত্রের জন্য তার দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম তাকে ভূষিত করেছে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ খেতাবে। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান তিনি।

একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের প্রশ্নে তিনি ‘আপসহীন’ নেত্রীর উপাধি পান।তবে তার ‘দেশনেত্রী’ হয়ে উঠার পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। পদে পদে কেটেছে ষড়যন্ত্র, নির্যাতন, প্রতিহিংসা পরায়নতা, জিঘাংসা-জিঘাংসার অক্টোপাসের আবর্তে। বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক চার বারের অতি জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্ম বার্ষিকী।

স্বামী স্বাধীনতার তূর্যবাদক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া মা,মাটি ও মানুষের রাজনৈতিক দল-বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামো, তৃনমূলের ভিত্তি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে। নানা চড়াই-উত্রাই-আন্দোলন সংগ্রাম, অভ্যূত্থানের বাঁকে বাঁকে অনবরত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সংঘাত-সংকটের পাটাতনের ওপর বেগম খালেদা জিয়ার অবিনাশী সুদৃঢ় নেতৃত্বে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে দলটি তার প্রাসঙ্গিক উপযোগিতা, গ্রহণযোগ্যতা, অসম জনপ্রিয়তা ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা বার বার অনিবার্য হয়েছে। কেবল গণতান্ত্রিক সুতীব্র আপোষহীন লড়াই-আন্দোলনই নয়, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষিন এশিয়ায় ইমার্জিং টাইগার হয়ে ওঠার পদযাত্রায় বেগম জিয়া ইতিহাসের এক অবিস্মরনীয় অংশ হয়ে উঠেন। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন ব্যক্তি নন, নিজ কর্মগুণে নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। হয়ে উঠেছেন এক জীবন্ত ইতিহাস। পতিত স্বৈরাচার হাসিনার জিঘাংসায় দেড় দশকের অকল্পনীয় নিপীড়ন-নির্যাতন, চিকিত্সাহীনতা, শ্লো-পয়জনিংয়ের শিকার হয়ে বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর জানাজায় সর্বস্তরের লক্ষ লক্ষ মানুষের সজল সকরুন অংশ গ্রহণ অতীতে কেউ দেখেনি। শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় জানায় দেশের মানুষ।  ৮২ বছল পূর্বে আজকের এই দিনে জাতীয়তাবাদী শক্তির অবিসংবাদিত আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের কর্মস্থল অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাক্ষত্রিক বিভায় উদ্ভাসিত এই মহান নেত্রীর মধুরতম জন্মদিন এবার এমন এক সময় উপস্থিত হয়েছে যখন তিনি জনসমুখে না থাকলেও তার সুযোগ্য হিরান্ময় উত্তরসূরী তাঁর জেষ্ঠ্য পুত্র জনগনের প্রানভোমরা তারেক রহমানেরে হতে দেশের মানুষ তুলে দিয়েছেন রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুভার। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের অবিস্মরনীয় নেতৃত্বে বিএনপি অভাবনীয় ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার বন্দীত্বকালের সাড়ে ছয় বছরে তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত থেকেই দলকে তৃনমূল শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। দূর পরবাসে থেকে শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে এক বিরল ইতিহাস রচনা করেছেন। শেখ হাসিনার পতিত সরকারের রোষানলে পড়েন তারেক রহমান। তাকে কয়েকটি সাজানো মামলায় সাজা দেয়া হয়। তার বক্তব্য প্রচারে আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারপরও প্রতি মুহুর্ত দেশে নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারন জনগনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করে একদিকে দলকে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করেন এবং তুমুল আন্দোলন গড়ে হাসিনাশাহীর পতনে অভাবনীয় রাজনৈতিক দক্ষতার নজীর স্থাপন করেন শহীদ জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান। ২০ বছর পর আবারও জনগণের বিপুল সমর্থন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জনবান্ধব সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে তার অঙ্গীকার পূরন করে চলেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আজ ১৫ আগস্ট তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রথম জন্মদিন শোক, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়ায় তাকে স্মরণ করবেন বিএনপির অগণিত নেতা-কর্মীসহ দেশবাসী।

মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্নাঢ্য জীবনের ইতিহাস সামান্য নয়। পৃথিবীতে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা থেমেছে মাত্র। তখন শরতের স্নিগ্ধ ভোর। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির ছোট্ট শহরে নতুন ফুটফুটে শিশু কন্যার আগমনে পরিবারে বইছে আনন্দের ঝর্নাধারা। তার নাম রাখা হয় ’শান্তি’। পরে মেঝ বোন সেলিনা ইসলাম ফুটফুটে পুতুলের মতো শিশুর নাম রাখেন ‘পুতুল’। বেগম খালেদা খানম পুতুল জন্মের পর প্রথম দুইবছর কাটে জলপাইগুড়িতে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশ হলে তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার দিনাজপুরে চলে আসেন। সেখান স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব ও শিক্ষা জীবন কাটে দিনাজপুরে। পাঁচ বছর বয়সে খালেদা খানম পুতুলকে তার বাবা দিনাজপুরের সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে ভর্তি করান। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে এ কলেজ থেকে বেগম খালেদা জিয়া ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলেজে পড়ার সময় তত্কালীন দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় পিত্রালয়ে ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর তরুণ ক্যাপ্টেন সুদর্শন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা খানম পুতুল পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৯৬৫ সালে কলেজে ডিগ্রি কোর্সে অধ্যয়নকালে বেগম খালেদা জিয়া স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এদেশের স্বাধিকারকামী মানুষের ওপর নৃশংসরূপে ঝাঁপিয়ে পড়লে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে নিয়োজিত অসীম সাহসী তত্কালীন মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এমনি পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ছোট্ট দুই ছেলেকে নিয়ে ১৬ মে নৌ’পথে ঢাকায় আসেন। বড় বোন খুরশীদ জাহান হকের বাসায় ২৭ জুন পর্যন্ত আত্মগোপন করে থাকেন। ২ জুলাই পাক সেনারা দুই ছেলেসহ তাঁকে বন্দী করে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকার পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে ১৯৮১ সালের ৩১ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে শাহাদত বরণ করেন। ততদিন অবধি সাধারন আটপৌরে গৃহবধুই ছিলেন তিনি। শেষাবধি দলের নেতা-কর্মীদের দাবির টানে ঘরের চৌহদ্দি ডিঙ্গিয়ে নামতে হয় রাজপথে।  ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। পরের বছর মার্চে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে খালেদা জিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় তিনি আপোসহীন নেত্রী  হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্বৈরাচারের পতনের পর নির্বাচনে জনগন বেছে নেন তাইে। রাজপথ হয়ে বাংলাদেশের এই প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর গৌরবে অভিষিক্ত হন বেগম জিয়া। তিন বার সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়াই একমাত্র নেত্রী যিনি অন্তত ১১ বার বন্দীদশা মোকাবিলা করে স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুকে ভ্রুকুটি করে ষড়যন্ত্র ও কুটিলতার জাল ছিন্ন করে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উজ্জ্বল পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন এবং সফলকাম হয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার ওপর সব চেয়ে বড় আঘাত আসে ওয়ান ইলেভেনের কালে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার খালেদা জিয়া ও  তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ জিয়া পরিবারের ওপর নেমে আসে নির্মম উতপীড়ন-নির্যাতনের ভয়াবহতা। খালেদা জিয়াকে বন্দী করে সাব জেলে নিক্ষেপ করা হয়। দেশ ত্যাগে বাধ্য করতে তার ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করা হয়। তারেক রহমানকে বন্দী করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এই জনপ্রিয়তম নেতাকে হত্যার জন্য পঙ্গু করে দেয়া হয়। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দী করা হয়। চলে নিপীড়ন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার শুরু হয় খালেদা জিয়া-তারেক রহমান ও বিএনপি বিনাশের নীল নকশা। তারই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার বিতর্কিত আদালত কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়াকে কারাবন্দী করেন।সেই থেকে শুরু হয় জেল জীবন। জেলে তাকে বিনা চিকিত্সায় জীবন নাশের উপক্রম করা হয়। প্রায় দুই বছর পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময় পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর দফা-দফায় ছয় মাস করে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সাবেক সরকার। তাকে উন্নত চিকিত্সার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। অত:পর ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পতনকাল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার দুনিয়া কাঁপানো গণ অভ্যূত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়। মুক্ত-সুস্থির জীবন ফিরে পান খালেদা জিয়া। মুক্তি পায় বাংলাদেশ। পরদিন (৬ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। শাসকশ্রেণী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঔজ্জ্বল্য রুখতে অসংখ্য চেষ্টা করেছে। নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে মৃত্যুর মখে নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু যে নামের অর্থই ঔজ্জ্বল্য, তার আবির্ভাবকে রুদ্ধ করা যায় নি। তিনি বারবার দ্যুতি ছড়িয়েছেন। যে ‘বাংলাদেশবাদ’ জিয়া এই জাতিকে দিয়ে গিয়েছেন,সেই দর্শনের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে তার যোগ্যতম উত্তরসূরী  তারেক রহমান আগুয়ান হয়েছেন;জাতিকে বাস্তব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। জাতিও তার উপরে আস্থা রেখেছে নিঃসংকোচে।

বিএনপির কর্মসূচি : খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৫ আগস্ট সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ আগস্ট শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

Share this news as a Photo Card

Generating high-quality image, please wait...
শেখ রিফান আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
উপদেষ্টা সম্পাদক: সৈয়দ সফি উপদেষ্টা ও প্রকাশক: আফরোজা সিদ্দিকা