ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
দুঃশাসন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক বগুড়া-১ আসনে

ধানের শীষের প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকিরের মনোনয়নপত্র জমা

হারুন অর রশিদ, সোনাতলা (বগুড়া)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৩ বার পঠিত
হারুন অর রশিদ, সোনাতলা (বগুড়া): দীর্ঘ দুঃশাসন, ভোটাধিকার হরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এ. কে. এম আহসানুল তৈয়ব জাকির। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুর রহমানের কাছে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী এদিনই ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণটি প্রতিবাদী চেতনায় মুখর হয়ে ওঠে।
এ. কে. এম আহসানুল তৈয়ব জাকির বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনামলে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দায়ের করা অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা ও নির্যাতনের সময়ে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, মামলা-আসামি নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা, হামলায় আহতদের চিকিৎসা এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার গুরুদায়িত্ব তিনি বহন করেছেন।
বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলার তালিকা তদারকি, গোপনে সংগঠন পরিচালনা এবং পুলিশের দমন-পীড়নের মুখেও রাজপথে নেতাকর্মীদের সাহস জোগানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দমন-পীড়নের মধ্যেও সংগঠনকে সচল রাখার কারণেই তিনি তৃণমূলের কাছে একজন পরীক্ষিত ও আপসহীন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের উপ-নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে তিনি জনপ্রিয় ও শক্ত অবস্থানে থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তৎকালীন পরিস্থিতিতে সেই ত্যাগকে বিএনপির ভেতরে দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শিক অবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবার দল সেই ত্যাগের রাজনৈতিক প্রতিদান দিয়েছে বলেই মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, “এই দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত। আওয়ামী দুঃশাসনে মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা মাথা নত করিনি। ইনশাআল্লাহ, যদি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বগুড়া-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের লড়াইয়ে আমি সোনাতলা ও সারিয়াকান্দির প্রতিটি নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে সংসদে কথা বলতে চাই।”
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বগুড়া-১ আসনে আহসানুল তৈয়ব জাকিরের মনোনয়নপত্র দাখিল সরকারবিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি ও প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

দুঃশাসন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক বগুড়া-১ আসনে

ধানের শীষের প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকিরের মনোনয়নপত্র জমা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
হারুন অর রশিদ, সোনাতলা (বগুড়া): দীর্ঘ দুঃশাসন, ভোটাধিকার হরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এ. কে. এম আহসানুল তৈয়ব জাকির। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুর রহমানের কাছে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী এদিনই ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণটি প্রতিবাদী চেতনায় মুখর হয়ে ওঠে।
এ. কে. এম আহসানুল তৈয়ব জাকির বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনামলে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দায়ের করা অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা ও নির্যাতনের সময়ে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, মামলা-আসামি নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা, হামলায় আহতদের চিকিৎসা এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার গুরুদায়িত্ব তিনি বহন করেছেন।
বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলার তালিকা তদারকি, গোপনে সংগঠন পরিচালনা এবং পুলিশের দমন-পীড়নের মুখেও রাজপথে নেতাকর্মীদের সাহস জোগানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দমন-পীড়নের মধ্যেও সংগঠনকে সচল রাখার কারণেই তিনি তৃণমূলের কাছে একজন পরীক্ষিত ও আপসহীন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের উপ-নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে তিনি জনপ্রিয় ও শক্ত অবস্থানে থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তৎকালীন পরিস্থিতিতে সেই ত্যাগকে বিএনপির ভেতরে দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শিক অবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবার দল সেই ত্যাগের রাজনৈতিক প্রতিদান দিয়েছে বলেই মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, “এই দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত। আওয়ামী দুঃশাসনে মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা মাথা নত করিনি। ইনশাআল্লাহ, যদি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বগুড়া-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের লড়াইয়ে আমি সোনাতলা ও সারিয়াকান্দির প্রতিটি নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে সংসদে কথা বলতে চাই।”
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বগুড়া-১ আসনে আহসানুল তৈয়ব জাকিরের মনোনয়নপত্র দাখিল সরকারবিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি ও প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।