রোগীরা অসহায়, সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
- / ৩৭ বার পঠিত

পিরোজপুর অফিস ও নাজিরপুর প্রতিনিধি:: একসময় নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল উপজেলার সাধারণ মানুষের অন্যতম চিকিৎসা ভরসা। তবে বর্তমানে নানা অনিয়ম, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে রোগীরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীদের জন্য এই প্রতিষ্ঠান এখন যেন এক ভোগান্তির কেন্দ্রস্থল। হাসপাতালের মূল ফটক থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিভাগে দালালদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নানা কৌশলে রোগীদের বোঝায়, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট, রিপোর্ট নির্ভরযোগ্য নয়, চিকিৎসাও যথাযথভাবে হয় না। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দ্বিগুণ খরচে সেবা নিতে বাধ্য হন। একজন হতাশ রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম কম খরচে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু দালালরা জোর করে বাইরে নিয়ে গেল। দুই হাজার টাকার পরীক্ষা লিখে দিয়েছে। এত টাকা কোথায় পাবো ? বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।” দালালদের পাশাপাশি, হাসপাতালের ভেতরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও রোগীদের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে তারা রোগী দেখার কাজে বিলম্ব ঘটায়। এতে রোগীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি সেবার মান নিয়েও তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন। স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করছেন, এইসব অনিয়মের কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে প্রাইভেট চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে তাদের জন্য বড় চাপ। নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রেজাউল করিম লিটন বলেন, “দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।” হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক কর্মচারী জানান, দালালদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে রাখতে আমরা নিজেরাও চেষ্টা করি। নাইট গার্ড দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা কথা শোনে না। প্রশাসনকে জানালে তারা মাঝে মাঝে অভিযান চালায়, তবে প্রশাসন চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসে।” উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, “এই সমস্যা শুধু প্রশাসন দিয়ে কন্ট্রোল করা সম্ভব নয়। এটা একটি সামাজিক সমস্যা। সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের হাসপাতালে প্রায় সব ধরনের টেস্ট হয়। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছু রোগী বাইরে যায়। দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ও প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছি।” এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, শিগগিরই দালাল চক্র এবং অনুমোদনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।



















