
এম.জে.এ মামুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করতে গিয়ে নামফলকে নিজের নাম দেখে ভবন উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় ও আয়োজক সূত্রে জানা যায়, রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ভবনের নামফলক উন্মোচনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে সেখানে নিজের নাম দেখতে পান তিনি। এরপর নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ভবন উদ্বোধন না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এ সময় আয়োজকদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের অর্থে নির্মিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করার সংস্কৃতির সঙ্গে তিনি একমত নন। উন্নয়নকাজের স্থাপনার নামফলকে ব্যক্তির প্রচার না করে প্রতিষ্ঠান বা কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পরে ভবনটি উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন সংসদ সদস্য।
ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সাঈদ। তিনি জানান, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নামফলকটি দ্রুত পরিবর্তন করে পুনঃস্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজা ও আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি নতুন বাংলাদেশে দেখতে চান না তিনি। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের স্থাপনার নামফলকে ব্যক্তিবিশেষের নাম না রেখে দেশের নাম বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক তথ্য রাখার পক্ষে তিনি।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তাঁর নির্বাচনী এলাকার কোনো উন্নয়নকাজের নামফলকে তাঁর নাম ব্যবহার না করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে ব্যক্তিনির্ভর প্রচার ও নামফলক সংস্কৃতি নিয়ে সংসদ সদস্যের অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 











