ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

পরিবেশ রক্ষায় সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আকতার হোসেন, সাভার ( ঢাকা )
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:২৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪৫ বার পঠিত
পরিবেশ দূষণ রোধে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠন। বাড়ি বাড়ি থেকে সংগৃহীত বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখছেন, তেমনি তৈরি করছেন নতুন সম্ভাবনা। তবে এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন তারা, যার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সংগঠন নেতৃবৃন্দ।
সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ সুলতান শেখ জানান, তাদের কর্মীরা প্রতিটি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেন। উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো আলাদা করে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়। বাকি বর্জ্য শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যাতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে। এই অভিনব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে যেমন কমছে বর্জ্যের পরিমাণ, তেমনি তা সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে।তবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্জ্য পোড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে একটি নির্দিষ্ট জায়গার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানোর ফলে পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। একটি নির্দিষ্ট স্থান পেলে তারা আরও কার্যকরভাবে ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন বলে জানান সুলতান শেখ।
এর পাশাপাশি সুইপার সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সামাজিক বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সমাজে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে এখনও নিচু চোখে দেখা হয়, যার ফলে তাদের সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করানো বা পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সাভার উপজেলার মধ্যে সরকারি উদ্যোগে একটি সুইপার কলোনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, একটি নির্দিষ্ট কলোনিতে বসবাসের সুযোগ পেলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং সন্তানদের শিক্ষিত করে মূলধারার পেশায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
সংগঠনের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, তারা স্থানীয় দালাল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কঠোর পরিশ্রম করেও যথাযথ পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাদের জীবনধারণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই সমস্যা সমাধানেও তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।পরিবেশ রক্ষা এবং নিজেদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠনের এই লড়াই নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সফল করতে এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

পরিবেশ রক্ষায় সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:২৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
পরিবেশ দূষণ রোধে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠন। বাড়ি বাড়ি থেকে সংগৃহীত বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখছেন, তেমনি তৈরি করছেন নতুন সম্ভাবনা। তবে এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন তারা, যার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সংগঠন নেতৃবৃন্দ।
সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ সুলতান শেখ জানান, তাদের কর্মীরা প্রতিটি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেন। উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো আলাদা করে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়। বাকি বর্জ্য শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যাতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে। এই অভিনব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে যেমন কমছে বর্জ্যের পরিমাণ, তেমনি তা সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে।তবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্জ্য পোড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে একটি নির্দিষ্ট জায়গার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানোর ফলে পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। একটি নির্দিষ্ট স্থান পেলে তারা আরও কার্যকরভাবে ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন বলে জানান সুলতান শেখ।
এর পাশাপাশি সুইপার সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সামাজিক বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সমাজে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে এখনও নিচু চোখে দেখা হয়, যার ফলে তাদের সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করানো বা পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সাভার উপজেলার মধ্যে সরকারি উদ্যোগে একটি সুইপার কলোনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, একটি নির্দিষ্ট কলোনিতে বসবাসের সুযোগ পেলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং সন্তানদের শিক্ষিত করে মূলধারার পেশায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
সংগঠনের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, তারা স্থানীয় দালাল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কঠোর পরিশ্রম করেও যথাযথ পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাদের জীবনধারণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই সমস্যা সমাধানেও তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।পরিবেশ রক্ষা এবং নিজেদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাভার সুইপার জনকল্যাণ সংগঠনের এই লড়াই নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সফল করতে এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।