ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
গ্রামীণ আবহ আর কারুপণ্যের সম্ভার নিয়ে চলছে বৈশাখী মেলা
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন
বরেণ্য গীতিকবি,সুরকার,লেখক ও সংগীত গুরু ইউনুস আলী মোল্লার
পরীক্ষার খাতায় পরিচয় থাকায় পছন্দের শিক্ষার্থীদের চেনা যাচ্ছে

প্রতিবেদক
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:১৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫
- / ৪৪ বার পঠিত

সাব্বির হোসেন, কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিডটার্ম ও চূড়ান্ত পরীক্ষার উত্তরপত্রে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন। পরীক্ষার খাতায় এ তথ্য উল্লেখ থাকার কারণে শিক্ষকেরা সহজেই খাতার মালিক চিহ্নিত করতে পারছেন, যা পরীক্ষার ফলাফলে পক্ষপাতমূলক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর খাতার কভার পৃষ্ঠায় লিখতে হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষার উত্তরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থীদের জন্য দেয়া নির্দেশিকায় এ নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা খাতায় এ তথ্য উল্লেখ করতে বাধ্য হন। অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, খাতায় পরিচয় প্রকাশিত হওয়ায় শিক্ষকরা কার খাতা দেখছেন তা সহজেই বুঝতে পারেন, যা তাদের নম্বর প্রদান প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। একাধিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত রাগ বা পক্ষপাত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের রোল নম্বর থাকায় শিক্ষক সহজেই আমাদের শনাক্ত করতে পারেন। এতে কেউ ভালো লিখেও কম নম্বর পায়, আবার কেউ খারাপ লিখেও বেশি নম্বর পায়।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, “আমাদের একজন শিক্ষক একবার ক্লাসে বলেছিলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থীর খাতা দেখলে নিজ থেকেই বেশি নম্বর দিতে ইচ্ছে করে।’এভাবে যদি শিক্ষকরা বলে তাহলে এ নিয়ম থাকার কোনও অর্থ নেই।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উত্তরপত্রে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাখার বিপক্ষে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরীক্ষার খাতায় পরিচয় সনাক্ত করার প্রক্রিয়া না থাকাই ভালো। এতে করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হতে পারে। তবে শিক্ষকদের কেউ কেউ মনে করেন তাদের উত্তরপত্র দেখার সময় কোনও রকম প্রভাব পড়েনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে যদি শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়, তাহলে আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ম পরিবর্তন করব। আমরা চাই, উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রক্রিয়াটি আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ হোক। এজন্য একটি ইউনিক কোড ব্যবহারের মাধ্যমে উত্তরপত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে এ ধরনের জটিলতা দূর হয়।” তিনি বলেন, “মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের কাছে সকল শিক্ষার্থীই সমান। ফলে এখানে পক্ষপাতের সুযোগ থাকার কথা নয়। তবে প্রশাসন যদি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা মনে করে এবং আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমি অবশ্যই পরিবর্তনে সম্মত। বিষয়টি নিয়ে আমরা আগেও চিন্তা করেছিলাম, তবে আগের উপাচার্য থাকাকালীন এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।” বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও জানান, পরীক্ষার খাতায় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পরিবর্তে বিকল্প পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে। খাতার পরিচয় সনাক্তকরণের জন্য প্রতিটি খাতায় একটি নির্দিষ্ট ইউনিক নম্বর প্রদান করা হবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর খাতার সঠিক সনাক্তকরণে কোনো সমস্যা হবে না। শিক্ষার্থীরা বলছেন, পরীক্ষার খাতায় এমন কোনো পরিচয় উল্লেখের ব্যবস্থা যেন না থাকে, যেটা ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন:



















