
মজনু মিয়া,গাইবান্ধা: ময়মন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতঙ্কে ১০৩ শিক্ষার্থী, যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ময়মন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। কয়েক মাস আগেই ভবনটিকে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে বাধ্য হয়েই ওই ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের একতলা পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বিম ও স্তম্ভে কলামে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিমের পলেস্তারা খসে পড়ে মরিচা ধরা রড বের হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারাও খসে পড়ছে। ভবনের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
জানা গেছে, ১৯৭২ সালে নির্মিত বিদ্যালয় ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক মাস আগে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মামুন অর রশিদ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। এরপরও বিকল্প পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দুটি কক্ষ এবং বিদ্যালয়ের বাইরের একটি টিনশেড কক্ষে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি হলে পুরোনো ভবনের ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। বিভিন্ন সময় ছাদ ও বিমের পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়। ক্লাস চলাকালে হঠাৎ কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা নিয়েই তাদের পাঠ নিতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে নিয়মিত ও স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠাতে গিয়ে তারা আতঙ্কে থাকেন। নিরাপদ পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, ভবনটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভবনের বিম, কলাম ও ছাদের অবস্থা দেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারাও শঙ্কিত। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা বলেন, বিদ্যালয়ের একতলা ভবনে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিসকক্ষ রয়েছে। ভবনের বিম ও স্তম্ভে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত সেখানে একটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী শ্রেণিকক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি। অথচ পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্ক বিরাজ করছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
প্রশ্ন উঠেছে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ভবনে আর কতদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলবে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান?

মজনু মিয়া,গাইবান্ধা 



















