ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পাকশী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ 

বিশেষ প্রতিনিধি নাটোর
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৮ বার পঠিত
বিশেষ প্রতিনিধি নাটোর: পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা কার্যালয় যেন দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কার্যালয়ে পিয়ন থেকে শুরু করে  ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন গোপালপুর বাজার থেকে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সড়কের দক্ষিণ পাশে আব্দুস সামাদের নামে ২৪০ বর্গ ফুট জমি রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়ে দুই টি সেমিপাকা দোকান করেন আব্দুস সামাদ‌। তার দুই ছেলে নিয়ামুল ও এনামুল দুইটি দোকান ভোগ করতেন।  এনামুল পাকশী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেন যে ২৪০ বর্গফুট লিজ নেওয়া জমি তার দখলে আছে।  তিনি আবেদনের সাথে তার বাবা সামাদ সরকার স্ট্যাপের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে এনামুল কে হস্তান্তর করেছেন। বিধি মোতাবেক রেলওয়ে জমির  হস্তান্তর করা নিষেধ আছে। এছাড়া সামাদ সরকার ২০০৮ সালে জমিটি লিজ নিয়ে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করেন। তিনি ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।  ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পাকশী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এনামুল সরকার ২৪০ বর্গফুট জায়গা তার দখলে আছে বলে নাম পরিবর্তনের আবেদন করেন। কিন্তু তার বড় ভাই নিয়ামুল সরকারের দখলে ১২০ বর্গফুট জায়গা একটি দোকান আছে। বিষয়টি জানা জানি  হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও ঈশ্বরদীর সাংবাদিকরা নিয়ামুলের পক্ষ নিয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের নিকট জানান। বিষয়টি কয়েক দফা শুনানি শেষে দীর্ঘদিন খাজনা পরিশোধ না করায় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম লিজ বাতিল ও  খাজনার টাকা আদায়ের জন্য জন্য মৃত সামাদ সরকারের ওয়ারিশগণের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলার নির্দেশ দেন এবং রেলওয়ে জমি হেফাজতে নিয়ে দোকান দুই টি সিলগালা করে দেয়। ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার শফিকুল ইসলাম রেলওয়ে ২৪০ বর্গফুট জমি নতুন ভাবে লিজ দেওয়ার জন্য মৌখিক ভাবে ঘোষণা দেন। পরে সৈয়দা আয়েশা সিদ্দিকা এবং রাবেয়া খাতুন নামের দুই জন জমি লিজ নেওয়ার জন্য পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন বলে জানা গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা যায় সিলগালা করা দোকান দুই টি খুলে দেওয়া হয়েছে। দোকান দুইটি মৃত সামাদ সরকারের ছেলে নিয়ামুল ও এনামুলের নামে অনিয়ম এবং উৎকোচের বিনিময়ে লিজ দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।  এবিষয়ে মৃত সামাদ সরকারের ছেলে নিয়ামুল সরকারের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে সৈয়দা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, আমি রেলওয়ের ১২০ বর্গফুট জমি লিজ নেওয়ার জন্য পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি‌ । এবিষয়ে স্থানীয় মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শাহ আলম সেলিম বলেন, পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন নির্বাচনের পর জমি লিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো। এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না বলেন, রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম অনিয়ম ও দুর্নীতির করে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন গোপালপুর রেলওয়ে জমি লিজ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেলওয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এবিষয়ে পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলামের মুঠো মুঠো একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

পাকশী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি নাটোর: পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা কার্যালয় যেন দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কার্যালয়ে পিয়ন থেকে শুরু করে  ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন গোপালপুর বাজার থেকে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সড়কের দক্ষিণ পাশে আব্দুস সামাদের নামে ২৪০ বর্গ ফুট জমি রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়ে দুই টি সেমিপাকা দোকান করেন আব্দুস সামাদ‌। তার দুই ছেলে নিয়ামুল ও এনামুল দুইটি দোকান ভোগ করতেন।  এনামুল পাকশী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেন যে ২৪০ বর্গফুট লিজ নেওয়া জমি তার দখলে আছে।  তিনি আবেদনের সাথে তার বাবা সামাদ সরকার স্ট্যাপের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে এনামুল কে হস্তান্তর করেছেন। বিধি মোতাবেক রেলওয়ে জমির  হস্তান্তর করা নিষেধ আছে। এছাড়া সামাদ সরকার ২০০৮ সালে জমিটি লিজ নিয়ে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করেন। তিনি ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।  ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পাকশী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এনামুল সরকার ২৪০ বর্গফুট জায়গা তার দখলে আছে বলে নাম পরিবর্তনের আবেদন করেন। কিন্তু তার বড় ভাই নিয়ামুল সরকারের দখলে ১২০ বর্গফুট জায়গা একটি দোকান আছে। বিষয়টি জানা জানি  হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও ঈশ্বরদীর সাংবাদিকরা নিয়ামুলের পক্ষ নিয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের নিকট জানান। বিষয়টি কয়েক দফা শুনানি শেষে দীর্ঘদিন খাজনা পরিশোধ না করায় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম লিজ বাতিল ও  খাজনার টাকা আদায়ের জন্য জন্য মৃত সামাদ সরকারের ওয়ারিশগণের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলার নির্দেশ দেন এবং রেলওয়ে জমি হেফাজতে নিয়ে দোকান দুই টি সিলগালা করে দেয়। ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার শফিকুল ইসলাম রেলওয়ে ২৪০ বর্গফুট জমি নতুন ভাবে লিজ দেওয়ার জন্য মৌখিক ভাবে ঘোষণা দেন। পরে সৈয়দা আয়েশা সিদ্দিকা এবং রাবেয়া খাতুন নামের দুই জন জমি লিজ নেওয়ার জন্য পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন বলে জানা গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা যায় সিলগালা করা দোকান দুই টি খুলে দেওয়া হয়েছে। দোকান দুইটি মৃত সামাদ সরকারের ছেলে নিয়ামুল ও এনামুলের নামে অনিয়ম এবং উৎকোচের বিনিময়ে লিজ দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।  এবিষয়ে মৃত সামাদ সরকারের ছেলে নিয়ামুল সরকারের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে সৈয়দা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, আমি রেলওয়ের ১২০ বর্গফুট জমি লিজ নেওয়ার জন্য পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি‌ । এবিষয়ে স্থানীয় মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শাহ আলম সেলিম বলেন, পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন নির্বাচনের পর জমি লিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো। এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না বলেন, রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম অনিয়ম ও দুর্নীতির করে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন গোপালপুর রেলওয়ে জমি লিজ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেলওয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এবিষয়ে পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলামের মুঠো মুঠো একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।