ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
প্রচন্ড গরম আর খড়ার তাপে হাঁপিয়ে উঠছে খেটে খাওয়া মানুষ

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
- / ৭১ বার পঠিত

গেল বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড গড়েছিল খুলনা বিভাগ এবারও মৌসুম শুরুতেই যেন গরমের তপ্ত হাওয়া চোখ রাঙ্গাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরে খুলনা বিভাগে ক্রমশ্য তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে পাশাপাশি সাথে ভ্যাপসা গরমের তাপাদাহ দীর্ঘমেয়াদের দুঃসংবাদের আভাস দিয়েছে খুলনার আবহাওয়া অধিদপ্তর।হটাৎ করে গরম এতটাই উগ্ররূপ ধারণ করেছে যে কোথাও একটু বাতাস নাই উত্তপ্ত দাবাদহ ভ্যাসা গরমে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার উপায় নাই সাথে প্রখর রোদে পুড়ছে সারা দেশের সাথে দক্ষিণাঞ্চল খুলনা।
হাসফাস করছে মানুষ তেঁতে উঠেছে প্রাণীকূল রোদের তাপে গলছে সড়কের পিঁচ, খাল, বিল, মাঠ ফেটে চৌচির আর কাঠফাঁটা প্রখর রোদ্রের উত্তপ্ত গাত্রদহে খাল ও নদীর পানিতে গবাদি পশু গরু মহিষ এমন কি কুকুর পর্যন্ত শরীর ভিজিয়ে একটু স্বস্তি খুঁজছে । এদিকে অন্যান্য প্রাণীকুল পানির অভাবে রয়েছে মৃত্যুর ঝুঁকিতে অপরদিকে অস্বাভাবিক গরমের প্রভাবে নগরীর অধিকাংশ সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল গুলোতে ভর্তি হচ্ছে হিট স্ট্রোক, পানি শূন্যতা, পাতলা পায়খানা, জ্বর, আমাশা, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও দাস্তো রোগী, আর অধিক গরমে সব থেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ব্লাড প্রেসার হাই প্রেসার ওজন ভারি মানুষেরা, সাথে শিশুরাও রয়েছে ঝুঁকিতে।
প্রতিনিয়ত এই শ্রেণীর মানুষেরাই ভর্তি হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিক ও সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে।
ফলে হাসপাতাল গুলোতে রোগীধারণের তিল পরিমানে ঠাঁই নাই।
আর এ সকল রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। আবার অপরদিকে সুযোগ বুঝে দাম বেড়েছে স্যালাইনের এবং সংকট দেখা দিয়েছে গরম জনিত রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের। সাথে পাল্লা দিয়ে দাম হাঁকিয়ে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডাব ও ঠান্ডা জাতীয় ফল।
তবে ঈদুল ফিতরের সিয়াম সাধনার মাস জুড়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে গরমের উত্তাপ না থাকলেও মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে অসহ্য প্রখর রোদ্রের উত্তাপ সাথে গরমের উত্তপ্ত আভা ক্রমান্বয় বেড়েই চলেছে তার মধ্য মরার উপর খরার ঘা বৈদ্যুতিক লোডশেডিং তো রয়েছেই মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ আসলেও বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস শরীরে অনুভবই হয় না সারারাত গরমে ছটফট করতে হয় ঘুম আসে না পাশাপাশি মশার উপদ্রব কোন অংশেই কম না।
এদিকে আবার আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ এমন কি মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তবে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে দেশের বেশ কিছু স্থানে বৃষ্টিও কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা কমছে না ।
সবকিছু মিলে জনজীবন একেবারেই অতিষ্ঠ অসহ্য গরম আর রোদের উত্তাপে দগ্ধিত হয়ে উপার্জন করতে পারছে না রিক্সাওয়ালা ও দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষেরা পর্যাপ্ত গরম ঘাম আর প্রখর রৌদ্রের তাপে একাকার হয়ে এ সকল মানুষেরা সামান্য পরিশ্রম করেই কেউ নদীর পারে আবার কেউ গাছের ছায়া খুজে ক্লান্ত হয়ে হাপাচ্ছে ফলে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে তাদের ।
পাশাপাশি গরমের উত্তাপে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরুতেই সাহস পাচ্ছে না ফলে রাস্তাঘাট হাঁট বাজার মার্কেট শপিংমল ও অন্যান্য জায়গায় জনসমাগম খুবই কম একইসাথে রোদ্রের উত্তাপে গাছপালা ও সবুজ বনায়ন শুকিয়ে নেতিয়ে পড়েছে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলছে খুলনা বিভাগে তবে ১০ জেলার সব থেকে বেশি তাপমাত্রা বইছে চুয়াডাঙ্গা জেলায়।
গরমে সাধারণ মানুষ যাতে হিট স্টকের ঝুঁকিতে না থাকে সে লক্ষ্যে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে সকল শ্রেণির মানুষদের ছায়াস্থানে থাকতে এবং বেশি বেশি পানি খাবার স্যালাইন তরল জাতীয় খাবার ও ডাবের পানি পান করা পরামর্শ দিয়েছেন।
আবার এরই মধ্যো গেল একশ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পূর্বাভাসের আগাম বার্তা দিয়ে দুঃসংবাদ জানিয়েছেন দেশের জৈষ্ঠ আবহাওয়াবিদরা।
তারই ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেছেন এশিয়া মহাদেশের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ বছরের সকল ধরনের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি প্রতিকূল অবস্থার রয়েছে একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনে অধিক উষ্ণতা অপরদিকে সবুজ বনাঞ্চলের প্রাচীন আমলের বৃক্ষনিধন দিন দিন মাঠঘাট সবুজ হারিয়ে গড়ে উঠছে বহুতল বিশিষ্ট বাড়িঘর এবং অসংখ্য শিল্পকল কারখানা ফলে গ্রীষ্মের রোদ্রু ঠেকিয়ে ছায়া দানকারী বৃক্ষ উজার হয়ে গেছে অসৎ ব্যবসায়ীদের গ্রাসে।
ফলে দিন দিন আবহাওয়ার প্রতিকূল উত্তপ্ত বৈরী আচরণ ঝড়ঝঞ্জা জলোচ্ছ্বাস অনাবৃষ্টি খড়া এবং ঋতু পরিবর্তনের বাধার সন্মুখিন হতেই হবে। আর এ সকল প্রতিকূলতার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে পরিকল্পনামাফিক দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে এবং বিলীন হয়ে যাওয়া নদী খাল ও হাওর খনন করে পানি সরবরাহর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে তা না হলে রবি শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে অশনি সংকেত বয়ে আসবে। এর ফলে দেশ পড়বে খাদ্য সংকটে সরকার হারাবে রাজস্ব।
আরও পড়ুন:


















