ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেই সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম 

মোঃ শহীদুল ইসলাম
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৮৮ বার পঠিত
বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেই সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। মধু আহরণে সুন্দরবনে যাওয়ার আগমুহূর্তে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসসংলগ্ন ঘাটে অপেক্ষমাণ মৌয়ালদের নৌকা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে বাগেরহাটের পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই বন অফিস থেকে মধু আহরণের অনুমতিপত্র (পাস) দেওয়া শুরু হয়। প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণ শুরু হলেও, এবার ঈদুল ফিতরের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে  নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা শুরু হওয়ায় এবং অপহরণের ভয়ে মধু আহরণে মৌয়ালদের আগ্রহ অনেকটাই কম। এর মাঝে আবার বনদস্যুদের ভয়ে লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না মধু ব্যবসায়ীরাও। ফলে এবার মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেকটা কম বলে জানিয়েছে সুন্দরবন বিভাগ। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে সুন্দরবনে মধু আহরণ।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস জানায়, এবছর মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেক কম। প্রথম দিনে মাত্র ১৮টি নৌকা মধু আহরণের জন্য পাস নিয়েছে, যেখানে গত বছর ৩৩টি নৌকা পাস নিয়েছিল। পাসের সংখ্যা আশানুরূপ না হলে, মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বন বিভাগ। একই অবস্থা চাঁদপাই রেঞ্জেও। সেখানে প্রথম দিনে মাত্র ৯টি নৌকা পাস নিয়েছে। মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনে নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা শুরু হওয়ায়, অনেকেই এবার মধু আহরণে যাবেন না। বনদস্যুর হাতে অপহৃত হলে মুক্তিপণ হিসেবে দুই-তিন লাখ টাকা দিতে হয়। এ কারণে এবার অনেক মৌয়াল নৌকার পাস নেননি।
মধু ব্যবসায়ী খেলাফত হোসেন, আদুর রহিম, মো. রাসেল আহমেদ, রিপন বয়াতী ও মনিরুজ্জামান জানান, ২০১৮ সালে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর সুন্দরবনে নির্ভয়ে মধু আহরণ করে আসছিলেন মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবীরা। কিন্তু কয়েক মাস আগে কয়েকটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
নতুন করে সুন্দরবনে বনদস্যু তৎপরতা শুরু হওয়ায়, এখন বনে ঢুকলেই চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা দিতে না পারলে বনজীবীদের অপহরণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব বলেন, ‘এবার সুন্দরবনে নতুন করে বনদস্যু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কোনো নৌকা যদি বনদস্যুদের কবলে পড়ে, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বন অফিসে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে সুন্দরবনে মধু আহরণ।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেই সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেই সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। মধু আহরণে সুন্দরবনে যাওয়ার আগমুহূর্তে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসসংলগ্ন ঘাটে অপেক্ষমাণ মৌয়ালদের নৌকা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে বাগেরহাটের পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই বন অফিস থেকে মধু আহরণের অনুমতিপত্র (পাস) দেওয়া শুরু হয়। প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণ শুরু হলেও, এবার ঈদুল ফিতরের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে  নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা শুরু হওয়ায় এবং অপহরণের ভয়ে মধু আহরণে মৌয়ালদের আগ্রহ অনেকটাই কম। এর মাঝে আবার বনদস্যুদের ভয়ে লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না মধু ব্যবসায়ীরাও। ফলে এবার মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেকটা কম বলে জানিয়েছে সুন্দরবন বিভাগ। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে সুন্দরবনে মধু আহরণ।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস জানায়, এবছর মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেক কম। প্রথম দিনে মাত্র ১৮টি নৌকা মধু আহরণের জন্য পাস নিয়েছে, যেখানে গত বছর ৩৩টি নৌকা পাস নিয়েছিল। পাসের সংখ্যা আশানুরূপ না হলে, মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বন বিভাগ। একই অবস্থা চাঁদপাই রেঞ্জেও। সেখানে প্রথম দিনে মাত্র ৯টি নৌকা পাস নিয়েছে। মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনে নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা শুরু হওয়ায়, অনেকেই এবার মধু আহরণে যাবেন না। বনদস্যুর হাতে অপহৃত হলে মুক্তিপণ হিসেবে দুই-তিন লাখ টাকা দিতে হয়। এ কারণে এবার অনেক মৌয়াল নৌকার পাস নেননি।
মধু ব্যবসায়ী খেলাফত হোসেন, আদুর রহিম, মো. রাসেল আহমেদ, রিপন বয়াতী ও মনিরুজ্জামান জানান, ২০১৮ সালে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর সুন্দরবনে নির্ভয়ে মধু আহরণ করে আসছিলেন মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবীরা। কিন্তু কয়েক মাস আগে কয়েকটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
নতুন করে সুন্দরবনে বনদস্যু তৎপরতা শুরু হওয়ায়, এখন বনে ঢুকলেই চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা দিতে না পারলে বনজীবীদের অপহরণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব বলেন, ‘এবার সুন্দরবনে নতুন করে বনদস্যু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কোনো নৌকা যদি বনদস্যুদের কবলে পড়ে, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বন অফিসে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে সুন্দরবনে মধু আহরণ।