বাগেরহাটে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর অভিযোগ

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৫৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / ২১ বার পঠিত

শহীদুল ইসলাম সোহাগ, বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও পাল্টা বক্তব্য পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী দাবী- ২০২১ সালে মাহমুদ স্যার নতুন যোগদানের পর একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে সমাধান হয়। এরপর এ ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি বলেও উল্লেখ করে তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে যে অভিযোগগুলো দিয়ে স্যারকে হয়রানি করা হচ্ছে, সেগুলো সাম্প্রতিককালের কোন ঘটনা নয় এবং বাস্তবতার সাথে কোন মিল নেই। তারা আরও জানায়, স্যার আমাদের সন্তানসম দৃষ্টিতে দেখেন, তার আচরণে আমরা সন্তুষ্ট।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান শিক্ষক তাদের কক্ষে ডেকে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্য লিখিত আকারে দিতে বলেন। তা না হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে চাপে পড়ে ও হতাশ হয়।
এদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। দীর্ঘদিন ধরে একসাথে কাজ করা শিক্ষক-শিক্ষিকা তার আচরণে সন্তুষ্ট বলে জানান। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের সাথে কম্পিউটার ল্যাপটপ সহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ক্রয় ও বিল ভাউচার নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই থেকেই শিক্ষক মাহবুবুর রহমান চাপে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রধান শিক্ষক ও সরদার মাহবুবুর রহমানের সাথে বাক বিতান্ড হয়। তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে পুরনো ঘটনাটি নতুন করে প্রচার করে তাকে হয়রানি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
শিক্ষক কর্মচারীদের মাধ্যমে আরো জানা গেছে, সরদার মাহবুবুর রহমান সর্বদা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে থাকেন। প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগ সাজসে বিদ্যালয় এর বাইরের আরেকটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে সরদার মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাকে নিয়ে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার মতবিরোধ হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কেউ এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না।” তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক দাস অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন আমাকে শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য নিতে বলেছে। আমার সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা নেই। আমরা চাই বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকুক।



















