
মজনু মিয়া, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা শহরের বাংলা বাজার পুরাতন সরকারি কোয়ার্টার ভবনের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে অনুমোদন, সরকারি জায়গা ব্যবহারের শর্ত এবং মেলার প্রকৃত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুমোদনপ্রাপ্ত আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার সার্বিক পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিযোগকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বাজার পুরাতন সরকারি কোয়ার্টার ভবনের মাঠটি সরকারি সম্পত্তি। সেখানে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, সরকারি জায়গা ব্যবহারের শর্ত এবং অনুমোদনপত্রে উল্লেখিত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মেলার অনুমোদন যদি কোনো চেম্বার অব কমার্স বা নির্দিষ্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বাস্তবে মেলার সার্বিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মেলার আয়োজনের দায়িত্ব বা অনুমোদন কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অনুমতি-সংক্রান্ত সরকারি সেবা ও মেলা পরিপত্র প্রকাশিত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মবণ্টনেও দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অনুমতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে। ফলে গাইবান্ধায় আয়োজিত এ মেলার অনুমোদন ও শর্তাবলি যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছ
তবে মেলার স্টল নির্মাণ, সাজসজ্জা, বিদ্যুৎ, সাউন্ড, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজের জন্য ঠিকাদার বা ভেন্ডর নিয়োগ করা হয়ে থাকলে তা মেলার সার্বিক দায়িত্ব বা নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে অনুমোদনপত্র, চুক্তিপত্র, শর্তাবলি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি জায়গায় মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতি ও নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন, অনুমোদনপত্র যাচাই এবং মেলার প্রকৃত ব্যবস্থাপনা কাঠামো খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

মজনু মিয়া, গাইবান্ধা 



















