ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

বিদেশি ঋণ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করল নগর ভবন

বিপ্লব সাহা, খুলনা:   দীর্ঘ ১৭ বছর পর একনায়ক তন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে কোন বিদেশি ঋণ সহযোগিতা ছাড়া
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই বাজেট ঘোষণা করেন।
প্রস্তাবিত এ বাজেটে রাজস্ব তহবিলের সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা। অনুরূপভাবে সরকারি অনুদান দ্বিতীয় অংশে ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। উন্নয়ন খাতে বিশেষ প্রকল্পে ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিগত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমত্রা ছিলো ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সংশোধিত আকারে দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকা।

নিজস্ব তহবিলের অর্জনের হার ৭১.৭০ শতাংশ এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্জনের হার ৩৮.৫২ শতাংশ।
বাজেট ঘোষণাকালে বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, বাজেটে এবারও নতুন কোন কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সকল স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে করধার্য্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এটি একটি উন্নয়নমূখী বাজেট। বাজেটে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন, ধর্মীয় উপাসনালয়-পার্ক-বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কেসিসি’র বিভিন্ন দপ্তর আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

কেসিসি প্রশাসক জানান, কেসিসির সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নিজস্ব তহবিল হতে বিভিন্ন উন্নয়নখাতে মোট ৭৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্তখাত, বিএমডিএফ, অবকাঠামো নির্মাণ, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সমাজ কল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি ও কঞ্জারভেন্সিখাত মিলিয়ে মোট ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণখাতে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং মূলধনখাতে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে এডিপির জন্য থোক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা, উক্ত বরাদ্দ হতে পূর্ত খাতে ৯২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভেটেরিনারি খাতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও কঞ্জারভেন্সি খাতে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাজেটে এসব প্রকল্পে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা, হেলদি সিটি খুলনা আরবান লিড প্রোগ্রামে ১৩ লাখ টাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবিলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নগর অঞ্চল প্রকল্প-২ এ ২০ কোটি টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা, ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ এডাপটেশন আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২ এ ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা, কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্পে ১৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, স্মার্ট ওয়াশ ইনিশিয়েটিভ বাই ইউনিসেফ প্রকল্পে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, লিভেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিটিস ফর অল প্রকল্পে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রিজিওনাল আরবান টিউটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২,২৫৫ কোটি ১ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণে ৪১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেট অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।

এ সময় ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কেসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

বাঘায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক

16 September 2026

সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

বিদেশি ঋণ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করল নগর ভবন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপ্লব সাহা, খুলনা:   দীর্ঘ ১৭ বছর পর একনায়ক তন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে কোন বিদেশি ঋণ সহযোগিতা ছাড়া
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই বাজেট ঘোষণা করেন।
প্রস্তাবিত এ বাজেটে রাজস্ব তহবিলের সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা। অনুরূপভাবে সরকারি অনুদান দ্বিতীয় অংশে ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। উন্নয়ন খাতে বিশেষ প্রকল্পে ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিগত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমত্রা ছিলো ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সংশোধিত আকারে দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকা।

নিজস্ব তহবিলের অর্জনের হার ৭১.৭০ শতাংশ এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্জনের হার ৩৮.৫২ শতাংশ।
বাজেট ঘোষণাকালে বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, বাজেটে এবারও নতুন কোন কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সকল স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে করধার্য্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এটি একটি উন্নয়নমূখী বাজেট। বাজেটে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন, ধর্মীয় উপাসনালয়-পার্ক-বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কেসিসি’র বিভিন্ন দপ্তর আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

কেসিসি প্রশাসক জানান, কেসিসির সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নিজস্ব তহবিল হতে বিভিন্ন উন্নয়নখাতে মোট ৭৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্তখাত, বিএমডিএফ, অবকাঠামো নির্মাণ, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সমাজ কল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি ও কঞ্জারভেন্সিখাত মিলিয়ে মোট ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণখাতে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং মূলধনখাতে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে এডিপির জন্য থোক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা, উক্ত বরাদ্দ হতে পূর্ত খাতে ৯২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভেটেরিনারি খাতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও কঞ্জারভেন্সি খাতে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাজেটে এসব প্রকল্পে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা, হেলদি সিটি খুলনা আরবান লিড প্রোগ্রামে ১৩ লাখ টাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবিলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নগর অঞ্চল প্রকল্প-২ এ ২০ কোটি টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা, ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ এডাপটেশন আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২ এ ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা, কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্পে ১৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, স্মার্ট ওয়াশ ইনিশিয়েটিভ বাই ইউনিসেফ প্রকল্পে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, লিভেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিটিস ফর অল প্রকল্পে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রিজিওনাল আরবান টিউটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২,২৫৫ কোটি ১ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণে ৪১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেট অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।

এ সময় ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কেসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন

Share this news as a Photo Card