
শেখ রিফান আহমেদ : আজ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং (মঙ্গলবার) বিশ্ব চিঠি দিবস। নব্বই দশক শুরুর সময়েও আমরা একে অন্যদের সাথে তথ্য আদান প্রদান, খোঁজ খবর নেওয়া কিংবা যোগাযোগ করতে চিঠি লিখতাম। একটি ছোট্ট চিঠি হয়তো কয়েক মিনিটেই লেখা যেত, আবার এই সকল চিঠির মধ্যে সকল চিঠি যে খুবই গুরুত্ব বহন করতো তাও নয়, তবে এরই মাঝে হয়তো কোন কোন চিঠি কারও কাছে বছরের পর বছর স্মৃতি হয়ে থাকতো। বাংলা সাহিত্য ও সমাজের ইতিহাসেও চিঠির গুরুত্ব অসাধারণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিপত্র, শরৎচন্দ্র, কাজী নজরুল ইসলামসহ বহু সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত চিঠি আজ সাহিত্য ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় এখন ই-মেইল, SMS, Messenger, WhatsApp ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে একজনের সাথে অন্যজনের যোগাযোগ এখন মুহূর্তের ব্যাপার।
ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ার লেখক ও ফটোগ্রাফার Richard Simpkin মানুষের হাতে লেখা চিঠির ব্যক্তিগত মূল্য ও আবেগকে সামনে আনতে এবং মানুষের মধ্যে চিঠি লেখার পুরোনো ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সংস্কৃতিকে স্মরণ ও পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হন এবং প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্ব চিঠি দিবস (World Letter Writing Day). তবে এটি জাতিসংঘ বা ইউনেস্কো ঘোষিত কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস নয়—এটি একটি বেসরকারি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো—ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে হারিয়ে যেতে বসা হাতে লেখা ব্যক্তিগত চিঠি লেখার অভ্যাসকে আবার জনপ্রিয় করে তোলা। বিশ্ব চিঠি দিবস সেই ব্যক্তিগত ও মানবিক যোগাযোগের মূল্য স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই দিবসটি উপলক্ষে মানুষ প্রিয়জন, বন্ধু, শিক্ষক কিংবা দূরে থাকা কারও উদ্দেশে নিজের হাতে একটি চিঠি লেখার মাধ্যমে পুরোনো এই যোগাযোগের সংস্কৃতিকে উদযাপন করে। তবে চিঠির ইতিহাস অবশ্য বিশ্ব চিঠি দিবসের চেয়ে বহু পুরোনো। মানুষের লিখিত যোগাযোগের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হলো প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার মাটির ফলকে লেখা বার্তা ও চিঠি। পরবর্তীকালে মিশর, গ্রিস, রোমসহ বিভিন্ন সভ্যতায় চিঠি প্রশাসন, ব্যবসা, যুদ্ধ, ধর্ম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই আসুন, আজকে আমরাও আমাদের প্রিয়জনকে উদ্দেশ্য করে একটি ছোট্ট চিঠি লিখে উদযাপন করি বিশ্ব চিঠি দিবস।
-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 

























