ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহে ক্ষমতাশালী পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
  • / ১০৭ বার পঠিত

ময়মনসিংহের মাসকান্দায় একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই পরিবার সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের নীরবতায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জনগণ প্রশ্ন তুলেছে—এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দেরি কেন? ক্ষমতার উত্থান ও রাজনৈতিক আশ্রয় : স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ আজহারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি শহর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের কাজ শুরু করেন।পরবর্তীতে, ফাতেমা তুজ জোহরা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হলে, এই পরিবারের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম তারা ও তার সহধর্মিনী মহিলার সংরক্ষিত আসনের এমপি ফাতেমা তুজ জোহরা রানীর সহযোগিতায় তার বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার হারুন অর রশিদ  মাসকান্দা ১৫ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি বাগিয়ে নেয়। বড় ভাইয়ের সভাপতি পদ পাওয়ার পর শুরু হয় মাসকান্দায় তাদের অবৈধ সম্পদ দখল এবং বেপরোয়া চলাফেরা। প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক সুবিধাভোগী এই পরিবারের অপরাধ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা কেন নীরব? অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও দুর্নীতির বিস্তার

১. সরকারি প্রকল্প থেকে অবৈধ কমিশন আদায় ২. ভুয়া দলিল তৈরি করে সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎ ৩. রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরি ও পদ দখল ৪. সরকারি দফতরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা  ৫. সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির সঙ্গে গোপন আঁতাত কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে দখলদারিত্ব ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

মাসকান্দায় এই পরিবারের অন্যতম হাতিয়ার কিশোর গ্যাং১. ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় ২. ভোট ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ৩. রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ৪. অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত তরুণদের মদদ দেওয়া ৫. প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রভাবিত করা । মাসকান্দায় কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব: মাসকান্দা কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে পরিচিত মোঃ রনি মিয়া, যার পিতা আব্দুল সাত্তার মন্ডল। রনির কোনো চাকরি বা ব্যবসা নেই; তার মূল ব্যবসা হচ্ছে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অস্ত্র বাণিজ্য। রনির রয়েছে কিশোরগ্যাঙের বিশাল বাহিনী। এই কিশোরগঞ্জের মাধ্যমে মাসকান্দায় বিভিন্ন অরাজকতার সৃষ্টি করে ,এবং ভূমি দখল করে চাঁদাবাজি করে, বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য ক্রয় বিক্রয় করে, বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে এই কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা মোঃ আজহারুল ইসলাম। তার নেতৃত্বেই মাসকান্দায় বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জমি ও সম্পদ দখল: স্থানীয়দের আতঙ্ক  ১. মাসকান্দার বিল পাড়া এলাকার একটি বাড়ি ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক দখল ২. মাসকান্দায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ে চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক ৩. নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা আদায় ৪. বিভিন্ন প্রোগ্রামে জোরপূর্বক চাঁদা উত্তোলন ৫. ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে অফিস সাজানো  ৬. মাসকান্দায় অস্ত্রের মহড়া ও মাদক ব্যবসার বিস্তারস্থানীয়রা জানান, একসময় আজহারুল ইসলাম কিছুই ছিল না; সে ছিল দরিদ্র। কিন্তু বর্তমানে তার শত কোটি টাকার সম্পদ। জনগণের প্রশ্ন—কোনো আলাদিনের চেরাগ পেল নাকি প্রশাসনের মদদে এই সম্পদের পাহাড় গড়ল? জনগণের দাবি: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ১. দুর্নীতির তদন্ত করতে বিশেষ কমিটি গঠন ২. অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা ৩. ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা ৪. রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ: এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় এবং রাজনৈতিক মহল এর বিরুদ্ধে কী ভূমিকা রাখে। নাগরিক সমাজ বলছে, অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ময়মনসিংহে অপরাধের বিস্তার আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ময়মনসিংহে ক্ষমতাশালী পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

ময়মনসিংহের মাসকান্দায় একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই পরিবার সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের নীরবতায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জনগণ প্রশ্ন তুলেছে—এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দেরি কেন? ক্ষমতার উত্থান ও রাজনৈতিক আশ্রয় : স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ আজহারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি শহর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের কাজ শুরু করেন।পরবর্তীতে, ফাতেমা তুজ জোহরা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হলে, এই পরিবারের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম তারা ও তার সহধর্মিনী মহিলার সংরক্ষিত আসনের এমপি ফাতেমা তুজ জোহরা রানীর সহযোগিতায় তার বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার হারুন অর রশিদ  মাসকান্দা ১৫ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি বাগিয়ে নেয়। বড় ভাইয়ের সভাপতি পদ পাওয়ার পর শুরু হয় মাসকান্দায় তাদের অবৈধ সম্পদ দখল এবং বেপরোয়া চলাফেরা। প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক সুবিধাভোগী এই পরিবারের অপরাধ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা কেন নীরব? অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও দুর্নীতির বিস্তার

১. সরকারি প্রকল্প থেকে অবৈধ কমিশন আদায় ২. ভুয়া দলিল তৈরি করে সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎ ৩. রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরি ও পদ দখল ৪. সরকারি দফতরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা  ৫. সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির সঙ্গে গোপন আঁতাত কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে দখলদারিত্ব ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

মাসকান্দায় এই পরিবারের অন্যতম হাতিয়ার কিশোর গ্যাং১. ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় ২. ভোট ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ৩. রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ৪. অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত তরুণদের মদদ দেওয়া ৫. প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রভাবিত করা । মাসকান্দায় কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব: মাসকান্দা কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে পরিচিত মোঃ রনি মিয়া, যার পিতা আব্দুল সাত্তার মন্ডল। রনির কোনো চাকরি বা ব্যবসা নেই; তার মূল ব্যবসা হচ্ছে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অস্ত্র বাণিজ্য। রনির রয়েছে কিশোরগ্যাঙের বিশাল বাহিনী। এই কিশোরগঞ্জের মাধ্যমে মাসকান্দায় বিভিন্ন অরাজকতার সৃষ্টি করে ,এবং ভূমি দখল করে চাঁদাবাজি করে, বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য ক্রয় বিক্রয় করে, বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে এই কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা মোঃ আজহারুল ইসলাম। তার নেতৃত্বেই মাসকান্দায় বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জমি ও সম্পদ দখল: স্থানীয়দের আতঙ্ক  ১. মাসকান্দার বিল পাড়া এলাকার একটি বাড়ি ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক দখল ২. মাসকান্দায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ে চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক ৩. নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা আদায় ৪. বিভিন্ন প্রোগ্রামে জোরপূর্বক চাঁদা উত্তোলন ৫. ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে অফিস সাজানো  ৬. মাসকান্দায় অস্ত্রের মহড়া ও মাদক ব্যবসার বিস্তারস্থানীয়রা জানান, একসময় আজহারুল ইসলাম কিছুই ছিল না; সে ছিল দরিদ্র। কিন্তু বর্তমানে তার শত কোটি টাকার সম্পদ। জনগণের প্রশ্ন—কোনো আলাদিনের চেরাগ পেল নাকি প্রশাসনের মদদে এই সম্পদের পাহাড় গড়ল? জনগণের দাবি: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ১. দুর্নীতির তদন্ত করতে বিশেষ কমিটি গঠন ২. অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা ৩. ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা ৪. রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ: এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় এবং রাজনৈতিক মহল এর বিরুদ্ধে কী ভূমিকা রাখে। নাগরিক সমাজ বলছে, অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ময়মনসিংহে অপরাধের বিস্তার আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।