ময়মনসিংহে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর সংবাদ সম্মেলন

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
- / ৮০ বার পঠিত

বিভিন্ন দাবীতে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান সুবাস চন্দ্র বর্মন, কোষাধ্যক্ষ অখিল চন্দ্র বর্মন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সিংহ, ফুলপুর উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস, ভালুকা উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান ধরুনী কান্ত কোচ সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব বিপুল হাজং।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাায় ৫০টিরও অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে এ ভূখন্ডে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, আচার-আচরণ ও সমাজব্যবস্থার ধারক ও বাহক হয়ে বসবাস করে আসছে। অথচ এখনো তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি। বাংলাদেশের আদিবাসীরা নিজস্ব ভাষা, পদ্ধতি, ঐতিহ্য ও পারিবারিক কাঠামো নিয়ে পৃথক জাতিসত্তা বহন করে। জাতিসংঘের ‘আদিবাসী’ সংজ্ঞার সাথে এরা পুরোপুরি মিলে যায়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কোনো জাতি, ধর্ম, ভাষা বা গোত্রের ভিত্তিতে নয় – বরং ভৌগোলিক ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সকল নাগরিককে জাতি হিসেবে গড়ে তোলার আদর্শ। এই নীতির আলোকে, আদিবাসীরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার পাবে এবং তাদের নিজস্ব পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভাষার সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। সুতরাং আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি জাতীয় ঐক্যবিরোধী নয়, বরং জাতীয় ঐক্যকে আরও মজবুত করে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিকে পূর্ণ সমর্থন করে। কারণ: এই জাতীয়তাবাদের ভিত্তি জাতিগত পরিচয়ে নয়, নাগরিকত্ব, ভৌগোলিক ঐক্য ও বহুত্ববাদে। এটি সকল জাতি, ধর্ম ও গোষ্ঠীর সমান মর্যাদা ও অধিকারে বিশ্বাস করে, যা আদিবাসী স্বীকৃতির মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলেই ১৯৭৭ সালে “ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন”-এর মতো সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়, যা সমতলের ২২টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী বৃহত্তম জাতীয় সামাজিক সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে চেয়ারম্যান সুবাস চন্দ্র বর্মন ও মহাসচিব বিপুল হাজং স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১১ টি দামীনামা পেশ করেন। দাবী গুলো হলো,- ১. আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান ; ২. আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আলাদা নীতি ও বাজেট বরাদ্দ ; ৩. আদিবাসী ভূমির সুরক্ষায় আলাদা ভূমি কমিশন গঠন ও পৃথক জরিপের ব্যবস্থা করা ; ৪. আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় কোটার সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন; ৫. অবিচার, নিপীড়ন ও সহিংসতা বন্ধে একটি জাতীয় ‘আদিবাসী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ; ৬. আন্তর্জাতিক কনভেনশন ১৬৯ অনুসমর্থন ও পূর্ণ বাস্তবায়ন ; ০৭. সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠা করা ; ০৮. বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারী সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বন্টন বৈষম্য দূরীকরণার্থে অনঅগ্রসরতার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ণ করা এবং অধিকতর অনগ্রসর ও বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত তাদের সংস্কৃতি সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নীতকরণের ব্যবস্থা করা ; ০৯. রাজনৈতিক দলসমূহের নীতিনির্ধারণী কমিটিতে সংরক্ষিত আদিবাসী প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করা এবং রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ইস্তেহারে আদিবাসীদের উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা অন্তর্ভূক্ত করা; ১০. জাতীয় সংসদের আদিবাসী প্রতিনিধি নিশ্চিত করা লক্ষ্যে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ রাখা; ১১. সরকারী চাকরীর ক্ষেত্রে কোটা বৃদ্ধি করে নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা।
তাদের দাবী মানতে সরকারের প্রতি বিনীত অনোরোধ জানান সংগঠনের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব বিপুল হাজং।


















