
নিজস্ব প্রতিনিধি: মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে বাঘা থানা পুলিশ ও পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমকে আরও তৎপর হয়ে জনসাধারণের দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও নারী নির্যাতনবিরোধী মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলায়ত করেন, বাঘা উপজেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, গীতা থেকে পাঠ করেন, বাঘা রহমাতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরিমল চন্দ্র সরকার। রাজশাহী বেতারের উপস্থাপিকা রুকসানা আক্তার লাকীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক।
প্রধান অতিথি আবু সাইদ চাঁদ এমপি অসুস্থতা জনিত কারণে অনুপস্থিত থাকায় তার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাঘা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) আশিক সাঈদ। সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী পুলিশ সুপার (চারঘাট সার্কেল) খালিদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবেসনাল) তুহিন উদ্দিন প্রমুখ।
উন্মুক্ত আলোচনাকালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনরা বলেন, বিষয়ভিত্তিক চারটি আলোচনার বাইরেও চাঁদাবাজি সহ চুরির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেশি হয়। এছাড়াও ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে উগ্রবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করে। কাগজে কলমে বড় অপরাধীরা পার পেয়ে যায় কিন্তু অভ্যাস জনিত কিংবা পেটের দায়ে চুরির অপরাধে সন্ত্রাসী কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তারা বলেন, সব কিছুর উর্ধ্বে গিয়ে পুলিশকে জনতার পুলিশ হিসাবে দেখতে চাই। এজন্য নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন তারা। এছাড়াও নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং বিষয়ে বক্তব্য রাখেন রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সাবিনা সুলতানা ও হুমায়রা খাতুন।
রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন। পরে তিনি মাদক, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বাঘা থানা পুলিশকে আরও তৎপর হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়াও তিনি বলেন, আপনারা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আমরা মাদক ব্যবসায়ীর আশ্রয়দাতা ও মাদকের গডফাদারদের আটক করতে চাই। দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলার আড়ানীতে পুলিশ ক্যাম্পের আশ্বাস দেন ডিআইজি আশিক।
সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বাঘা থানা পুলিশ ও পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমকে জনস্বার্থে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, আনসার ভিডিপির সদস্যরা, গ্রাম পুলিশের সদস্যরা এবং বাঘা থানা পুলিশের সকল সদস্যবৃন উপস্থিত ছিলেন।

রবিউল ইসলাম 



















