ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মাদ্রাসা দখল ও ভূঁয়া নিয়োগ: হাতীবান্ধায় ওলামা নেতার বিরুদ্ধে ঝড়

হাতীবান্ধা(লালমনিরহাট)সংবাদদাতাঃ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৫৫ বার পঠিত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার পদ দখলে নিয়ে ভুয়া নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে ওলামা দলের নেতা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে ১৯৭৮ সালে স্থানীয় মানুষের দান করা জমির ওপর “পূর্ব ফকিরপাড়া ১ নং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা” প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ৭ জন দাতা সদস্য প্রায় ১০০ শতক জমি মাদ্রাসার নামে দলিল করে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের উদ্যোগেই মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।

কিন্তু সম্প্রতি আব্দুস ছোবাহান মাদ্রাসার দানকৃত জমি জবরদখল করে সেখানে নিজস্ব স্বার্থে অবৈধভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘ছদ্ম ম্যানেজিং কমিটি’ গঠন করে মনগড়া শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সরকারি অনুদানও পেয়েছিল।

কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে পুরনো কমিটিকে বাদ দিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুস ছোবাহান ও তার সহযোগী সাজু নিজেদের ঘরে বসে কমিটি তৈরি করে ভূয়া নিয়োগ দিয়েছেন।

একই এলাকার আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার জমি দখল করার পাশাপাশি তারা এখন মুসল্লীদের মসজিদেও নামাজ পড়তে দিচ্ছেন না।

ওই মাদ্রাসার জমি দাতা ওছিমুদ্দিনের নাতী নুরন্নবী বলেন আমার দাদা ওই মাদ্রাসায় ১২ শতক জমি দান করেছে কিন্তু সোবাহান বা তার পরিবারের তো কেউ দান করেনি তাহলে উনি কিভাবে জোর করে প্রতিষ্ঠাতা হয়।তার দাবী দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগ করার কারণে স্বৈরাচারী মনোভাবটা তার যায়নি।

এলাকাবাসী দাবী করেন আব্দুস ছোবাহান দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন ওলামালীগের ফকিরপাড়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন  কিন্তু ৫ আগষ্টের পর হঠাৎ করেই ফকিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহব্বায়ক ও শ্রমিক নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকের ভাই হওয়ায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ওলামা দলের উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি।

এ বিষয়ে আব্দুস ছোবাহানের সঙ্গে কথা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ওই মাদ্রাসা দখল করা হয়নি, দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।

অন্যকেউ চাইলে আমি পদথেকে সরে দাঁড়াবো। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা জানান, ওই মাদ্রাসা দখল করা এবং অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে আমরা শুনেছি তদন্ত চলমান আছে খুব দ্রুত তার সমাধান হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মাদ্রাসা দখল ও ভূঁয়া নিয়োগ: হাতীবান্ধায় ওলামা নেতার বিরুদ্ধে ঝড়

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার পদ দখলে নিয়ে ভুয়া নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে ওলামা দলের নেতা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে ১৯৭৮ সালে স্থানীয় মানুষের দান করা জমির ওপর “পূর্ব ফকিরপাড়া ১ নং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা” প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ৭ জন দাতা সদস্য প্রায় ১০০ শতক জমি মাদ্রাসার নামে দলিল করে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের উদ্যোগেই মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।

কিন্তু সম্প্রতি আব্দুস ছোবাহান মাদ্রাসার দানকৃত জমি জবরদখল করে সেখানে নিজস্ব স্বার্থে অবৈধভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘ছদ্ম ম্যানেজিং কমিটি’ গঠন করে মনগড়া শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সরকারি অনুদানও পেয়েছিল।

কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে পুরনো কমিটিকে বাদ দিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুস ছোবাহান ও তার সহযোগী সাজু নিজেদের ঘরে বসে কমিটি তৈরি করে ভূয়া নিয়োগ দিয়েছেন।

একই এলাকার আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার জমি দখল করার পাশাপাশি তারা এখন মুসল্লীদের মসজিদেও নামাজ পড়তে দিচ্ছেন না।

ওই মাদ্রাসার জমি দাতা ওছিমুদ্দিনের নাতী নুরন্নবী বলেন আমার দাদা ওই মাদ্রাসায় ১২ শতক জমি দান করেছে কিন্তু সোবাহান বা তার পরিবারের তো কেউ দান করেনি তাহলে উনি কিভাবে জোর করে প্রতিষ্ঠাতা হয়।তার দাবী দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগ করার কারণে স্বৈরাচারী মনোভাবটা তার যায়নি।

এলাকাবাসী দাবী করেন আব্দুস ছোবাহান দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন ওলামালীগের ফকিরপাড়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন  কিন্তু ৫ আগষ্টের পর হঠাৎ করেই ফকিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহব্বায়ক ও শ্রমিক নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকের ভাই হওয়ায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ওলামা দলের উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি।

এ বিষয়ে আব্দুস ছোবাহানের সঙ্গে কথা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ওই মাদ্রাসা দখল করা হয়নি, দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।

অন্যকেউ চাইলে আমি পদথেকে সরে দাঁড়াবো। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা জানান, ওই মাদ্রাসা দখল করা এবং অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে আমরা শুনেছি তদন্ত চলমান আছে খুব দ্রুত তার সমাধান হয়ে যাবে।