ঢাকা, বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্হাপন করলেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   মানবিকতা ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্হাপন করলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। সত্তর বছরের এক অসহায় বৃদ্ধার কষ্টের কথা শোনে তার পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন জেলা প্রশাসক। এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত বৃদ্ধার চোখের জল নিজ হাতে মুছে দেন তিনি। জেলা প্রশাসকের এমন আন্তরিক ও মানবিক  আচরণ উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়।
একজন ভালো মনের মানুষ মাত্রই মানবিক। মানবিকতার কারণেই মানুষ মানুষের মন সহজেই  জয় করা যায়।  তেমনি নরসিংদী জেলা প্রশাসক সরকারের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি বেশকিছু মানবিক কাজ নিরবে করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন  মানবিক কাজ নিরবেই করা উত্তম। তবে অন্যকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করার জন্যও কিছুআনুষ্ঠানিকতার ও প্রয়োজন রয়েছে। আর এই কাজগুলো মন থেকেকরলে মনে তৃপ্তি আসে।

নরসিংদী সদর উপজেলার ঘোড়াদিয়ার কেশ রানী (৭০) এর স্বামী মারা গেছেন অনেক  বছর ধরে আগে । ছেলেরা বিয়ে করে যার যার মতো সংসার করছেন, মেয়েদেরও বিয়ে হওয়ায় স্বামীর বাড়িতেই। এ দিকে বৃদ্ধা কেশ রানী খেয়ে না খেয়ে  স্বামীর ভিটায় পড়ে আছেন বছরের পর বছর। আশেপাশের লোকজন যা সহায়তা করেন তাই দিয়ে চলে তার সংসার। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য থাকায় তিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না । এই অবস্থায় জেলা প্রশাসকের স্মরণাপন্ন হয়ে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন।  আবেদনের প্রেক্ষিতে চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকারী সহায়তা থেকে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া তাকে সহায়তার জন্য মনোনিত করেন। জেলা প্রশাসকের হাত থেকে সহায়তার চেক গ্রহনের জন্য ডিসি অফিসের ফোন পেয়ে যথা সময়ে উপস্থিত। তাকে দেয়া হলো চিকিৎসার জন্য সহায়তার অর্থের চেক। এ সময় বৃদ্ধার চোখে পানি আসলে জেলা প্রশাসক নিজ হাতে তার চোখের পানি মুছে দেন।
জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এক এক করে জেলার রায়পুরার মুছাপুরের ইমান আহমেদকে লেখাপড়ার জন্য, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য পলাশের কর্তেতৈল এলাকার রাবিয়া, শিবপুরের হারেচা বেগম নামে বৃদ্ধ অসহায় ও শান্তা নামে রায়পুরার হাসনাবাদ এলাকার এক প্রতিবন্ধী মেয়ে সহ প্রতিবন্ধী, অসহায়, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি, চিকিৎসা সহায়তা ও বয়স্ক জনিত কারণে অসুস্থতার জন্য অসহায় এমন ১২০ ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয় সহায়তার চেক।

শুধু তাই নয়, শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার স্বামীহারা মালা আক্তার যখন একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে জীবন নির্বাহ করতে পারছেন না। তখন তিনি ইচ্ছে পোষণ করেন একটি চা স্টল দেবেন, কিন্তু অল্প কিছু পূঁজির জন্যিংদীর জেলা প্রশাসকের। জেলাপ্রশাসক তার সংসার চালানোর জন্য চা স্টলের জন্য যে পরিমাণ পূঁজি দরকার ঠিক তাই দিয়ে তাকে স্বাবলম্বি করার জন্য সহায়তা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের হাত থেকে নগদ অর্থ পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গেপড়েন তিনি। যেখানে তার সংসার চালোনোর মতো নগদ কোন অর্থই ছিল না, সেখানে জেলা প্রশাসকহাত বাড়িতে তাঁর জীবন চলার পথ তৈরী করে দেন। যেনো জীবনে একটি চলার গতি পেয়েছেন তিনি।এমনটাই বলতে বলতে চোখে পানি চলে আসে মালা আক্তারের।

শুধু এক মালা আক্তার নয়, রাবিয়া, শান্তা, হারেচা, ইমান আহমেদের মতো এখানে ১২০ জন ব্যক্তির প্রত্যেকেই এক একটি গল্প। তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য অনেকটাই একই রকম। কোন রকম চলাফেরারস্বক্ষমতা থাকলে হয়তো জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার জন্য আসতেন না। তাদের জীবন চলার পথেজেলা প্রশাসক পাথেয় হয়ে দাঁড়ানোর ফলে তারা আজ নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্ন দেখছেনজীবনকে তৈরী করে সুস্থ্য মতো আরও কিছুদিন বাঁচতে।

এই অসহায় মানুষের মাঝে চেক বিতরণকালে অনুভূতি জানাতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, দিনশেষে প্রতিটি ব্যক্তি এক একজন মানুষ। প্রত্যেকটি মানুষেরই একটি মানবিকতা থাকাউচিত। আর সেই দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণমানুষের প্রতি খুবই মানবিক। আর আমরা জেলা প্রশাসক হিসেবে সরকারের কাজই বাস্তবায়ন করেথাকি। তাই এ জেলার মানুষের দুঃখ দুর্দশা সকলের হয়তো সমাধান সম্ভব হবে না, তথাপি যতজনকেইপারা যায় সেই পরিবারবারগুলোতো ভালো চলতে পারল। সেটাই হল বড় কথা।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের এমন দৃষ্টান্ত নরসিংদীর সাধারন মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসনের প্রতি আস্হা ও প্রত্যাশা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন স্হানীয়রা। এ ধরনের মানবিক উদ্যেগ সমাজের সামর্থবান মানুষ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

গোবিন্দগঞ্জে তিন ইউনিয়নের সনাতন সম্প্রদায়ের মনোকষ্টের অবসান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
24 August 2026

‎বিধি বহির্ভূতভাবে সার বিক্রি: চিরিরবন্দরে মেসার্স জাহানারা ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্হাপন করলেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   মানবিকতা ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্হাপন করলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। সত্তর বছরের এক অসহায় বৃদ্ধার কষ্টের কথা শোনে তার পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন জেলা প্রশাসক। এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত বৃদ্ধার চোখের জল নিজ হাতে মুছে দেন তিনি। জেলা প্রশাসকের এমন আন্তরিক ও মানবিক  আচরণ উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়।
একজন ভালো মনের মানুষ মাত্রই মানবিক। মানবিকতার কারণেই মানুষ মানুষের মন সহজেই  জয় করা যায়।  তেমনি নরসিংদী জেলা প্রশাসক সরকারের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি বেশকিছু মানবিক কাজ নিরবে করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন  মানবিক কাজ নিরবেই করা উত্তম। তবে অন্যকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করার জন্যও কিছুআনুষ্ঠানিকতার ও প্রয়োজন রয়েছে। আর এই কাজগুলো মন থেকেকরলে মনে তৃপ্তি আসে।

নরসিংদী সদর উপজেলার ঘোড়াদিয়ার কেশ রানী (৭০) এর স্বামী মারা গেছেন অনেক  বছর ধরে আগে । ছেলেরা বিয়ে করে যার যার মতো সংসার করছেন, মেয়েদেরও বিয়ে হওয়ায় স্বামীর বাড়িতেই। এ দিকে বৃদ্ধা কেশ রানী খেয়ে না খেয়ে  স্বামীর ভিটায় পড়ে আছেন বছরের পর বছর। আশেপাশের লোকজন যা সহায়তা করেন তাই দিয়ে চলে তার সংসার। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য থাকায় তিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না । এই অবস্থায় জেলা প্রশাসকের স্মরণাপন্ন হয়ে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন।  আবেদনের প্রেক্ষিতে চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকারী সহায়তা থেকে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া তাকে সহায়তার জন্য মনোনিত করেন। জেলা প্রশাসকের হাত থেকে সহায়তার চেক গ্রহনের জন্য ডিসি অফিসের ফোন পেয়ে যথা সময়ে উপস্থিত। তাকে দেয়া হলো চিকিৎসার জন্য সহায়তার অর্থের চেক। এ সময় বৃদ্ধার চোখে পানি আসলে জেলা প্রশাসক নিজ হাতে তার চোখের পানি মুছে দেন।
জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এক এক করে জেলার রায়পুরার মুছাপুরের ইমান আহমেদকে লেখাপড়ার জন্য, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য পলাশের কর্তেতৈল এলাকার রাবিয়া, শিবপুরের হারেচা বেগম নামে বৃদ্ধ অসহায় ও শান্তা নামে রায়পুরার হাসনাবাদ এলাকার এক প্রতিবন্ধী মেয়ে সহ প্রতিবন্ধী, অসহায়, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি, চিকিৎসা সহায়তা ও বয়স্ক জনিত কারণে অসুস্থতার জন্য অসহায় এমন ১২০ ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয় সহায়তার চেক।

শুধু তাই নয়, শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার স্বামীহারা মালা আক্তার যখন একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে জীবন নির্বাহ করতে পারছেন না। তখন তিনি ইচ্ছে পোষণ করেন একটি চা স্টল দেবেন, কিন্তু অল্প কিছু পূঁজির জন্যিংদীর জেলা প্রশাসকের। জেলাপ্রশাসক তার সংসার চালানোর জন্য চা স্টলের জন্য যে পরিমাণ পূঁজি দরকার ঠিক তাই দিয়ে তাকে স্বাবলম্বি করার জন্য সহায়তা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের হাত থেকে নগদ অর্থ পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গেপড়েন তিনি। যেখানে তার সংসার চালোনোর মতো নগদ কোন অর্থই ছিল না, সেখানে জেলা প্রশাসকহাত বাড়িতে তাঁর জীবন চলার পথ তৈরী করে দেন। যেনো জীবনে একটি চলার গতি পেয়েছেন তিনি।এমনটাই বলতে বলতে চোখে পানি চলে আসে মালা আক্তারের।

শুধু এক মালা আক্তার নয়, রাবিয়া, শান্তা, হারেচা, ইমান আহমেদের মতো এখানে ১২০ জন ব্যক্তির প্রত্যেকেই এক একটি গল্প। তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য অনেকটাই একই রকম। কোন রকম চলাফেরারস্বক্ষমতা থাকলে হয়তো জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার জন্য আসতেন না। তাদের জীবন চলার পথেজেলা প্রশাসক পাথেয় হয়ে দাঁড়ানোর ফলে তারা আজ নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্ন দেখছেনজীবনকে তৈরী করে সুস্থ্য মতো আরও কিছুদিন বাঁচতে।

এই অসহায় মানুষের মাঝে চেক বিতরণকালে অনুভূতি জানাতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, দিনশেষে প্রতিটি ব্যক্তি এক একজন মানুষ। প্রত্যেকটি মানুষেরই একটি মানবিকতা থাকাউচিত। আর সেই দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণমানুষের প্রতি খুবই মানবিক। আর আমরা জেলা প্রশাসক হিসেবে সরকারের কাজই বাস্তবায়ন করেথাকি। তাই এ জেলার মানুষের দুঃখ দুর্দশা সকলের হয়তো সমাধান সম্ভব হবে না, তথাপি যতজনকেইপারা যায় সেই পরিবারবারগুলোতো ভালো চলতে পারল। সেটাই হল বড় কথা।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের এমন দৃষ্টান্ত নরসিংদীর সাধারন মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসনের প্রতি আস্হা ও প্রত্যাশা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন স্হানীয়রা। এ ধরনের মানবিক উদ্যেগ সমাজের সামর্থবান মানুষ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।

Share this news as a Photo Card