সাব্বির হোসেন, কুবি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের (ইশা) শাখা আয়োজিত জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমায় প্রধান অতিথি হিসেবে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন—এমন অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে প্রশাসনের অনুমতি না পেলেও নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, আগামী শনিবার (২৫ জুলাই) জুলাই শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের উপস্থিতি নির্ধারিত ছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইশা দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলেও প্রক্টর প্রধান অতিথির ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—ক্যাম্পাসে জুলাই-সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে শাখা নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমাদের আয়োজিত কর্মসূচি ছিল জুলাই শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমা কেন্দ্রিক একটি ধর্মীয় ও নৈতিকতামূলক অনুষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না। তাই এ ধরনের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া দুঃখজনক এবং শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগকে সংকুচিত করে।”
সংগঠনটির দাবি, অতীতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও কেবল তাদের কর্মসূচির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অজুহাতে অনুমতি না দেওয়া বৈষম্যমূলক।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবছার উদ্দীন ইফতি বলেন, “প্রয়োজনে লিখিত অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই শহীদদের জন্য দোয়ার আয়োজন করবে ইশা।”
শাখা সভাপতি মুহা. শামীম বলেন, “আমরা কিছুদিন আগে প্রক্টরের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছিলাম। তখন তিনি না করেননি। কিন্তু হঠাৎ করে এখন জানানো হয়েছে অনুষ্ঠান করা যাবে না। অথচ অন্যান্য ছাত্রসংগঠন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শায়েখে চরমোনাইয়ের উপস্থিতিতে আমরা কেবল ইসলাহী ইজতেমা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। তারপরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়েই আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করব।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, “প্রক্টোরিয়াল বডি মনে করেছে এত বড় মাপের একজন আলেম ও রাজনীতিবিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যান্য রাজনৈতিক দল কর্মসূচির আগে অনুমতি নিতে আসেনি। যেহেতু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন অনুমতির জন্য আবেদন করেছে, তাই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রক্টোরিয়াল বডি অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

সাব্বির হোসেন, কুবি 


















