
এম.জে.এ মামুন:
কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার মূল আসামি মো. মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) ও পালিত কন্যা ইতি (১৮)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, মুরাদনগর থানার ধরানীপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ওরফে বেবি (৭০) এবং তাঁর ভাই মো. মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিরোধের একপর্যায়ে খালেদা আক্তার ও তাঁর ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম ওরফে তুতু (৩৫)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল অভিযান শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে কুমিল্লা নগরীর বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি হনুফা বেগম ও ইতি—কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি আবু মিয়া ট্রেনে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানতে পারে ডিবি। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খালেদা আক্তার ও মঞ্জুরুল আলম তুতুকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁদের কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















