ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
“পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর চলবে না”, ডা. শফিকুর রহমান

রাজশাহীতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের জনসভা

অপু দাস, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৫ বার পঠিত
অপু দাস, রাজঅপুশাহী: রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,
দেশে আর বংশানুক্রমিক ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, “এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধরনের বংশানুক্রমিক রাজনীতি আর চলবে না। এই দেশের রাজনীতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে।”ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে আর কখনো আধিপত্যবাদের রাজনীতি চলবে না। আমরা প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই। তবে সেই সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। কোনো দেশের সঙ্গে অমর্যাদাকর সম্পর্ক আমরা চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।”তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই সেদিন আমাদের সোনার ছেলেরা গুলিকে পরোয়া করে নাই। তারা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে দাঁড়িয়েছিল।”
সকল ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহর বিধান কখনো কারো ওপর জুলুম করতে পারে না। জুলুম করার প্রশ্নই ওঠে না।”তিনি বলেন, “এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ বসবাস করে। নারী-পুরুষ সবাই এই দেশের অংশ। পাশাপাশি এই দেশে বহু নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। আমাদের সাঁওতাল ভাই-বোনেরাও এই দেশেরই নাগরিক। আমাদের সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ।”
তিনি বলেন, “আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে—‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’।”
বিভাজন, হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষকে বিভক্ত করে রাজনীতি করার যে প্রবণতা রয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে হিংসা-বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখতে দেবো না। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে।”
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিশ্রুতি
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ এবং জনগণের কাছেও ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের রায়ের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসার মাধ্যমে এবং সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ এই দেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবো না।”তিনি আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।”
রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে নানা ঘোষণা
জনসভায় রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজশাহীর বহুদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর বিষয়ে তারা কাজ করতে চান। তিনি রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, সুগার মিল পুনরায় চালু করা, ডেন্টাল কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন।
নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে রাজশাহীতে জামায়াতের ব্যতিক্রমী জনসভা
এদিনের জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, রাজশাহীর ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এত বড় নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হলো।দুপুরের মধ্যেই মাদ্রাসা মাঠটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠজুড়ে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।এর আগে বিভিন্ন জেলায় জনসভা
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর জনসভায় অংশ নেওয়ার আগে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলার নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর রাজশাহীতে এসে তিনি ১১ দলীয় ঐক্য জোটের এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

“পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর চলবে না”, ডা. শফিকুর রহমান

রাজশাহীতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের জনসভা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অপু দাস, রাজঅপুশাহী: রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,
দেশে আর বংশানুক্রমিক ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, “এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধরনের বংশানুক্রমিক রাজনীতি আর চলবে না। এই দেশের রাজনীতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে।”ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে আর কখনো আধিপত্যবাদের রাজনীতি চলবে না। আমরা প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই। তবে সেই সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। কোনো দেশের সঙ্গে অমর্যাদাকর সম্পর্ক আমরা চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।”তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই সেদিন আমাদের সোনার ছেলেরা গুলিকে পরোয়া করে নাই। তারা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে দাঁড়িয়েছিল।”
সকল ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহর বিধান কখনো কারো ওপর জুলুম করতে পারে না। জুলুম করার প্রশ্নই ওঠে না।”তিনি বলেন, “এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ বসবাস করে। নারী-পুরুষ সবাই এই দেশের অংশ। পাশাপাশি এই দেশে বহু নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। আমাদের সাঁওতাল ভাই-বোনেরাও এই দেশেরই নাগরিক। আমাদের সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ।”
তিনি বলেন, “আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে—‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’।”
বিভাজন, হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষকে বিভক্ত করে রাজনীতি করার যে প্রবণতা রয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে হিংসা-বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখতে দেবো না। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে।”
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিশ্রুতি
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ এবং জনগণের কাছেও ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের রায়ের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসার মাধ্যমে এবং সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ এই দেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবো না।”তিনি আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।”
রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে নানা ঘোষণা
জনসভায় রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজশাহীর বহুদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর বিষয়ে তারা কাজ করতে চান। তিনি রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, সুগার মিল পুনরায় চালু করা, ডেন্টাল কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন।
নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে রাজশাহীতে জামায়াতের ব্যতিক্রমী জনসভা
এদিনের জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, রাজশাহীর ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এত বড় নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হলো।দুপুরের মধ্যেই মাদ্রাসা মাঠটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠজুড়ে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।এর আগে বিভিন্ন জেলায় জনসভা
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর জনসভায় অংশ নেওয়ার আগে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলার নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর রাজশাহীতে এসে তিনি ১১ দলীয় ঐক্য জোটের এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।