ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

রাস্তার বুক চিরে ভবনের সম্প্রসারণ, প্রশ্নের মুখে নির্মাণবিধি

মাসুম মুন্সী, মুরাদনগর (কুমিল্লা):   কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় যেন রাস্তার বুক চিরেই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে একটি বহুতল ভবন। সরকারি সড়কের আকাশসীমার দিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা বাড়িয়ে নির্মাণের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্মাণবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনের সম্প্রসারিত অংশ রাস্তার ওপর চলে আসায় জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের উত্তর ত্রিশ এলাকার আজিমিয়া এতিমখানা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নিচতলার সীমানা ছাড়িয়ে রাস্তার দিকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের একটি অংশ সরকারি সড়কের আকাশসীমার মধ্যে চলে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও প্রশাসন বলছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ। ভবনের অংশ রাস্তার দিকে সম্প্রসারণ করা হলে ভবিষ্যতে বড় যানবাহন চলাচল, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সড়ক সংস্কার বা সম্প্রসারণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ভবনটির মালিক মৃত আলফাজ আলীর ছেলে আল-আমীন, যিনি খাগড়াছড়িতে কর্মরত একজন পুলিশ কনস্টেবল। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাই তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাড়ির মালিক আল-আমীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আমার মালিকানাধীন জায়গার মধ্যেই ভবন নির্মাণ করছি। কিছু অংশ রাস্তার দিকে এসেছে। রাস্তার অধিকাংশই আমার জায়গার ওপর রয়েছে।”
তবে রাস্তার ওপর ভবনের অংশ সম্প্রসারণের বৈধতা কিংবা নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। একপর্যায়ে সংবাদকর্মীকে বলেন, “নেক্সট টাইম আমাকে ফোন দিবেন না, যা পারেন করেন।”
নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে যদি সরকারি রাস্তা, জনস্বার্থ বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী ভবন নির্মাণে নির্ধারিত সীমানা ও প্রয়োজনীয় খালি জায়গা রেখে কাজ করতে হয়। কেউ যদি অনুমোদিত নকশা বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করেন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ওই ভবনের কোনো নকশা বা নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে নির্মাণকাজটি বিধিমালা অনুসারে হচ্ছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। সরকারি রাস্তার ওপর নির্মাণ কিংবা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশই আরও শক্তিশালী করবে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতি

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
25 August 2026

বুড়িচং প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি খোরশেদ, সম্পাদক জহিরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

রাস্তার বুক চিরে ভবনের সম্প্রসারণ, প্রশ্নের মুখে নির্মাণবিধি

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:২১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
মাসুম মুন্সী, মুরাদনগর (কুমিল্লা):   কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় যেন রাস্তার বুক চিরেই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে একটি বহুতল ভবন। সরকারি সড়কের আকাশসীমার দিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা বাড়িয়ে নির্মাণের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্মাণবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনের সম্প্রসারিত অংশ রাস্তার ওপর চলে আসায় জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের উত্তর ত্রিশ এলাকার আজিমিয়া এতিমখানা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নিচতলার সীমানা ছাড়িয়ে রাস্তার দিকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের একটি অংশ সরকারি সড়কের আকাশসীমার মধ্যে চলে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও প্রশাসন বলছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ। ভবনের অংশ রাস্তার দিকে সম্প্রসারণ করা হলে ভবিষ্যতে বড় যানবাহন চলাচল, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সড়ক সংস্কার বা সম্প্রসারণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ভবনটির মালিক মৃত আলফাজ আলীর ছেলে আল-আমীন, যিনি খাগড়াছড়িতে কর্মরত একজন পুলিশ কনস্টেবল। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাই তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাড়ির মালিক আল-আমীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আমার মালিকানাধীন জায়গার মধ্যেই ভবন নির্মাণ করছি। কিছু অংশ রাস্তার দিকে এসেছে। রাস্তার অধিকাংশই আমার জায়গার ওপর রয়েছে।”
তবে রাস্তার ওপর ভবনের অংশ সম্প্রসারণের বৈধতা কিংবা নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। একপর্যায়ে সংবাদকর্মীকে বলেন, “নেক্সট টাইম আমাকে ফোন দিবেন না, যা পারেন করেন।”
নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে যদি সরকারি রাস্তা, জনস্বার্থ বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী ভবন নির্মাণে নির্ধারিত সীমানা ও প্রয়োজনীয় খালি জায়গা রেখে কাজ করতে হয়। কেউ যদি অনুমোদিত নকশা বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করেন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ওই ভবনের কোনো নকশা বা নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে নির্মাণকাজটি বিধিমালা অনুসারে হচ্ছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। সরকারি রাস্তার ওপর নির্মাণ কিংবা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card