ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই রোগী
রোগীদের ভোগান্তির আরেক নাম রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
- / ৮৭ বার পঠিত

কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি হাসপাতাল এখন রোগীদের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা সেবার নামে চলছে জনভোগান্তি। অপরিচ্ছন্নতা, ঔষধ সংকট, জনবল সংকট ও সু-তদারকির অভাবে হাসপাতালটিতে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এদিকে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে এমন দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শনিবার ২৬ জুলাই দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে বহির্বিভাগের দেখা যায়, একটি মাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকায় শিশু সন্তান নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শিশুদের মায়েরা নিজেরাই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন।
একই চিত্র অর্থপেকডিক্সেও। একটি মাত্র হাড়ের ডাক্তার থাকায় সেখানেও রুগীদের লম্বা লাইন। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য ডাক্তারের সংকট।
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় উঠলেই দেখা যায় রোগীর পাশেই মেঝেতে ময়লার দাগ, দেয়ালের কোথাও কোথাও কফ, থুতু ও পানের পিকের দাগ। ময়লাযুক্ত পুরাতন বেডসিট সেটাও আবার মাঝে মধ্যে পাওয়া যায় না। জেনারেটর না থাকায় রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর করে ভুতুড়ে পরিবেশ। ফলে বাধ্য হয়ে মোবাইলের টর্চ জালিয়ে চিকিৎসা দিতে হয় নার্স ও চিকিৎসকদের। এছাড়াও প্রচন্ড গড়মে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয় রুগী ও রুগীর স্বজনদের।
ময়লাযুক্ত ড্রেনের কারনে দূর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিটি ওয়ার্ডের বাথরুমে গেলে দূর্গন্ধের তীব্রতায় সুস্থ্য মানুষেরও অসুস্থ্য হওয়ার উপক্রম হয়।
মেলেনা প্রয়োজনীয় ঔষধ, বছরের পর বছর ধরে দেখানো হয় ঔষধের সংকট। নাম মাত্র কয়েকটি ঔষধ দিয়ে বাদ বাকি প্রয়োজনীয় ঔষধ বাইরের ফার্মেসী থেকে কিনতে বলা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারি এবং তাদের আত্মীয় স্বজন ইচ্ছামত ঔষধ নিয়ে যায়। দুটি সরকারি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই ড্রাইভার, অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সেটিও। যার ফলে স্বল্প খরচে এ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য আর রুগিদের হয় না।
রুগী ও রুগীর স্বজনদের সাথে নার্সদের অসৌজন্যমূলক আচরনের অভিযোগও রয়েছে প্রচুর।
দির্ঘ বছর এমন অবস্থা চললেও সাস্থ্য দপ্তরের নেই কোন পদক্ষেপ। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে জনভোগান্তি দূর করে স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দাবী জনসাধারণের।
জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই পাংশা উপজেলায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ১১০ জন মানুষ বসবাস করেন। তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে ৫০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতাল।
উপজেলার একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়নের মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কালুখালী, বালিয়াকান্দি ও খোকসা উপজেলার মানুষও চিকিৎসা সেবা নিতে আসে এ হাসপাতালে।
নাম প্রকাশ না করা সর্তে হাসপাতালে আসা একজন বলেন, ‘অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে দুইদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। আসার পর থেকেই খাবার ও পানি কম খাচ্ছি যাতে টয়লেটে না যেতে হয়। টয়লেটে এমন অবস্থা যে এখন নিজেই অসুস্থ হওয়ার উপক্রম। এখানে সেবা বলতে কিছু নেই।’
এবিষয়ে, উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এবাতদত হোসেন বলেন, নিয়ম অনুসারে কন্সাল্টেন্ট, বিশেষজ্ঞ, সাধারণ মেডিকেল অফিসার সব মিলে ৩১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও সব মিলিয়ে আছে মাত্র ৯ জন।
হাসপাতালের ধারন ক্ষমতার চাইতে দুই গুন -তিন গুন বেশি রোগী হওয়ায় অধিকাংশ সময়ই চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম নিয়োমিতই হয়।
এ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় এ্যাম্বুলেন্স সেবাটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এসময় তিনি আরো বলেন, এ সকল বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত পুর্বক প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের আবেদন জানিয়েছি।
আরও পড়ুন:


















