ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসে আকুতি, শরণার্থী জীবন চাই না, নিজভূমে ফিরতে চাই

শ.ম.গফুর, কক্সবাজার
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
- / ১০০ বার পঠিত

রোহিঙ্গা ঢলের ৮ম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে।
২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট রাত থেকে লাখ-লাখ রোহিঙ্গা এপারে পালিয়ে আসা শুরু হয়।এটি একেবারে রোহিঙ্গা স্রোত বলা যায়।মানবিক কারণে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গারা তাদের নিজভূমে ফিরে যেতে আকুতি জানিয়ে আসছিল।দীর্ঘ ৮ বছর কেটে গেছে আশ্রয় জীবন। কিন্তু প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি।বাস্তচ্যুত এসব রোহিঙ্গারা ২৫ আগষ্ট ফিরলেই নিজেদের বাস্তুহারা হওয়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।সোমবার দিনটি পালন করতে ব্যতিক্রম হয়নি।২৫ আগষ্ট
(সোমবার) দিনটি পালন করতে ক্যাম্প অভ্যন্তরে খন্ড-খন্ড মিছিল নিয়ে খোলা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। এভাবে শত-শত রোহিঙ্গার মিছিল নিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের হাতে ছিল ব্যানার, পোস্টার-প্ল্যাকার্ড আর জোরালো কণ্ঠে নিজভূমে ফিরে যাওয়ার আহাজারি আর আকুতি। তাদের চোখেমুখে ভেসে উঠে হতাশা আর ভয়াবহ স্মৃতির।
৮ বছর আগে রাখাইন রাজ্যে আগুনে পোঁড়া গ্রাম, হত্যাযজ্ঞ,দমন পীড়ন আর সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে যাওয়ার মরিয়া যাত্রা। সেই বেদনার দিনটিকেই তারা পালন করছে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস’ হিসেবে।যেটি ২৫ আগষ্ট দিনটি আসলেই নিজেদের আকুতি জানান দেয়।সোমবার সকাল থেকে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে হাজারো রোহিঙ্গা নিহত স্বজনদের স্মরণে সমবেত হয়। উখিয়ার কুতুপালংস্থ ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা
ক্যাম্পের বালুর মাঠ ছাড়াও উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে দিবসটি পালন করেছে।এতে রোহিঙ্গারানিরাপদে নিজভূমে ফিরতে গগণবিদারী আকুতি জানা।২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট রাত থেকে লাখ-লাখ রোহিঙ্গা এপারে পালিয়ে আসা শুরু হয়।এটি একেবারে রোহিঙ্গা স্রোত বলা যায়।মানবিক কারণে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গারা তাদের নিজভূমে ফিরে যেতে আকুতি জানিয়ে আসছিল।দীর্ঘ ৮ বছর কেটে গেছে আশ্রয় জীবন। কিন্তু প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি।বাস্তচ্যুত এসব রোহিঙ্গারা ২৫ আগষ্ট ফিরলেই নিজেদের বাস্তুহারা হওয়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস পালনে সোমবার(২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪’র বি-৬ ব্লক সংলগ্ন ফুটবল মাঠে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার’র অনুমতিক্রমে রোহিঙ্গা ফরসিবলি ডিসপ্লেসড মায়ানমার ন্যাশনাল রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিটি’র তত্ত্বাবধানে সভাপতি মাস্টার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত এতে উখিয়া টেকনাফের সকল ক্যাম্প থেকে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা উপস্থিত হন। ক্যাম্প-১ ওয়েস্ট’র ই-৬ ব্লক সংলগ্ন মফিজের খেলার মাঠে রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপাট্রিয়েশন’র তত্ত্বাবধানে সভাপতি মাস্টার দিল মোহাম্মদের সভাপতিত্বে দিবসটি পালিত হয়। এতে উখিয়া-টেকনাফের সকল ক্যাম্প থেকে প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করেন।একই সময়ে ক্যাম্প-৯’র ডি ব্লক, সাব ব্লক-সি-৬’র বালি বাজার মাঠে মুফতি আনিস, মাস্টার সাদেক ও আরএসও নেতা মৌলভী মোহাম্মদ নূরের নেতৃত্বে আনুমানিক ৪ হাজার রোহিঙ্গা অংশগ্রহণে পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেডমাঝি আবদুল আমিন, ARSPHR নেতা ডা. জুবায়ের, রহমত উল্লাহ, সাদেক হোসেন, আহমেদ, ইউসুফ,হেলাল (কায়ু মাইং), মোলভী বনি আমিন, নজিমুল্লাহ, মুফতি আনিস, মোলভী সাদেক, ক্যাম্প-৯র শামসু নূর এবং ক্যাম্প-১১’র আরএসও সদস্য সায়েদুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
এছাড়াও রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদের নেতৃত্বে ক্যাম্প-১ ওয়েস্ট,ক্যাম্প-৪, ক্যাম্প-৯ ও ক্যাম্প-১৭ সহ একাধিক স্থানে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।
সকল অনুষ্ঠান কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, মিয়ানমার ভাষায় তারানা গান, উদ্বোধনী ভাষণ, গণহত্যা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের বক্তৃতা, ইংরেজি ও মিয়ানমার ভাষায় বক্তৃতা উপস্থাপিত হয়।রোহিঙ্গারা নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করো’আমাদের নেতা আবু আম্মার জুনুনিকে মুক্তি দাও’আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ নয়,রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ করো,আমাদের নেতার মুক্তি মানেই রোহিঙ্গাদের মুক্তি,শরণার্থী জীবন নয়, আমরা মাতৃভূমি চাই ইত্যাদি শ্লোগানে পুরো ক্যাম্প এলাকা মুখরিত করে তুলে। তারা ২০১৭ সালের কিভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে প্রান বাঁচান বিভৎস চিত্র স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে ভেসে ওঠে একটাই দাবি ‘নিরাপত্তা, সম্মান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে টেকসই প্রত্যাবাসনে দেশে ফিরে যেতে চাই।ক্যাম্প-৭’র রোহিঙ্গা সাদেক জানান, ৮বছর পার হলেও একজনকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। বরং রাখাইনের পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখল। নতুন করে গত এক বছরে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমতে থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে বড় সংকট। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা।বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চালালেও রাখাইনে নির্যাতন–নিপীড়ন থেমে নেই। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গাদের ঢল অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের আকুতি,জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহল কার্যকর উদ্যোগ নিলে তবেই তাদের ফেরার পথ খুলবে বলে আশা করছেন।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মাদকপাচার, মানবপাচার, অপহরণ,চুরি, ডাকাতি ও হাঙ্গামার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। এতে বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চাপে পড়ছে দিন-দিন।তা নিয়ে চরম এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। স্থানীয়দের দাবি একটাই দ্রুত সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।
আরও পড়ুন:




















