আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উড়িষ্যা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পণ্যবাহী জাহাজডুবির তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি বাংলাদেশিসহ ২২ জন নাবিকের।পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি ওশান উইনার’ নামের জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর শনিবার রাত থেকে ভারতীয় কোস্টগার্ড ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে দুজনকে ইতোমধ্যে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।মঙ্গলবার অনুসন্ধানের সময় কোস্টগার্ডের জাহাজ ‘আইসিজিএস ভারদ’ একটি জরুরি বিপদসংকেত শনাক্ত করে। পরে যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, সংকেতটি জাহাজটির জরুরি অবস্থান নির্দেশকারী রেডিও বীকন বা ইপিআইআরবি থেকে এসেছে।
কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমান্ড্যান্ট অমিত উনিয়াল জানিয়েছেন, “একটি নৌবাহিনীর বিমান আকাশপথে অনুসন্ধানের সময় বিপদসংকেত শনাক্ত করে এবং সেই সংকেতের অবস্থান আইসিজিএস ভারদকে জানায়।”
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে বীকনটি ও একটি খালি লাইফবোট উদ্ধার করা হলেও সেখানে কোনো নাবিককে পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে ভারতীয় কোস্টগার্ডের পাশাপাশি চীনও সহযোগিতা করছে। চীনের মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সেন্টার বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ভারতীয় কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে চীন এরই মধ্যে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও পাঠিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ডুবে যাওয়া জাহাজটির ২৪ নাবিকের মধ্যে ২০ জন চীনের নাগরিক এবং তাদের মধ্যে দুজনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক।
উল্লেখ্য, ওডিশার পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে গত রোববার রাতে মাত্র আট মিনিটের মধ্যে জাহাজটি ৭২ হাজার টনেরও বেশি লৌহ আকরিক নিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায়। ওডিশা থেকে আকরিকগুলো চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কোস্টগার্ডের জাহাজ, বিমান ও বাণিজ্যিক জাহাজ দিয়ে বিশাল এলাক জুড়ে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























