ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

লামায় ব্লক নির্মাণে অনিয়ম, তীব্র শব্দ দূষণে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী

জাহিদ হাসান, বান্দরবান 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৯১ বার পঠিত
আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেঁষে বসানো মিক্সার মেশিনের শব্দ দুষণে অতিষ্ঠ সবাই। নির্মাণ কাজে অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ।লামা শহর রক্ষায় পানি নিয়ন্ত্রণ প্রতিরক্ষা বাঁধের ব্লক নির্মাণ কাজের শুরুতেই অতিমাত্রায় শব্দ দূষণসহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাতামুহুরি নদীর লামা শহর অংশে নয়শ্ পঁঞ্চাশ মিটার ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগ এ কাজের তদারকি করছেন।সম্প্রতি ব্লক নির্মাণ কাজ শুরু করেন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘন বসতি পুর্ন এলাকায় মিক্সার  মেশিন বসিয়ে ব্লক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে শব্দ দূষণের কবলে অস্থির বাসিন্দারা। লামা শহরের অদূরে উত্তরদিকে বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পশ্চিমপাড়ায় আবাসিক এলাকায় মিক্সার মেশিন বসিয়ে ব্লক বানানোর কাজ চলছে। ফলে ঘন বসতি পুর্ন গ্রামের মানুষ ও পাশে একটি নূরানী মাদ্রাসার কচিকাঁচা শিশুরা শব্দ দূষনের শিকার হচ্ছে। ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্রমতে নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল এবং রাতে ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল এবং রাতে ৬০ ডেসিবেল, শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৭০ ডেসিবেল।’ কিন্তু এই নীতিমালা শুধু কাগুজে থেকে গেছে বাস্তবে প্রয়োগ নেই।’সাধারণত সিমেন্ট বা কংক্রিট মিক্সার, অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার শব্দ তৈরি করে। যা শব্দ দূষণের একটি প্রধান কারণ। এই যন্ত্রগুলো সাধারণত উচ্চ ডেসিবেলে  শব্দ উৎপন্ন করে, যা শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে।’ এ ধরনের শব্দের উৎস কোনো শিশু কানন ও ঘন বসতিপুর্ন স্থানে সেট-আপ করা সম্পুর্ন বেআইনি। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরে এনে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে ছাত্র শিক্ষক ও গ্রামবাসীরা জানান। অপরদিকে ব্লক নির্মাণ কাজে বালু সিমেন্ট মিশ্রনে নিয়ম মানা হচ্ছেনা। অভিযোগ উঠেছে সিলেকশন বালুর সাথে লোকাল বালু মিশিয়ে ব্লক বানানো হচ্ছে। এছাড়া বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণে সিমেন্টের পরিমান একেবারেই কম দেয়া হচ্ছে। ফলে দুর্বল ব্লক তৈরি হচ্ছে যা নির্দিষ্ট মেগাপিক্সেল মান থাকবেনা। এ ব্যাপারে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ব্লক তৈরির পর তা ঢাকা ল্যাবে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে। ল্যাব টেস্টে ব্লকের পরিমাপ ও মানের ক্ষেত্রে টেন পয়েন্ট ফাইভ মেগাপিক্সেল না হলে সেটা রিজেক্ট করা হবে।”এদিকে স্থানীয়রা দাবি করছেন, ল্যাব পরীক্ষার জন্য কয়েকটি ব্লকের মান ঠিক রেখে বাকিগুলো খারাপ করতে পারে নির্মানকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন জানান, ‘এই অনিয়মের সাথে সাইট তদারক পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক স্টেন জড়িত।’ এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

লামায় ব্লক নির্মাণে অনিয়ম, তীব্র শব্দ দূষণে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেঁষে বসানো মিক্সার মেশিনের শব্দ দুষণে অতিষ্ঠ সবাই। নির্মাণ কাজে অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ।লামা শহর রক্ষায় পানি নিয়ন্ত্রণ প্রতিরক্ষা বাঁধের ব্লক নির্মাণ কাজের শুরুতেই অতিমাত্রায় শব্দ দূষণসহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাতামুহুরি নদীর লামা শহর অংশে নয়শ্ পঁঞ্চাশ মিটার ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগ এ কাজের তদারকি করছেন।সম্প্রতি ব্লক নির্মাণ কাজ শুরু করেন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘন বসতি পুর্ন এলাকায় মিক্সার  মেশিন বসিয়ে ব্লক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে শব্দ দূষণের কবলে অস্থির বাসিন্দারা। লামা শহরের অদূরে উত্তরদিকে বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পশ্চিমপাড়ায় আবাসিক এলাকায় মিক্সার মেশিন বসিয়ে ব্লক বানানোর কাজ চলছে। ফলে ঘন বসতি পুর্ন গ্রামের মানুষ ও পাশে একটি নূরানী মাদ্রাসার কচিকাঁচা শিশুরা শব্দ দূষনের শিকার হচ্ছে। ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্রমতে নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল এবং রাতে ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল এবং রাতে ৬০ ডেসিবেল, শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৭০ ডেসিবেল।’ কিন্তু এই নীতিমালা শুধু কাগুজে থেকে গেছে বাস্তবে প্রয়োগ নেই।’সাধারণত সিমেন্ট বা কংক্রিট মিক্সার, অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার শব্দ তৈরি করে। যা শব্দ দূষণের একটি প্রধান কারণ। এই যন্ত্রগুলো সাধারণত উচ্চ ডেসিবেলে  শব্দ উৎপন্ন করে, যা শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে।’ এ ধরনের শব্দের উৎস কোনো শিশু কানন ও ঘন বসতিপুর্ন স্থানে সেট-আপ করা সম্পুর্ন বেআইনি। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরে এনে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে ছাত্র শিক্ষক ও গ্রামবাসীরা জানান। অপরদিকে ব্লক নির্মাণ কাজে বালু সিমেন্ট মিশ্রনে নিয়ম মানা হচ্ছেনা। অভিযোগ উঠেছে সিলেকশন বালুর সাথে লোকাল বালু মিশিয়ে ব্লক বানানো হচ্ছে। এছাড়া বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণে সিমেন্টের পরিমান একেবারেই কম দেয়া হচ্ছে। ফলে দুর্বল ব্লক তৈরি হচ্ছে যা নির্দিষ্ট মেগাপিক্সেল মান থাকবেনা। এ ব্যাপারে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ব্লক তৈরির পর তা ঢাকা ল্যাবে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে। ল্যাব টেস্টে ব্লকের পরিমাপ ও মানের ক্ষেত্রে টেন পয়েন্ট ফাইভ মেগাপিক্সেল না হলে সেটা রিজেক্ট করা হবে।”এদিকে স্থানীয়রা দাবি করছেন, ল্যাব পরীক্ষার জন্য কয়েকটি ব্লকের মান ঠিক রেখে বাকিগুলো খারাপ করতে পারে নির্মানকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন জানান, ‘এই অনিয়মের সাথে সাইট তদারক পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক স্টেন জড়িত।’ এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।