ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

লোহাগড়ার  উলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ। রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে ফায়দা নিতে চাচ্ছে একটি মহল।#

নড়াইল প্রতিনিধি,
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ৪৭ বার পঠিত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার  উত্তপ্ত উলা গ্রামের মানুষের যেন শান্তি নেই! অশান্তি কিছুতেই যেন এ এলাকার মানুষের পিছু ছাড়ছে না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক তাদের ফায়দা লুটতে গ্রামের নিরীহ মানুষদের উপর চালাচ্ছে নির্যাতন। তাদের অব্যাহত হুমকিতে নিজ নিজ জমিতে কৃষি কাজ করাতো দূরের কথা, নিজ বাড়িতে বসবাস করাটাই যেন  তাদের জন্য আতংকের সাথে বসবাস করা। চলছে বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট,হামলা-পাল্টা হামলা।
বিভিন্ন লোকের সাথে আলাপকালে জানা যায়,
ওই এলাকার এনায়েত লস্কর ও ওহিদ শেখের নামে রয়েছে নিরব চাঁদাবাজী ও  সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে তারা উলো গ্রামের নিরীহ মানুষের জীবন নিয়ে যেন খেলা করছেন।
ইতিমধ্যে  নেতৃত্ব দিয়ে তিনজনকে কুপিয়ে মৃত্যু শয্যায় পাঠিয়ে দেবার অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের অত্যাচারে উলার মানুষ অতিষ্ট। বয়রা  গ্রাম থেকে এসে উলা গ্রামকে  শাসনের নামে  নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার নিপীড়ন শুরু করেছে। বিভিন্ন মানুষ থেকে চাঁদাবাজি, চাকরির নাম করে লাখ লাখ টাকা লুটে নেওয়া সহ মাদককারবারীদের শেল্টার দিয়ে  গ্রামটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তকমা দিয়ে মামলা দেয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ। তাদের  রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও  রয়েছে বিতর্ক। ফ্যাসিস্ট আমলে  ফ্যাসিস্টদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার অভিযোগ অনেকেরই। ২০২৪ এর  ৫ আগস্টের  পরে এসে বিএনপির  নাম ভাঙ্গিয়ে রাম রাজত্ব করবার অভিযোগ রয়েছে। মামলা থেকে রক্ষা পেতে  নিজেরা ঘরবাড়ি ভেঙে প্রতিপক্ষদের নামে কাউন্টার মামলা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।লক্ষীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পারভেজ কাজী ও উলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তবিবর মোল্লার সমর্থিত লোকজন কে স্থানীয় বিরোধের জেরে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষের এনায়েত লস্কার,মেম্বার অহিদ শেখ, ওমর মোল্লা, মশিয়ার শেখ গ্রুপের লোকজন। এ ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষেরা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  গত ১১ জুলাই শুক্রবার রাতে বিএনপির উলা ওয়ার্ড এর সভাপতি তবিবর মোল্লা পক্ষের জুয়েল মোল্লা,শরিফুল,জাকির,আনিচ, সিনবাদ সহ কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে এনায়েত লস্কার,মেম্বার ওহীদ শেখ, মশিয়ার শেখ ওরফে মছি সহ  ওমর মোল্লার লোকজন।
গত ১৩ জুলাই রবিবার সকালে বাবু গাজীকে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
লক্ষীপাশা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি পারভেজ কাজী বলেন, উলা গ্রামে মূলত সামাজিক দ্বন্দ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। রাজনৈতিক দলের কোন ব্যাপার নাই।
ওই এলাকার ইমরান, ফুল মিয়া গাজী, বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা, আলেয়া বেগম সহ অনেকে জানান, মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ চলছে। এলাকার দুটি দলেই বিএনপি ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সমর্থক রয়েছে। এটি দলীয় কোন্দল নয়। বরং সামাজিক কোন্দল। কিন্তু একটি মহল রাজনৈতিক কোন্দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে।
অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।  স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

লোহাগড়ার  উলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ। রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে ফায়দা নিতে চাচ্ছে একটি মহল।#

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার  উত্তপ্ত উলা গ্রামের মানুষের যেন শান্তি নেই! অশান্তি কিছুতেই যেন এ এলাকার মানুষের পিছু ছাড়ছে না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক তাদের ফায়দা লুটতে গ্রামের নিরীহ মানুষদের উপর চালাচ্ছে নির্যাতন। তাদের অব্যাহত হুমকিতে নিজ নিজ জমিতে কৃষি কাজ করাতো দূরের কথা, নিজ বাড়িতে বসবাস করাটাই যেন  তাদের জন্য আতংকের সাথে বসবাস করা। চলছে বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট,হামলা-পাল্টা হামলা।
বিভিন্ন লোকের সাথে আলাপকালে জানা যায়,
ওই এলাকার এনায়েত লস্কর ও ওহিদ শেখের নামে রয়েছে নিরব চাঁদাবাজী ও  সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে তারা উলো গ্রামের নিরীহ মানুষের জীবন নিয়ে যেন খেলা করছেন।
ইতিমধ্যে  নেতৃত্ব দিয়ে তিনজনকে কুপিয়ে মৃত্যু শয্যায় পাঠিয়ে দেবার অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের অত্যাচারে উলার মানুষ অতিষ্ট। বয়রা  গ্রাম থেকে এসে উলা গ্রামকে  শাসনের নামে  নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার নিপীড়ন শুরু করেছে। বিভিন্ন মানুষ থেকে চাঁদাবাজি, চাকরির নাম করে লাখ লাখ টাকা লুটে নেওয়া সহ মাদককারবারীদের শেল্টার দিয়ে  গ্রামটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তকমা দিয়ে মামলা দেয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ। তাদের  রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও  রয়েছে বিতর্ক। ফ্যাসিস্ট আমলে  ফ্যাসিস্টদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার অভিযোগ অনেকেরই। ২০২৪ এর  ৫ আগস্টের  পরে এসে বিএনপির  নাম ভাঙ্গিয়ে রাম রাজত্ব করবার অভিযোগ রয়েছে। মামলা থেকে রক্ষা পেতে  নিজেরা ঘরবাড়ি ভেঙে প্রতিপক্ষদের নামে কাউন্টার মামলা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।লক্ষীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পারভেজ কাজী ও উলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তবিবর মোল্লার সমর্থিত লোকজন কে স্থানীয় বিরোধের জেরে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষের এনায়েত লস্কার,মেম্বার অহিদ শেখ, ওমর মোল্লা, মশিয়ার শেখ গ্রুপের লোকজন। এ ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষেরা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  গত ১১ জুলাই শুক্রবার রাতে বিএনপির উলা ওয়ার্ড এর সভাপতি তবিবর মোল্লা পক্ষের জুয়েল মোল্লা,শরিফুল,জাকির,আনিচ, সিনবাদ সহ কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে এনায়েত লস্কার,মেম্বার ওহীদ শেখ, মশিয়ার শেখ ওরফে মছি সহ  ওমর মোল্লার লোকজন।
গত ১৩ জুলাই রবিবার সকালে বাবু গাজীকে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
লক্ষীপাশা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি পারভেজ কাজী বলেন, উলা গ্রামে মূলত সামাজিক দ্বন্দ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। রাজনৈতিক দলের কোন ব্যাপার নাই।
ওই এলাকার ইমরান, ফুল মিয়া গাজী, বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা, আলেয়া বেগম সহ অনেকে জানান, মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ চলছে। এলাকার দুটি দলেই বিএনপি ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সমর্থক রয়েছে। এটি দলীয় কোন্দল নয়। বরং সামাজিক কোন্দল। কিন্তু একটি মহল রাজনৈতিক কোন্দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে।
অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।  স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।