ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
তদন্তে প্রশাসন, তোলপাড় জেলাজুড়ে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ

0-3840x1742-0-0-{}-0-12#

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:   নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় দুটি পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ও মাথা ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়া, ক্লাসে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা এবং পাঠদান ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি ঘটনায় বিভাগীয় মামলা এবং অন্য ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানা গেছে।
প্রথম ঘটনাটি উপজেলার চারঘরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়কে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃজামিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন সহকারী শিক্ষকও নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে পরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়মিত পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে হাত-পা ও শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়া হতো। এ ধরনের ঘটনার ভিডিওচিত্র স্থানীয়দের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫জুলাই ২০২৬
 বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী মিসকাত(মৌ)-কে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে একই উপজেলার খগা খড়িবাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষিকা  তিলোত্তমা রানী রায় (কাব্য তীর্থ)-এর বিরুদ্ধে ক্লাসে পাঠদান না করে ছাত্রীদের দিয়ে শরীর ও মাথা ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম হলেও অভিযুক্ত শিক্ষিকা নিয়মিত পাঠদান না করে দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে বসে বা শুয়ে থাকতেন এবং ছাত্রীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ ও মাথা টিপিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃমারুফা আক্তার (লিজা)-এর কাছেও বিষয়টি আগে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমির হামজা বোরহান উদ্দিন-কে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে ৭জুলাই ২৬ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ দেখতে পান। পরে প্রধান শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে না পেয়ে ডিমলা শহরের একটি অনলাইন সেবাকেন্দ্রে অবস্থান করতে দেখা যায়, যা গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card

13 October 2026

হোমনায় আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

তদন্তে প্রশাসন, তোলপাড় জেলাজুড়ে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৩:১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:   নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় দুটি পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ও মাথা ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়া, ক্লাসে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা এবং পাঠদান ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি ঘটনায় বিভাগীয় মামলা এবং অন্য ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানা গেছে।
প্রথম ঘটনাটি উপজেলার চারঘরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়কে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃজামিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন সহকারী শিক্ষকও নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে পরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়মিত পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে হাত-পা ও শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়া হতো। এ ধরনের ঘটনার ভিডিওচিত্র স্থানীয়দের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫জুলাই ২০২৬
 বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী মিসকাত(মৌ)-কে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে একই উপজেলার খগা খড়িবাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষিকা  তিলোত্তমা রানী রায় (কাব্য তীর্থ)-এর বিরুদ্ধে ক্লাসে পাঠদান না করে ছাত্রীদের দিয়ে শরীর ও মাথা ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম হলেও অভিযুক্ত শিক্ষিকা নিয়মিত পাঠদান না করে দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে বসে বা শুয়ে থাকতেন এবং ছাত্রীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ ও মাথা টিপিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃমারুফা আক্তার (লিজা)-এর কাছেও বিষয়টি আগে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমির হামজা বোরহান উদ্দিন-কে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে ৭জুলাই ২৬ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ দেখতে পান। পরে প্রধান শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে না পেয়ে ডিমলা শহরের একটি অনলাইন সেবাকেন্দ্রে অবস্থান করতে দেখা যায়, যা গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card