ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুলিশ শ্রমিক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আহত-১০

মোঃ আল-আমিন 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • / ৬১ বার পঠিত
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া আর এ কে সিরামিক্সের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ১০ দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আটকা পড়েন হাজার হাজার অফিসগামী যাত্রীরা।
রোববার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কারখানার কয়েক’শ শ্রমিক।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহাসড়ক যানজট মুক্ত করার জন্য শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁদের ছাত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস (টিয়ার গ্যাস) ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিক তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। এ সময় হঠাৎ করে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছে। কারখানার আরেক শ্রমিক আনোয়ার বলেন, দীর্ঘ সাত মাসের চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট) অনুযায়ী বেতন-ভাতা বকেয়া পড়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ নয়, কাল-এমন করে আমাদের শ্রমিকদের ঘোরাচ্ছেন। আমাদের তো সংসার আছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করছে না? নির্দিষ্ট যে বেতন, তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ।
একই কারখানার শ্রমিক কাউসার বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়ব না। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বেতনের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্টের সাত মাসের এরিয়া বিল আগস্ট মাসের ১ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক পদে সঠিক কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। যোগ্য পদে অযোগ্য লোক থাকলে অতি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ মোট ১০ দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি। এগুলো আমাদের শ্রমিকদের দাবি।
আরএকে সিরামিক্স কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আজকে শ্রমিকেরা ১০ দফা দাবিগুলোর বিষয়ে কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শ্রমিকেরা আমাদের কথা না শুনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শ্রমিকেরা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানার পুলিশ ও শিল্প পুলিশের বহুসংখ্যক সদস্য এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তাঁদের সরাতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। শ্রমিকেরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট অবস্থা নিয়ে দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে যোগদান করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রূপে আনতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুলিশ শ্রমিক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আহত-১০

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া আর এ কে সিরামিক্সের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ১০ দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আটকা পড়েন হাজার হাজার অফিসগামী যাত্রীরা।
রোববার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কারখানার কয়েক’শ শ্রমিক।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহাসড়ক যানজট মুক্ত করার জন্য শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁদের ছাত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস (টিয়ার গ্যাস) ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিক তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। এ সময় হঠাৎ করে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছে। কারখানার আরেক শ্রমিক আনোয়ার বলেন, দীর্ঘ সাত মাসের চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট) অনুযায়ী বেতন-ভাতা বকেয়া পড়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ নয়, কাল-এমন করে আমাদের শ্রমিকদের ঘোরাচ্ছেন। আমাদের তো সংসার আছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করছে না? নির্দিষ্ট যে বেতন, তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ।
একই কারখানার শ্রমিক কাউসার বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়ব না। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বেতনের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্টের সাত মাসের এরিয়া বিল আগস্ট মাসের ১ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক পদে সঠিক কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। যোগ্য পদে অযোগ্য লোক থাকলে অতি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ মোট ১০ দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি। এগুলো আমাদের শ্রমিকদের দাবি।
আরএকে সিরামিক্স কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আজকে শ্রমিকেরা ১০ দফা দাবিগুলোর বিষয়ে কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শ্রমিকেরা আমাদের কথা না শুনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শ্রমিকেরা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানার পুলিশ ও শিল্প পুলিশের বহুসংখ্যক সদস্য এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তাঁদের সরাতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। শ্রমিকেরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট অবস্থা নিয়ে দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে যোগদান করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রূপে আনতে সক্ষম হয়।