ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতার বাড়িতে আগুন

শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৩৪ বার পঠিত
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদকাসক্ত স্বামী নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন স্বামী। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বাড়িতে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ নিহতের শাশুড়িকে আটক করেছে।
বুধবার ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন মৃধাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের ঘটনার খবর স্থানিয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে শাজাহান মৃধার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শ্রীপরের ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে দুটি বাড়ি আগুণে ভস্মীভূত হয়।
নিহত সুইটি আক্তার নিশি (২২) ময়মনসিংহের পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামের মৃত আফসারুল ইসলামের মেয়ে। পলাতক মো. নূরুল ইসলাম (৩৫) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী মৃধাপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান মৃধার ছেলে।
স্থানিয়রা জানায়, নূরুল ইসলাম মাদকের সাথে জড়িত রয়েছে। সে একাধিক বিবাহ করেছে বিভিন্ন সময় সে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে।তার ভয়ে এলাকায় কেউ কথা বলতে চাইতো না।গত দেড় বছর আগে নূরুল ইসলাম সুইটির বিয়ে করে। তাঁদের ঘরে চার মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুর কান্নার শব্দে প্রতিবেশীরা গিয়ে বাড়িতে সুইটি আক্তারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এসময় নুরুল ইসলাম পালিয়ে যায়।
নিহতের মামা জসিম শেখ বলেন, আমার ভাগনিকে ছোটবেলায় মা হারানোর পর এক বোনের কাছে মানুষ করেছি। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় গোপনে তার খালু নাজমুল মাদক কারবারি নূরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য ও নানা বিষয় নিয়ে সুইটিকে নির্যাতন করত সে। ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে নাজমুল ফোন করে জানান, সুইটি মারা গেছে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে দেখি তার মরদেহ পড়ে আছে, শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন। দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে থেঁতলানো, মাথা ও শরীরজুড়ে একাধিক আঘাত। পাশেই তার শিশুটি কাঁদছিল, শরীরেও রক্ত লেগে ছিল।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতক স্বামী নূরুল ইসলাম পালিয়ে গেছে। তাঁকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে নিহতের শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতার বাড়িতে আগুন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদকাসক্ত স্বামী নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন স্বামী। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বাড়িতে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ নিহতের শাশুড়িকে আটক করেছে।
বুধবার ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন মৃধাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের ঘটনার খবর স্থানিয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে শাজাহান মৃধার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শ্রীপরের ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে দুটি বাড়ি আগুণে ভস্মীভূত হয়।
নিহত সুইটি আক্তার নিশি (২২) ময়মনসিংহের পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামের মৃত আফসারুল ইসলামের মেয়ে। পলাতক মো. নূরুল ইসলাম (৩৫) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী মৃধাপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান মৃধার ছেলে।
স্থানিয়রা জানায়, নূরুল ইসলাম মাদকের সাথে জড়িত রয়েছে। সে একাধিক বিবাহ করেছে বিভিন্ন সময় সে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে।তার ভয়ে এলাকায় কেউ কথা বলতে চাইতো না।গত দেড় বছর আগে নূরুল ইসলাম সুইটির বিয়ে করে। তাঁদের ঘরে চার মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুর কান্নার শব্দে প্রতিবেশীরা গিয়ে বাড়িতে সুইটি আক্তারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এসময় নুরুল ইসলাম পালিয়ে যায়।
নিহতের মামা জসিম শেখ বলেন, আমার ভাগনিকে ছোটবেলায় মা হারানোর পর এক বোনের কাছে মানুষ করেছি। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় গোপনে তার খালু নাজমুল মাদক কারবারি নূরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য ও নানা বিষয় নিয়ে সুইটিকে নির্যাতন করত সে। ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে নাজমুল ফোন করে জানান, সুইটি মারা গেছে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে দেখি তার মরদেহ পড়ে আছে, শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন। দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে থেঁতলানো, মাথা ও শরীরজুড়ে একাধিক আঘাত। পাশেই তার শিশুটি কাঁদছিল, শরীরেও রক্ত লেগে ছিল।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতক স্বামী নূরুল ইসলাম পালিয়ে গেছে। তাঁকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে নিহতের শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।