ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

সরকারি কবরস্থান দখল নিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ

শহীদুল ইসলাম সোহাগ, শরনখোলা (বাগেরহাট):   বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর  গ্রামের বান্দাঘাটা নামক স্থানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কবরস্থানের জমি দখল করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকনের প্রচেষ্টায় অজ্ঞাত লাশ, গরিব, অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের দাফনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানের স্থান নির্ধারণ করা হয়।
এরপর থেকে ওই স্থানে অসংখ্য মানুষের কবর দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাবাসীর কাছে এটি একটি স্বীকৃত কবরস্থান হিসেবে পরিচিত।অভিযোগ উঠেছে,সম্প্রতি  একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে কবরস্থানের জমি ভাড়া দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ শে জুলাই বিকেলে  এক ব্যবসায়ীর কাছে কবরস্থানের একটি অংশ ভাড়া দেওয়া হলে তিনি সেখানে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।বিষয়টি  মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম,ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি এবং শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ  অবগত হন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জমি ভাড়া নেওয়া ব্যবসায়ী তার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান এবং কাজ বন্ধ করে দেন।তবে এলাকাবাসীর দাবি,শুধু ওই একটি অংশ নয়,এখনো কবরস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর দখলে রয়েছে। দ্রুত এসব দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে কবরস্থানের জমি উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে যারা জমি ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের দাবি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এক সময় তাদের জমি অধিগ্রহণ করেছে। কিন্তু তারা এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। এ বিষয়ে তারা আদালতে মামলা করেছেন এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের নামে তারা জমি ভাড়া দিয়ে আসছেন।ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কেন্দ্রীয় কবরস্থানের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কীভাবে প্রকাশ্যে জমি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে? প্রশাসনের নাকের ডগায় এই দখল-বাণিজ্যের পেছনে কারা রয়েছে এবং তাদের খুঁটির জোরই বা কোথায়?এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে কবরস্থানের জমি সংরক্ষণ এবং দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
জমির মালিকানা দাবি করে মহামান্য আদালতে মামলা যিনি করেছেন আব্দুল গাফফার আকনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কবরস্থানের জমি দখল কিংবা ভাড়া দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন  না,তিনি মহামান্য আদালতের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করে মামলা করেছেন, ন্যায় বিচার পেলে তিনি জমিতে দখলে যাবেন।

Share this news as a Photo Card

30 July 2026

বিএনপি কর্মীকে মারধর ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

সরকারি কবরস্থান দখল নিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
শহীদুল ইসলাম সোহাগ, শরনখোলা (বাগেরহাট):   বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর  গ্রামের বান্দাঘাটা নামক স্থানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কবরস্থানের জমি দখল করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকনের প্রচেষ্টায় অজ্ঞাত লাশ, গরিব, অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের দাফনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানের স্থান নির্ধারণ করা হয়।
এরপর থেকে ওই স্থানে অসংখ্য মানুষের কবর দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাবাসীর কাছে এটি একটি স্বীকৃত কবরস্থান হিসেবে পরিচিত।অভিযোগ উঠেছে,সম্প্রতি  একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে কবরস্থানের জমি ভাড়া দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ শে জুলাই বিকেলে  এক ব্যবসায়ীর কাছে কবরস্থানের একটি অংশ ভাড়া দেওয়া হলে তিনি সেখানে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।বিষয়টি  মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম,ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি এবং শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ  অবগত হন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জমি ভাড়া নেওয়া ব্যবসায়ী তার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান এবং কাজ বন্ধ করে দেন।তবে এলাকাবাসীর দাবি,শুধু ওই একটি অংশ নয়,এখনো কবরস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর দখলে রয়েছে। দ্রুত এসব দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে কবরস্থানের জমি উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে যারা জমি ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের দাবি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এক সময় তাদের জমি অধিগ্রহণ করেছে। কিন্তু তারা এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। এ বিষয়ে তারা আদালতে মামলা করেছেন এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের নামে তারা জমি ভাড়া দিয়ে আসছেন।ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কেন্দ্রীয় কবরস্থানের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কীভাবে প্রকাশ্যে জমি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে? প্রশাসনের নাকের ডগায় এই দখল-বাণিজ্যের পেছনে কারা রয়েছে এবং তাদের খুঁটির জোরই বা কোথায়?এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে কবরস্থানের জমি সংরক্ষণ এবং দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
জমির মালিকানা দাবি করে মহামান্য আদালতে মামলা যিনি করেছেন আব্দুল গাফফার আকনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কবরস্থানের জমি দখল কিংবা ভাড়া দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন  না,তিনি মহামান্য আদালতের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করে মামলা করেছেন, ন্যায় বিচার পেলে তিনি জমিতে দখলে যাবেন।

Share this news as a Photo Card