
এম.জে.এ মামুন:
অসীম সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সাহসিকতা) পেয়েছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) অর্ণব বড়ুয়া।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
অর্ণব বড়ুয়ার এ গৌরবময় অর্জনে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।
জেলা ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযান ও তদন্তে সাহসিকতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন এসআই অর্ণব বড়ুয়া। এ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে অন্তত ৫৩ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও লুণ্ঠিত মালামাল। পাশাপাশি কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ২৯টি ডাকাতি ও চুরি মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
দেবিদ্বার, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও সদর দক্ষিণসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, দেশীয় এলজি, কার্তুজ, রামদা, চাপাতি, ছুরি ও কোড়াবারিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি ও হাইয়েস গাড়িও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার পাশাপাশি নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বেশ কয়েকটি চুরি ও ডাকাতি মামলার রহস্যও উদঘাটন করা হয়। এর মধ্যে নোয়াখালীর সুধারাম থানার আলোচিত স্বর্ণের দোকান চুরির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং ৯ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ উদ্ধার উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনতি ও তাঁর মায়ের আলোচিত ক্লুলেস হত্যা মামলায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার, বুড়িচংয়ের কলেজছাত্র তুহিন হত্যা মামলা, সদর দক্ষিণে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মনোহরগঞ্জের আলোচিত ক্লুলেস আলাউদ্দিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অর্ণব বড়ুয়া। এসব মামলায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-সংক্রান্ত অপরাধে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই সময়ে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে ২৩৮ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪০ পিস ইয়াবা, ৬২৫ বোতল ফেনসিডিল, ৫০ বোতল মদ ও ২৪ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, প্রাইভেটকার, বাস ও মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এসআই অর্ণব বড়ুয়া দায়িত্ব পালনে পেশাদার, দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর এ অর্জন জেলা পুলিশের সদস্যদের জন্যও গৌরবের বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
সাহসিকতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অর্ণব বড়ুয়ার বিপিএম পদক অর্জন কুমিল্লা জেলা পুলিশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সম্মাননা।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 











