ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
লিচুবাগানে বেঁধে রাখে স্বামীকে, রাতভর থানায় ভুক্তভোগী নারী—পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাষবিকতার রক্তচক্ষু

উজ্জ্বল মাহমুদ :কুষ্টিয়া :
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৮৩ বার পঠিত
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় স্বামীর সামনেই এক হোটেলকর্মী নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পৈশাচিক এ ঘটনা ঘটে শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর গ্রামের একটি লিচুবাগানে। পুলিশ রাতেই পাঁচ সন্দেহভাজনকে আটক করলেও, ভুক্তভোগী নারীকে দীর্ঘ সময় থানায় অবরুদ্ধ রেখে চিকিৎসা না দেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী (২৬) ওই নারী ভেড়ামারার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বারো মাইল এলাকার একটি হোটেলে কাজ শেষে রাতে স্বামীর সঙ্গে ভ্যানে বাড়ি ফেরার সময় মসলেমপুর এলাকার ‘ফাঁকা মাঠ’ নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা খবর দিলে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। তারা হলেন: মসলেমপুরের কালু প্রামানিক (৪৬), ষোল দাগের মুর্শিদ শেখ (৪৫), টিটু ওরফে টিপু মন্ডল (৪২), এজাজুল মন্ডল (৪২) ও ভ্যানচালক রুবেল আলী (২৪)। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
তবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে পুলিশের তৎপরতা। ধর্ষণের শিকার নারী ও তার স্বামীকে রাতেই থানায় নিলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানে আটকে রাখা হয়। এই দীর্ঘ সময়েও তাকে কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। সংবাদকর্মীরা কথা বলতে চাইলে ওসি আব্দুর রব তালুকদার বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, “৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেন, আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন, এরপর তাকে মেডিকেল করানো হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনার বিচার যেন দৃষ্টান্তমূলক হয়। পাশাপাশি পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও ‘অমানবিক আচরণ’ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

লিচুবাগানে বেঁধে রাখে স্বামীকে, রাতভর থানায় ভুক্তভোগী নারী—পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাষবিকতার রক্তচক্ষু

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় স্বামীর সামনেই এক হোটেলকর্মী নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পৈশাচিক এ ঘটনা ঘটে শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর গ্রামের একটি লিচুবাগানে। পুলিশ রাতেই পাঁচ সন্দেহভাজনকে আটক করলেও, ভুক্তভোগী নারীকে দীর্ঘ সময় থানায় অবরুদ্ধ রেখে চিকিৎসা না দেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী (২৬) ওই নারী ভেড়ামারার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বারো মাইল এলাকার একটি হোটেলে কাজ শেষে রাতে স্বামীর সঙ্গে ভ্যানে বাড়ি ফেরার সময় মসলেমপুর এলাকার ‘ফাঁকা মাঠ’ নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা খবর দিলে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। তারা হলেন: মসলেমপুরের কালু প্রামানিক (৪৬), ষোল দাগের মুর্শিদ শেখ (৪৫), টিটু ওরফে টিপু মন্ডল (৪২), এজাজুল মন্ডল (৪২) ও ভ্যানচালক রুবেল আলী (২৪)। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
তবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে পুলিশের তৎপরতা। ধর্ষণের শিকার নারী ও তার স্বামীকে রাতেই থানায় নিলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানে আটকে রাখা হয়। এই দীর্ঘ সময়েও তাকে কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। সংবাদকর্মীরা কথা বলতে চাইলে ওসি আব্দুর রব তালুকদার বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, “৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেন, আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন, এরপর তাকে মেডিকেল করানো হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনার বিচার যেন দৃষ্টান্তমূলক হয়। পাশাপাশি পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও ‘অমানবিক আচরণ’ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।