ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

৩১-হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের শিশু উদ্ধার: বাবাসহ গ্রেফতার-৪

মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুর বাবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দীন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের বাসিন্দা ও শিশুর বাবা মোঃ হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোছাঃ মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের মোছাঃ জেসমিন আক্তার (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই হামিদুল ইসলাম বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। এরপর আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সন্তানকে ফিরে পেতে পরবর্তীতে শিশুর মা মোছাঃ রোমানা খাতুন (২২) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ আগস্ট শিশুর বাবার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সুপারের দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার মোড় থেকে প্রথমে হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া থেকে মোর্শেদা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয় এবং জেসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশুকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মায়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

সাংবাদিক আব্দুর রহিমকে মারধর, খুন-পা কেটে ফেলার হুমকির অভিযোগ

21 September 2026

বাঘায় চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যা মামলার আসামী জহুরুল পুলিশের হাতে আটক

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

৩১-হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের শিশু উদ্ধার: বাবাসহ গ্রেফতার-৪

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:৪৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুর বাবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দীন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের বাসিন্দা ও শিশুর বাবা মোঃ হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোছাঃ মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের মোছাঃ জেসমিন আক্তার (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই হামিদুল ইসলাম বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। এরপর আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সন্তানকে ফিরে পেতে পরবর্তীতে শিশুর মা মোছাঃ রোমানা খাতুন (২২) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ আগস্ট শিশুর বাবার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সুপারের দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার মোড় থেকে প্রথমে হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া থেকে মোর্শেদা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয় এবং জেসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশুকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মায়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card