ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
তাজা খবর
ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

নদী নয় যেন ময়লার বাগাড়ে বিস্তৃত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৮ বার পঠিত
 মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেশের বৃহৎ হাওর হাকালুকিতে মিলিত হয়েছে জুড়ী নদী। শহরের ঐতিহ্যবাহী ভবানীগঞ্জ ও কামিনীগঞ্জ বাজার দুটি জুড়ি নদীর তীরে অবস্থিত। বাজার দুটির ময়লা-আবর্জনার কারণে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদীটি।
ব্রিটিশ শাসনামলে স্থাপিত ভবানীগঞ্জ ও কামিনীগঞ্জ বাজারের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়েছে শহরের শিশুপার্ক সেতু। এই সেতু থেকে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে জুড়ী নদীতে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বর্জ্য পদার্থও নদীতে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত হাকালুকি হাওরে গিয়ে পড়ে মিলিত হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে হাওরাঞ্চলের মূল্যবান জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত সভায় বারবার এ ব্যাপারে কথা বলার পরও নির্বিকার প্রশাসন।
ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, জুড়ী শহরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে নদীতে এসব ফেলে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জুড়ীতে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাছে বারবার আমরা ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছি। প্রশাসন এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত পরিবেশ রক্ষা করা অপরিহার্য।’
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শিক্ষাবিদ মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি বারবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নদীতে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থ ফেলার কারণে দেশের বৃহৎ হাওর হাকালুকিতে মিঠাপানির মাছ বিলুপ্তির পথে।
উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা বলেন, জনপ্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় কথা বলে আসছেন। প্রশাসনের ভাষ্য, শহরের আশেপাশে খালি জায়গা না থাকায় ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহ বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকদের নিয়ে এক সভায় তাদের নদীতে বর্জ্য পদার্থ না ফেলার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন।
ইউএনও বাবলু সূত্রধর বলেন, শহরের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মানুষ জুড়ী নদীসহ যত্রতত্র ময়লা ফেলছে। শিগগিরই ডাম্পিং স্টেশনের স্থান নির্ধারণের চেষ্টায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট যা যা করনীয় করবেন তিনি এমনটাই আশ্বস্ত করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নদী নয় যেন ময়লার বাগাড়ে বিস্তৃত

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
 মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেশের বৃহৎ হাওর হাকালুকিতে মিলিত হয়েছে জুড়ী নদী। শহরের ঐতিহ্যবাহী ভবানীগঞ্জ ও কামিনীগঞ্জ বাজার দুটি জুড়ি নদীর তীরে অবস্থিত। বাজার দুটির ময়লা-আবর্জনার কারণে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদীটি।
ব্রিটিশ শাসনামলে স্থাপিত ভবানীগঞ্জ ও কামিনীগঞ্জ বাজারের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়েছে শহরের শিশুপার্ক সেতু। এই সেতু থেকে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে জুড়ী নদীতে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বর্জ্য পদার্থও নদীতে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত হাকালুকি হাওরে গিয়ে পড়ে মিলিত হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে হাওরাঞ্চলের মূল্যবান জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত সভায় বারবার এ ব্যাপারে কথা বলার পরও নির্বিকার প্রশাসন।
ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, জুড়ী শহরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে নদীতে এসব ফেলে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জুড়ীতে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাছে বারবার আমরা ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছি। প্রশাসন এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত পরিবেশ রক্ষা করা অপরিহার্য।’
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শিক্ষাবিদ মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি বারবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নদীতে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থ ফেলার কারণে দেশের বৃহৎ হাওর হাকালুকিতে মিঠাপানির মাছ বিলুপ্তির পথে।
উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা বলেন, জনপ্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় কথা বলে আসছেন। প্রশাসনের ভাষ্য, শহরের আশেপাশে খালি জায়গা না থাকায় ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহ বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকদের নিয়ে এক সভায় তাদের নদীতে বর্জ্য পদার্থ না ফেলার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন।
ইউএনও বাবলু সূত্রধর বলেন, শহরের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মানুষ জুড়ী নদীসহ যত্রতত্র ময়লা ফেলছে। শিগগিরই ডাম্পিং স্টেশনের স্থান নির্ধারণের চেষ্টায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট যা যা করনীয় করবেন তিনি এমনটাই আশ্বস্ত করেন।