ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির
মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র
ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন
মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও
ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা
স্ত্রীর মামলায় জামাতাসহ দুইজন আটক

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯৪ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: যশোর শহরের শংকরপুরে চলন্ত মোটরসাইকেলে পেছন থেকে এসে মাথায় গুলি করে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যার ঘটনায় পারিবারিক বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বকে সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটে খুনি ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৩ জানুয়ারি) যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে নিহতের জামাতা বাসিত আলী পরশ ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পূর্বশত্রুতার কারণে পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বিএনপি নেতা আসাবুল ইসলাম সাগর।
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে শংকরপুর ইসহাক সড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, মাথায় সরাসরি গুলিবিদ্ধ হওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের পাঁচটি দল অভিযান শুরু করে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিবারিক অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতেই বাসিত আলী পরশ (২৯) ও আসাবুল ইসলাম সাগর (৫০)কে হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার সকালে নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে
পরশ ও সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চার জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে থাকা দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, প্রায় ১০ বছর আগে পরশের সঙ্গে আলমগীরের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। কয়েক মাস আগে আলমগীরের মেয়ে সন্তানসহ বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরশ আলমগীরকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
নিহতের মেয়ে এলেরা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং জমিজমা তার নামে লিখে না দিলে বাবাকে হত্যার হুমকি দিতেন। বাবার হত্যাকারীদের “স্বামী হলেও” সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অভিযুক্ত পরশের বাবা ও নগর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলু বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে আলমগীর হোসেনের মেয়ের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। সংসারে সমস্যা ছিল, সালিশও হয়েছে। তবে যদি আইন প্রমাণ করে আমার ছেলে দোষী, তাহলে তার বিচার আইন অনুযায়ী হোক।’
অন্যদিকে, পুলিশ জানায়, এলাকাগত ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে আসাবুল ইসলাম সাগরের সঙ্গেও আলমগীরের দ্বন্দ্ব ছিল। গত ৫ আগস্টের পর আলমগীরের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে আলমগীর বাধা দেন। হামলার ঘটনায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ আরও বাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলমগীরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পোস্ট এবং আদালতে পাল্টা মামলার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে পুলিশ বলছে, পরশ ও সাগর কেউ সরাসরি গুলি চালাননি। ভাড়াটে খুনির মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। শুটার ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বাদ আসর শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আলমগীর হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কারাবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলা ও নগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, অর্থ লেনদেন ও ভাড়াটে খুনিদের পরিচয় উদ্ঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। দ্রুতই জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

















