ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
তাজা খবর
মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
জাতীয় গণিত কুইজে যশোরের নতুন ইতিহাস

মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / ১৯ বার পঠিত
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:   গণিতের জটিল সমাধানে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থী—মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুরাইয়া ইয়াসমিন এবং জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অরিত্র কান্তি হালদার।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার গণিত কুইজে তারা দেশের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে খুলনা বিভাগকে এনে দিয়েছে নতুন এক অর্জনের গল্প। মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াত হোসেন।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ—উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় মঞ্চে পৌঁছে সুরাইয়া ইয়াসমিন ও অরিত্র কান্তি হালদার নিজেদের মেধা ও আত্মবিশ্বাসের স্বাক্ষর রাখে। চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা যথাক্রমে বালিকা ও বালক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সুরাইয়া ইয়াসমিন মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা আবু সাঈদ দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা রুবিনা খাতুন তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
অরিত্র কান্তি হালদার জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা পলাশ কান্তি হালদার কেশবপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মা বিথিকা সরকার একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
তাদের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো মনিরামপুর উপজেলাজুড়ে আনন্দের ঢেউ লাগে। স্কুল, পরিবার, শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয়রা—সবাই যেন একসঙ্গে এই অর্জনকে উদযাপন করছে।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও যে সুযোগ পেলে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে, এই সাফল্য তার উজ্জ্বল প্রমাণ। এটি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুত্তালিব আলম বলেন, একই সঙ্গে দুই বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন সত্যিই গর্বের বিষয়। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের মূল শক্তি।
মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি.এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, “সুরাইয়ার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য বড় পাওয়া। শিক্ষার্থীদের গণিতভিত্তিক চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশে আমাদের প্রচেষ্টা আজ ফল দিয়েছে।”
সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, গণিত তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতাই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
অরিত্র কান্তি হালদার বলেন, “নিয়মিত পড়াশোনা ও শিক্ষকদের সহায়তা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না।”
সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা জানান, সুরাইয়া ইয়াসমিন তার পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত, পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকেও তাদের মধ্যে আন্তরিকতার সম্পর্ক রয়েছে। তার এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।
স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই দুই শিক্ষার্থীর সাফল্যে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। মনিরামপুর গণিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুস সবুর বলেন, এই অর্জন শুধু যশোর নয়, পুরো দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

জাতীয় গণিত কুইজে যশোরের নতুন ইতিহাস

মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:   গণিতের জটিল সমাধানে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থী—মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুরাইয়া ইয়াসমিন এবং জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অরিত্র কান্তি হালদার।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার গণিত কুইজে তারা দেশের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে খুলনা বিভাগকে এনে দিয়েছে নতুন এক অর্জনের গল্প। মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াত হোসেন।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ—উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় মঞ্চে পৌঁছে সুরাইয়া ইয়াসমিন ও অরিত্র কান্তি হালদার নিজেদের মেধা ও আত্মবিশ্বাসের স্বাক্ষর রাখে। চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা যথাক্রমে বালিকা ও বালক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সুরাইয়া ইয়াসমিন মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা আবু সাঈদ দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা রুবিনা খাতুন তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
অরিত্র কান্তি হালদার জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা পলাশ কান্তি হালদার কেশবপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মা বিথিকা সরকার একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
তাদের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো মনিরামপুর উপজেলাজুড়ে আনন্দের ঢেউ লাগে। স্কুল, পরিবার, শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয়রা—সবাই যেন একসঙ্গে এই অর্জনকে উদযাপন করছে।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও যে সুযোগ পেলে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে, এই সাফল্য তার উজ্জ্বল প্রমাণ। এটি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুত্তালিব আলম বলেন, একই সঙ্গে দুই বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন সত্যিই গর্বের বিষয়। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের মূল শক্তি।
মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি.এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, “সুরাইয়ার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য বড় পাওয়া। শিক্ষার্থীদের গণিতভিত্তিক চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশে আমাদের প্রচেষ্টা আজ ফল দিয়েছে।”
সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, গণিত তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতাই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
অরিত্র কান্তি হালদার বলেন, “নিয়মিত পড়াশোনা ও শিক্ষকদের সহায়তা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না।”
সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা জানান, সুরাইয়া ইয়াসমিন তার পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত, পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকেও তাদের মধ্যে আন্তরিকতার সম্পর্ক রয়েছে। তার এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।
স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই দুই শিক্ষার্থীর সাফল্যে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। মনিরামপুর গণিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুস সবুর বলেন, এই অর্জন শুধু যশোর নয়, পুরো দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।