যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে মেয়র নির্বাচিত হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা ও ছেলে

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / ২ বার পঠিত

যুক্তরাজ্যে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের হরিয়ানা থেকে আসা এক মা ও তার ছেলে। দেশটির স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা দুজনেই মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
রোববার (২৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
২০১৩ সালে হরিয়ানার রোহতক থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায় এই পরিবার। সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সি তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারটিতে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। একই সঙ্গে তুষার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
তুষার এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর তার মা পারভীন রানী হার্টসমেয়ার বরো কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।
তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া রোববার টেলিফোনে পিটিআইকে জানান, গত ১৩ মে তুষার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০ মে তার স্ত্রী পারভীন রানী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পান।
ব্যবসায়ী দাহিয়া বলেন, ২০১৩ সালে যখন আমি, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে আসি, তখন আমাদের মনে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। তুষারের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। আজ একই সময়ে এক পরিবারের মা ও ছেলের মেয়র হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
দহিয়া আরও জানান, তুষার ও তার মা সবসময়ই সমাজসেবামূলক কাজ পছন্দ করতেন। লন্ডনে কলেজে পড়ার সময় মাত্র ২০ বছর বয়সেই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তুষার। এত বড় অর্জনের পরও এই পরিবার হরিয়ানায় তাদের শিকড় ভুলে যায়নি। রোহতকে এখনও তাদের বাড়ি রয়েছে এবং পরিবারের কিছু সদস্য সেখানে থাকেন। তারা প্রতি বছরই দেশে আসেন।
তুষার বিশ্বাস করেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া বা সমাজসেবা করার ক্ষেত্রে বয়স কখনোই কোনো বাধা হতে পারে না। তরুণদের প্রতি তার বার্তা—কোনো নির্দিষ্ট বয়সের জন্য অপেক্ষা না করেই মানুষের সেবায় এগিয়ে আসা উচিত। সেই সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করা জরুরি।
লেবার পার্টির এই তরুণ কাউন্সিলর ২০২৩ সালে এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।
সুনীল দহিয়া আরও জানান, যুক্তরাজ্যে জন্ম ও বেড়ে ওঠা শিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হিন্দি ভাষা শেখাতেন তুষার ও তার মা। তুষার ‘হিন্দি শিক্ষা পরিষদ’ নামের একটি দাতব্য সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত। মা ও ছেলে দুজনেই ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে লড়ে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। মেয়র হওয়ার আগে পারভীন রানী হার্টসমেয়ারের পার্ক, বিনোদন ও সংস্কৃতি বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য এবং চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিষয়ক গ্লোবাল এনভয় হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তুষার লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি কাউন্সিলর হন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পড়াশোনা শুরু করবেন। দহিয়ার ছোট ছেলেও কিংস কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং সেখানকার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ট্রাস্টি হিসেবে যুক্ত আছেন। অন্যদিকে, মা পারভীন রানী সব শ্রেণি ও প্রজন্মের মানুষকে একত্রিত করতে এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন।



















